Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুলাই ২৩, ২০২৬

নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সংসদে তুমুল অচলাবস্থা, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে মুখোমুখি বিরোধী ও এনডিএ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সংসদে তুমুল অচলাবস্থা, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে মুখোমুখি বিরোধী ও এনডিএ

নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবারও উত্তাল থাকল দিল্লির সংসদ চত্বর। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদের মকর দ্বারের সামনে সকাল থেকেই বিক্ষোভে সামিল হন বিরোধী সাংসদরা। পাল্টা বিক্ষোভে নামে এনডিএ-র সাংসদরাও। দুই পক্ষের স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর, এমনকি একসময় মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছে যায় শাসক ও বিরোধী শিবির।

বিরোধীদের বিক্ষোভে অংশ নেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ বিরোধী জোটের একাধিক সাংসদ। গোটা বাদল অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড হওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষোভ চলাকালীন তিনি এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া তৃণমূলের ২০ জন সাংসদকে কটাক্ষ করে স্লোগান দেন, “বিজেপির সঙ্গে সংসদে ২০ গদ্দার রয়েছে।”

বিরোধী শিবিরের তরফে স্লোগান ওঠে, “জীবন বাঁচাও, নিট বন্ধ করো” এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। অন্যদিকে এনডিএ সাংসদদের স্লোগান ছিল, “যুবসমাজকে ঘাঁটিও না, রাহুল গান্ধী জেগে ওঠো।” দুই পক্ষের স্লোগানযুদ্ধ ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস বিজেপি নেতা অরুণ সিংহের হাত থেকে একটি পোস্টার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়লে সংসদের নিরাপত্তারক্ষীরা দুই পক্ষের মাঝে মানববন্ধন তৈরি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি হওয়ার পরও দুই শিবিরের স্লোগান চলতেই থাকে।

বিজেপির অভিযোগ, সরকার নিট প্রশ্নফাঁস-সহ সমস্ত বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনায় রাজি থাকলেও কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনায় অংশ না নিয়ে সংসদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। পাল্টা কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ইস্যুতে সংসদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার সাহস দেখাচ্ছেন না।

এদিকে নিট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থার প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের ধারাবাহিক আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরাও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানান, “প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। তাঁদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র তরফে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট পুনরায় শেয়ার করে লেখা হয়, “শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা জবাবে রাহুল গান্ধী লেখেন, “দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি আপনিই করেছেন। আপনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে দখল ও ধ্বংস হতে দিয়েছেন। এর জন্য দায়ীদের রক্ষা করেছেন এবং প্রশ্রয় দিয়েছেন।”

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সংসদে আলোচনার বিষয়ে কেন্দ্র ইতিবাচক অবস্থান নিলেও বিরোধীরা নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে। বুধবার রাতেই কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিরোধীরা চাইলে নিট, প্রশ্নফাঁস-সহ সব বিষয়েই সংসদে আলোচনা হতে পারে। আলোচনার সময়সীমা ও দিন নির্ধারণেও বিরোধীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং সরকার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত।
তবে বিরোধী শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, আলোচনার পূর্বশর্ত একটাই—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তাঁর ইস্তফা ছাড়া কোনও আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়। এই অবস্থানের জেরেই সংসদের অচলাবস্থা কাটেনি।

বৃহস্পতিবার সকালেও একই দাবিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী নেতারা সংসদের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখান। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পাশাপাশি আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন তাঁরা।

অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ এবং ছাত্র-যুবদের নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে পাল্টা বিক্ষোভে নামে শাসক শিবিরের সাংসদরা। ফলে সংসদের মকর দ্বারের সামনে কার্যত মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অধিবেশন শুরু হওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিরোধী সাংসদরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে ওয়েলে নেমে পড়েন। স্পিকার ওম বিড়লা আশ্বাস দেন যে সরকার এই বিষয় নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। কিন্তু সেই আশ্বাসে বিরোধীদের অবস্থান বদলায়নি। স্লোগান ও হট্টগোল চলতে থাকায় শেষ পর্যন্ত অধিবেশন আবারও মুলতুবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন স্পিকার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!