Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ২৩, ২০২৬

যন্তর মন্তরে জমায়েত বাড়ছে, আজও বন্ধ দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন ! শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে অনড় ককরোচ জনতা পার্টি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যন্তর মন্তরে জমায়েত বাড়ছে, আজও বন্ধ দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন ! শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে অনড় ককরোচ জনতা পার্টি

দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। বুধবার রাতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার সকালেও পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও ধর্নাস্থলে মানুষের ভিড় ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাজধানীর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলির মধ্যে রয়েছে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট-সহ একাধিক ব্যস্ত স্টেশন।
বৃহস্পতিবার সকালে যন্তর মন্তরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রধান অভিজিৎ দীপক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, “আজ আমাদের আন্দোলনের ৩৪তম দিন এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশনের ২৬তম দিন। আমাদের প্রতিবাদ যেমন চলছিল, তেমনই চলবে। ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা না দিলে আমরা এই আন্দোলন প্রত্যাহার করব না।”
তবে শিক্ষাবিদ ও সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুকের প্রতি অনশন প্রত্যাহারের আবেদনও জানান অভিজিৎ। তাঁর কথায়, “আপনি অনশন তুলে নিন। আমরা আপনার জীবনের ঝুঁকি চাই না। দেশের জন্য আপনার বেঁচে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
আন্দোলনকে ভেস্তে দিতে বিজেপি বাইরের লোকজন ঢুকিয়ে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করেন সিজেপি প্রধান। তাঁর দাবি, “আমরা এক মাস ধরে এখানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছি। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এখন বিজেপি বাইরের লোক এনে পাথর ছোড়াচ্ছে। এমনকি পুলিশ গাড়িতে করে পাথর এনে দিচ্ছে বলেও আমাদের অভিযোগ। এরপর সেই ঘটনার দায় সিজেপি-র ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে।”
বুধবার সন্ধ্যার পর যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। ইন্ডিয়া গেট এলাকাতেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও একাধিকবার পাথর নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার ফলে পরিস্থিতি দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যন্তর মন্তর এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পাথর ছোড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের লাঠি কেড়ে নিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালায়। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিজেপি-র ডাকা ‘সংসদ অভিযান’ ঘিরে সোমবার থেকেই দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়ায়। ছাত্র-যুবদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোক কল্যাণ মার্গের সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা-নেত্রী। আটক করার সময় রাহুল গান্ধীকে টানাহেঁচড়ার ঘটনায় তাঁর নাক থেকে রক্তপাতের ঘটনাও সামনে আসে।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী জানান, বিরোধীদের তিনটি দাবি থেকে তাঁরা সরে আসবেন না। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— নিট-কাণ্ডের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা জানিয়েছেন, সরকার সংসদে এই বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে তাঁর বক্তব্য, “সংসদে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আন্দোলন করা গ্রহণযোগ্য নয়।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!