Advertisement
  • দে । শ
  • আগস্ট ৬, ২০২৬

জমি-দুর্নীতি মামলায় আপাতত স্বস্তিতে অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ শীর্ষ আদালতের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জমি-দুর্নীতি মামলায় আপাতত স্বস্তিতে অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ শীর্ষ আদালতের

জমি-দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হতে পারেন— এ আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টে আবেদনে স্বস্তি না মিললেও শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির কথিত সরকারি জমি-দুর্নীতি মামলায় আপাতত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তবে একই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতারও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালত স্পষ্ট করেছে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বলবৎ থাকবে। আগামী সপ্তাহেই মামলাটি ফের শুনানির জন্য উঠতে পারে বলে আদালত সূত্রের খবর।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, তদন্তের স্বার্থে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তের জন্য ডাকা হলে তাঁকে হাজির থাকতে হবে এবং তদন্তে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতে হবে। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের অর্থ তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে থাকা নয়। এ দিন সুমিত রায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তাঁর বক্তব্য, যে অভিযোগের ভিত্তিতে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার ঘটনাকাল ২০২১ সাল। অথচ সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের জুন মাসে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আদালতে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের পুরনো অভিযোগকে সামনে এনে রাজনৈতিক স্বার্থে নতুন করে ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে। তাঁর আরও বক্তব্য, তদন্তে সহযোগিতা করতে সুমিত প্রস্তুত এবং আদালতের যে কোনো শর্ত মেনে চলতেও রাজি।

অন্যদিকে, সুমিতকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়ার বিরোধিতা করেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, মামলার সমস্ত নথি এখনো তাঁর হাতে এসে পৌঁছায়নি। নথিপত্র খতিয়ে দেখে বিস্তারিত বক্তব্য পেশ করার জন্য তিনি সময় চান। তাঁর বক্তব্য, মামলার কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পরই তিনি আদালতের সামনে তদন্তকারী সংস্থার অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন। সে কারণেই দ্রুত পরবর্তী শুনানির আবেদনও জানান তিনি। দুই পক্ষের সওয়াল শোনার পরই আপাতত সুমিত রায়কে গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম বিচারপতিরা। একই সঙ্গে তদন্ত অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়ে তাঁরা জানিয়ে দেন, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদে কোনো বাধা থাকবে না।

প্রসংগত, এ মামলার সূত্রপাত পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি দখল ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, জাল নথি তৈরি করে সরকারি জমি বেআইনিভাবে বিক্রি করা হতো। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এ চক্রের কার্যকলাপের সঙ্গে সুমিত রায়ের যোগ ছিল এবং তাঁর সম্মতিতেই একাধিক জমি লেনদেন হয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক ঠিকানায় খোঁজ করেও সুমিতের সন্ধান মেলেনি। সই পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

পরোয়ানা জারির পর প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিত। জমি-দুর্নীতি মামলায় আগাম রক্ষাকবচের আবেদন জানানো হলেও গত সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সে আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে ওই মামলায় তাঁর গ্রেফতারিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না।তবে একই সময়ে চাকরি-দুর্নীতির পৃথক একটি মামলায় শর্তসাপেক্ষে সুমিত রায়কে আগাম জামিন দেয় হাই কোর্ট। আদালত নির্দেশ দেয়, দশ দিনের মধ্যে তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজিরা দিতে হবে, ভবিষ্যতে তদন্তের প্রয়োজন হলে তাতেও সহযোগিতা করতে হবে। সুমিতের আশঙ্কা ছিল, চাকরি-দুর্নীতি মামলায় তদন্তকারীদের সামনে হাজিরা দিতে গেলেই জমি-দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সে আশঙ্কাকেই সামনে রেখে উচ্চ আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

বৃহস্পতিবার সেই আবেদনের শুনানিতেই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেয় শীর্ষ আদালত। তবে আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট, এ সুরক্ষা সাময়িক। তদন্তে সহযোগিতা, জিজ্ঞাসাবাদে হাজিরা এবং আদালতের নির্দেশ মেনে চলা— এই তিনটি শর্তই আপাতত সুমিত রায়ের জন্য বাধ্যতামূলক। আগামী সপ্তাহের শুনানিতে মামলার পরবর্তী আইনি লড়াই কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!