Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • আগস্ট ২০, ২০২৬

চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫ ! লাইসেন্স ছিল কি না, উঠছে প্রশ্ন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫ ! লাইসেন্স ছিল কি না, উঠছে প্রশ্ন

চম্পাহাটির পিয়ালিতে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন । বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকাই বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা । শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে গিয়ে দেখেন, দাউদাউ করে জ্বলছে কারখানাটি। চারপাশ ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায় ।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারুইপুর থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী । যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ । বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভিতরে সম্ভবত পাঁচজন শ্রমিক ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে । তাঁদের প্রত্যেকেই দগ্ধ হয়েছেন । তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পিয়ালি গ্রাম ও হালাল বাজি রাজারের মাঝামাঝি একটি জলাজমির পাশে তৈরি করা হয়েছিল ওই বাজি কারখানাটি । কীভাবে সেখানে বাজি তৈরির কাজ চলছিল, কারখানাটির বৈধ লাইসেন্স ছিল কি না এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন আদৌ মানা হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ।

বিস্ফোরণের পর কারখানার মালিকের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ । তিনি কে, বিস্ফোরণের সময় কারখানায় উপস্থিত ছিলেন কি না এবং কারখানাটি কীভাবে চলছিল — সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।

চম্পাহাটির গ্রামগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই বাজি তৈরির কাজ চলে আসছে । তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বহু বাজি কারখানাতেই নিয়ম-নিরাপত্তার তোয়াক্কা করা হয় না । এর আগেও বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে একাধিক মানুষের মৃত্যু এবং আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে । প্রতিবারই পুলিশি তদন্ত, গ্রেফতার এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের পরও কিছুদিনের মধ্যে ফের নতুন করে কারখানা গজিয়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে ।

এবারের বিস্ফোরণের পরও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ । তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের মদত ছাড়া এ ধরনের বেআইনি কারখানা দিনের পর দিন চালানো সম্ভব নয় । কারখানার মালিক থেকে শুরু করে এর পিছনে থাকা প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ করার দাবি উঠেছে ।

বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ কী, কারখানাটির বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল কি না এবং নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল কি না — তদন্ত শেষ হলেই সেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে । তবে ফের একবার চম্পাহাটির বেআইনি বাজি কারখানাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!