Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

বাল্যবিবাহ রুখতে বাড়ি বাড়ি অভিযান, বন্ধ হতে পারে সরকারি ভাতা — কড়া পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাল্যবিবাহ রুখতে বাড়ি বাড়ি অভিযান, বন্ধ হতে পারে সরকারি ভাতা — কড়া পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ রুখতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারি থেকে শুরু করে বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা— একাধিক পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহে জড়িত পরিবারগুলির সরকারি সুবিধা ও ভাতা বন্ধ করার পাশাপাশি, বিয়ের সঙ্গে যুক্ত পুরোহিত ও কাজিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বাল্যবিবাহ রোধে এবার বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে এলাকায় এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। কোনো পরিবার নাবালক-নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শুধু বিয়ে দেওয়া পরিবারই নয়, বাল্যবিবাহের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাল্যবিবাহ হয়ে যাওয়ার পরও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে যাঁরা নাবালিকাকে বিয়ে করেছেন, সেইসব স্বামীদের শোকজ করার প্রক্রিয়াও শুরু করার কথা জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি ও আইনি বিধান অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ভূমিকা থাকা পুরোহিত ও কাজিদের বিরুদ্ধেও মামলা ও জেলের মতো কঠোর শাস্তির সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে।

বাল্যবিবাহে যুক্ত পরিবারগুলির ক্ষেত্রে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েও কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহের মতো অপরাধে যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সরকারি ভাতা বা সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সামাজিক— দুই স্তরেই চাপ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভারতের ইতিহাসে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রসঙ্গে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ব্রিটিশ আমলে নারীশিক্ষা ও সমাজসংস্কারের পাশাপাশি বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তীকালে স্বাধীন ভারতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় সরকার আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে।
কিন্তু আইন থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহ এখনও বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে রয়ে গিয়েছে। রাজ্যের একাধিক জেলায়, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বাল্যবিবাহের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের ছবি উঠে এসেছে।

এ পরিস্থিতিতে আগের সরকারের আমলে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহ ব্যাপক আকার নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এ ধরনের রাজনৈতিক অভিযোগের ক্ষেত্রে সরকারি ও স্বাধীন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। এবার সে পরিস্থিতি বদলাতেই প্রশাসনিক স্তরে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য একটাই— নাবালক-নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করা এবং বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা।

নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাল্যবিবাহ রুখতে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি নজরদারি, বাল্যবিবাহে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সরকারি সুবিধা বন্ধ এবং প্রয়োজনে পুরোহিত-কাজিদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ— সব মিলিয়ে বাল্যবিবাহ রোধে এবার আরও কঠোর পথে হাঁটার বার্তা দেওয়া হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!