- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বদলি নিয়ে নতুন বিল ! স্বাধিকারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ
কলকাতা ও জেলার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তে এ বার বড়সড় বদলের সম্ভাবনা। রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের বদলির পথ খুলতে চলেছে সরকার। ‘অভিজ্ঞ’ শিক্ষকদের নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠিয়ে সেখানকার পরিকাঠামো ও পঠনপাঠনের মান উন্নত করার যুক্তি সামনে রাখা হলেও প্রস্তাবিত আইন ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার নিয়ে। শিক্ষাবিদদের একাংশের আশঙ্কা, এ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে সরকার চাইলে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা, গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষককেও তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্যত্র পাঠাতে পারে।
বুধবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে ‘কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল’ পাশ হওয়ার কথা। তার আগে প্রশ্নের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, গবেষণা পরিকাঠামো ও শিক্ষক-গবেষকের ভবিষ্যৎ। দলমত নির্বিশেষে শিক্ষকদের একাংশ এই প্রস্তাবের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি কলেজের শিক্ষকদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও যদি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর রাস্তা খুলে দেওয়া হয়, তা হলে শুধু শিক্ষকদের চাকরির শর্তই বদলাবে না, প্রশ্নের মুখে পড়বে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা গবেষণা পরিকাঠামোও। যাদবপুরের মতো প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্বল করার আশঙ্কাও শিক্ষক মহলের একাংশের।
তবে সরকারের বক্তব্য, রাজ্যের নতুন ও অপেক্ষাকৃত নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে। সে প্রয়োজন মেটাতেই প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পরিকাঠামো গড়ে তোলা, নিয়মিত পঠনপাঠন চালু করা এবং সেগুলিকে উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতেই মানবসম্পদের এই আদানপ্রদান প্রয়োজন বলে সরকারের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও দাবি করেছেন, বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই বদলির আইনি সংস্কারের পথে হাঁটা হচ্ছে।
কিন্তু এ যুক্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক ও প্রাক্তন উপাচার্যদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় আর সরকারি কলেজ এক প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে পড়ে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, পরিষেবার শর্ত, প্রশাসনিক কাঠামো এবং গবেষণার পরিকাঠামো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইন ও বিধির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত। ফলে এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলির ব্যবস্থা চালু করতে গেলে শুধু একটি সংশোধনী আইন করলেই প্রশ্নের মীমাংসা হবে না। বদলে যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামোও।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘জুটা’-র বক্তব্য, একজন শিক্ষকের সঙ্গে শুধু তাঁর শ্রেণিকক্ষের দায়িত্বই যুক্ত থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো, গবেষণার পরিবেশ, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি আর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের দীর্ঘদিনের কাজের ভিত্তিতেই তাঁর হাতে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প আসে। কোনো অধ্যাপক বছরের পর বছর ধরে গবেষণাগার তৈরি করেছেন, গবেষক দল গড়েছেন, পরিকাঠামো দাঁড় করিয়েছেন কিংবা বড়ো মাপের গবেষণা অনুদান পেয়েছেন— তাঁকে আচমকা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হলে সেই গোটা গবেষণা ব্যবস্থার কী হবে? বিশেষ করে তাঁর অধীনে কর্মরত গবেষক, গবেষণারত পড়ুয়া ও চলতি প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে, সে প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো নেই বলেই শিক্ষক সংগঠনের দাবি।
শিক্ষকদের আরও বক্তব্য, গবেষণা কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত কাজ নয়। একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো, গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, সহকর্মী, গবেষক এবং দীর্ঘদিনের অ্যাকাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে একজন অধ্যাপকের গবেষণা অনেক সময় গভীর ভাবে জড়িয়ে থাকে। ফলে একজন শিক্ষককে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করা হলে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মস্থল বদলালেই বিষয়টি শেষ হয় না। তাঁর সঙ্গে যুক্ত গবেষক, গবেষণা প্রকল্প, ল্যাবরেটরি, গবেষণা অনুদান এবং একাধিক চলতি কাজও তার প্রভাবের মধ্যে পড়ে। এই জায়গাটিই নতুন ব্যবস্থায় কী ভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা।
প্রাক্তন এক উপাচার্যের বক্তব্য, মুখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার কথা বলা হলেও প্রস্তাবিত আইন বাস্তবে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সরিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকেই দুর্বল করতে পারে। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যের বিজেপি সরকার মুখে যাদবপুরকে উৎকর্ষ কেন্দ্র বলে গড়ার কথা বললেও নতুন আইন আদতে পোড়খাওয়া শিক্ষকদের সরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্বল করছে। ওদের কথা, কাজ স্ববিরোধী।’এ আশঙ্কার পিছনে রাজনৈতিক কারণও দেখছেন শিক্ষক মহলের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে শিক্ষকরা সরব হয়েছিলেন, ভবিষ্যতে তাঁদের উপর প্রশাসনিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসাবেও বদলির ব্যবস্থা ব্যবহার করা হতে পারে।
সম্প্রতি এবিভিপি-র নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ২০ আগস্ট কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দু-বার ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সে ঘটনার প্রতিবাদে যাদবপুরের শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশও সংহতি জানিয়েছিলেন। এ আবহে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়া নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ছে বলে শিক্ষক মহলের একাংশের বক্তব্য। শিক্ষক সংগঠনগুলির প্রশ্ন, কোনও শিক্ষক প্রশাসন বা সরকারের কোনও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলে তাঁকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না তো? সরাসরি এমন কোনো নির্দেশের কথা না থাকলেও প্রশাসনিক ক্ষমতার এমন পরিসর তৈরি হলে তার অপব্যবহারের সম্ভাবনা থেকেই যায় বলে তাঁদের আশঙ্কা।
এ প্রসঙ্গে বাম জমানার নজিরও টেনে আনছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, অতীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী অধ্যাপকদের একাংশকে জেলার কলেজে বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। অর্থাৎ রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিরোধিতার ক্ষেত্রে বদলিকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলি— এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা এবং নজিরবিহীন বলেই তাঁদের দাবি। এর ফলে যাদবপুরের মতো দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক ও গবেষণার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিই তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিক্ষকদের একাংশ আরও মনে করাচ্ছেন, ২০১৫ সালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলির ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি কলেজের শিক্ষকদের মতো বদলি করা যায় না— এই আইনি ও প্রশাসনিক আপত্তি ওঠার পর সে উদ্যোগ আর এগোয়নি। ফলে এত দিন যে ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কার্যত অচল ছিল, এখন সংশোধনী এনে তাকে আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেই তাঁদের বক্তব্য।
প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পৃথক আইন নিয়েও। শিক্ষক মহলের বক্তব্য, রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন, বিধি ও পরিষেবার শর্ত রয়েছে। এমনকি ভবিষ্যনিধি তহবিলের ব্যবস্থাও সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নয়। এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালে তাঁর বেতন কাঠামো, পরিষেবার শর্ত, অবসরকালীন সুবিধা, ভবিষ্যনিধি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় কী ভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন। শুধু বদলির আইনি অনুমতি দিলেই এই সমস্যাগুলির সমাধান হবে না বলে তাঁদের দাবি। এসব প্রশ্নের পাশাপাশি গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনো অধ্যাপককে বদলি করা হলে তাঁর অধীনে থাকা গবেষকদের দায়িত্ব কে নেবেন? সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্পের অর্থ কোথায় যাবে? যে গবেষণাগার বা পরিকাঠামো তাঁর নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে, তার ব্যবস্থাপনাই বা কী ভাবে চলবে? কোনও গবেষণা প্রকল্পের মাঝপথে অধ্যাপককে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হলে প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কী ভাবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর না মিললে নতুন ব্যবস্থা গবেষণার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে বলে শিক্ষক সংগঠনের মত।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের শূন্যপদের প্রসঙ্গও সামনে আনছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। তাঁদের বক্তব্য, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেক শিক্ষক পদ, ৭০ শতাংশ শিক্ষাকর্মীর পদ শূন্য। উত্তরবঙ্গে রেজিস্ট্রার নেই। কাজের কাজ না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ চলছে। অর্থাৎ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক পাঠানোর আগে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যে বিপুল সংখ্যক পদ খালি রয়েছে, সেগুলি পূরণ করা হচ্ছে না কেন— সে প্রশ্নও উঠছে। শিক্ষক মহলের একাংশের বক্তব্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক পাঠানোর প্রয়োজন থাকলে প্রথমে স্থায়ী নিয়োগের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে। বদলির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সরিয়ে নেওয়া কেন প্রয়োজন, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
যাদবপুরের শিক্ষক সংগঠন আবুটাও এই নতুন পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। সংগঠনের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চরিত্র ও একাডেমিক পরিবেশকে উপেক্ষা করে কোনও কেন্দ্রীয় বদলি ব্যবস্থা চালু করা হলে তা উচ্চশিক্ষার মানের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। যাদবপুরের মতো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক এবং গবেষণা পরিকাঠামোর সঙ্গে যে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরের একাডেমিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, বদলির অনিশ্চয়তা সেই ব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল নিয়ে তাই শুধু শিক্ষক বদলির প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে কি না, এ প্রশ্নই নয়— বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের সীমা কোথায় থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিজ্ঞ শিক্ষককে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সেখানে পঠনপাঠন ও গবেষণার মান উন্নত করার সরকারি যুক্তি এক দিকে, অন্য দিকে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেই শিক্ষককে সরিয়ে নেওয়ার ফলে সেখানকার গবেষণা ও একাডেমিক পরিকাঠামো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা। দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কী ভাবে রাখা হবে, তা নিয়েই এখন সরব শিক্ষামহল।
বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বিলটি পাশ হওয়ার আগে তাই শিক্ষক মহলের দাবি, শুধু প্রশাসনিক প্রয়োজনের যুক্তিতে এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা ঠিক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন, উপাচার্য, অধ্যাপক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেই আইনি কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ, শিক্ষকদের কাছে প্রশ্নটি নিছক বদলির নয়—একজন শিক্ষকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গবেষণা, গবেষক, প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারের ভবিষ্যৎ নিয়েও।
❤ Support Us







