Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ২, ২০২৬

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ ! দিল্লি-মুম্বাইয়ে কড়া পুলিশি নজরদারি, যন্তরমন্তরে জমায়েত নিষিদ্ধ, আটক নেতারা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ ! দিল্লি-মুম্বাইয়ে কড়া পুলিশি নজরদারি, যন্তরমন্তরে জমায়েত নিষিদ্ধ, আটক নেতারা

গান্ধী জয়ন্তীর সকাল। রাজধানীর সাধারণ ছুটির দিনের যে চেনা ছবি — তুলনায় ফাঁকা রাস্তা, কম যানবাহন, সরকারি দফতরের বন্ধ দরজা, শুক্রবার তার সঙ্গে যেন মিলল না এদিনের দিল্লির ছবি। যন্তরমন্তর, সংসদ মার্গ, টলস্টয় মার্গ, পটেল চক, কনড প্লেস, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশে ছয়লাভ। রাস্তার একাংশে ব্যারিকেড। কোথাও বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কোথাও জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চলছে। যন্তরমন্তরের দিকে যাওয়ার পথ প্রায় দুর্গের মতো ঘিরে রেখেছে পুলিশ। আর শহরের ভূগর্ভস্থ পরিবহণ ব্যবস্থাতেও তার ছাপ, একসঙ্গে বন্ধ ১১টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ। ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে যন্ত্ররমন্তর চত্বরে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ‘এসআইআর’-এ অনিয়মের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের  সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার থেকে দেশ জুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ। আন্দোলনের ডাক দিয়েছে একাধিক বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সংগঠন। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক — দুই শহরেই কর্মসূচিকে ঘিরে আগেভাগেই কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে পুলিশ। কোথাও ১৬৩ ধারা জারি করে জমায়েত নিষিদ্ধ, কোথাও ব্যারিকেডে আটকে দেওয়া হয়েছে বিক্ষোভের পথ। দিল্লিতে আবার একসঙ্গে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি মেট্রো। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ভোটার তালিকা এবং ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া ঘিরে। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ‘এসআইআর’-এর মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।

এ পরিস্থিতিতেই শুক্রবার থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘সিজেপি’। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের ঘোষণা করেছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক থেকে কর্মসূচি শুরু করে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্য শহরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ‘সিজেপি’-র। অন্যদিকে, দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা), রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। শুক্রবার সকাল ১১টায় সেই কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। পুলিশের অনুমতি না থাকলেও কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই যন্তরমন্তর ও আশপাশের এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে। পুলিশও আগেভাগে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে।

যন্তরমন্তরের বিক্ষোভ কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল। শুক্রবার সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও মোড়ে দেখা যায় অতিরিক্ত পুলিশ। দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। বসানো হয় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড। পুলিশের আশঙ্কা ছিল, প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিতে পারেন। দিল্লি পুলিশের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, যন্তর মন্তরে কোনো ধরনের বিক্ষোভ বা মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে ওই চত্বরে বিএনএস-এর ১৬৩ ধারা জারি থাকায় অনুমতি ছাড়া জমায়েত, বিক্ষোভ, মিছিল, ধর্না, স্লোগান বা প্রকাশ্যে বক্তৃতা করা নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, লাঠি, কাঠি, ইট-পাথর এবং অনুরূপ সামগ্রী বহনেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শচীন শর্মা জানিয়েছেন, যন্তরমন্তরে কোনো ধরনের বিক্ষোভ বা মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ১৬৩ ধারার অধীনে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের টানাপড়েনের সম্ভাবনা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই দেখা গেল।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার  সকালেই যন্তরমন্তরে পৌঁছন আপের দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের কর্মী-সমর্থকেরা। পুলিশ তাঁদের বিক্ষোভস্থলে যেতে বাধা দেয়। জমায়েত সরানোর চেষ্টা করলে বচসা ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ভরদ্বাজকে আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গিয়ে পুলিশ ও আপ কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, পুলিশ ভরদ্বাজকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত মহিলা কর্মীদের সঙ্গেও পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়েছে বলে আপের তরফে অভিযোগ করা হয়। পুলিশ অবশ্য জানায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমায়েত হওয়ায় তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আটক হওয়ার আগে ভরদ্বাজ বলেন, পুলিশ লাঠি চালালেও বিক্ষোভকারীদের ভয় না পাওয়ার জন্য। তাঁর দাবি, অরবিন্দ কেজরীওয়ালের বাড়ির বাইরেও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তার পরেও প্রাক্তন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী যন্তরমন্তরে আসার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

তবে, বিক্ষোভের আঁচ শুধু রাজপথে নয়, পড়েছে দিল্লির মেট্রো পরিষেবাতেও। শুক্রবার ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তালিকায় রয়েছে জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মণ্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এবং নিউ দিল্লি। তবে কয়েকটি স্টেশনে আন্তঃসংযোগের সুবিধা চালু রাখা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা স্টেশনের ভিতর দিয়ে অন্য লাইনে যেতে পারলেও বাইরে বেরোনো বা স্টেশনে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। সকাল থেকেই এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে রাজধানীর যাতায়াতে। বিশেষত কেন্দ্রীয় দিল্লির দিকে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়।

মেট্রোর পাশাপাশি রাস্তার উপরেও কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। যন্তরমন্তর, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, অশোক রোড, টলস্টয় মার্গ এবং সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। কনড প্লেস থেকে প্যাটেল চক এবং প্যাটেল চক থেকে জিপিওমুখী যানবাহনকে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জন্তর মন্তর রোডেও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, এই এলাকাগুলি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে। ব্যারিকেড ও যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়ার কারণে সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে যাতায়াতের সময় বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল। বিক্ষোভের মধ্যে যন্তরমন্তর এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িক ভাবে ব্যাহত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, বিক্ষোভস্থলের প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধে মধ্যরাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার যুক্তিই সামনে রাখা হয়েছে।

দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাইয়েও শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ২ অক্টোবর শিবাজি পার্কে ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি হওয়ার কথা। তবে শিবাজি পার্কে কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানাপড়েন ছিল। একাধিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মুম্বই পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। আদালতের নির্দেশ, পুরসভার অনুমতির অভাব ও সম্ভাব্য যানজটের কথা উল্লেখ করে পুলিশের আপত্তির কথা সামনে এসেছে। অনুমতি না মিললে ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির পথে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন দীপকে। অর্থাৎ দিল্লির মতো মুম্বইয়েও প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খবর ছড়ায়, পুলিশ অভিজিৎ দীপককে আটক করেছে। পরে ‘সিজেপি’-র তরফে সেই খবর অস্বীকার করা হয়। দীপকে নিজেও সমাজমাধ্যমে নিজের ছবি প্রকাশ করে জানান, তিনি নিরাপদে রয়েছেন। ফলে তাঁকে আটক করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে আসে। এ পরিস্থিতিতে ‘ককরোচ’-দের কর্মসূচি আদৌ কোথায় ও কী ভাবে হবে, তা নিয়েও সকাল থেকেই জল্পনা চলতে থাকে। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁরা অনড়।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক দাবি সামনে রেখেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সংগঠনের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ‘সিজেপি’-র দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়াতেও আরও স্বচ্ছতা ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা। অভিজিৎ দীপকের ঘোষণা, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। মুম্বাই, দিল্লি থেকে শুরু করে গোয়া, বেঙ্গালুরু, কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ‘সিজেপি’।

‘সিজেপি’-র কর্মসূচির পাশাপাশি কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিও ‘এসআইআর’ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচিতে ২ থেকে ৮ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল ও বিক্ষোভের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল করার কর্মসূচিও রয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচন ব্যবস্থায় ভোটারের অধিকার এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাব দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। ‘এসআইআর’-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিষয় তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলি প্রত্যাখ্যান করেছে। ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের নিজস্ব ব্যাখ্যা রয়েছে। ফলে এক দিকে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অন্য দিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য — দুইয়ের সংঘাতেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।

এদিকে, দিল্লির যন্তরমন্তরের শুক্রবারের মূল কর্মসূচির সঙ্গে ‘আইসা’, মনোজ ঝা ও প্রশান্ত ভূষণের নাম থাকলেও বিক্ষোভে আরও একাধিক সংগঠনের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সিপিআই(এম)-এর ছাত্র-যুব সংগঠন ‘এসএফআই’ ও ‘ডিওয়াইএফআই’-ও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ঘোষণা করেছে। ‘আপ’ এবং ‘ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস’-এর কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতির সম্ভাবনাও ছিল। তবে এদিন, যন্তরমন্তরের কাছে পৃথক কর্মসূচি নেয় সিপিআই(এম), ‘এসএফআই’ ও ‘ডিওয়াইএফআই’। সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের দাবি করেন। ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারের দাবিও জানান তিনি। সেখান থেকেও বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যন্তরমন্তরের বাইরে পুলিশি ব্যারিকেড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদ করার জন্য পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন হওয়া উচিত কি না, সে প্রশ্নই আগে ভেবে দেখা দরকার। গান্ধী জয়ন্তীর দিনে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এ তো গান্ধীর দেশ। আজ গান্ধী জয়ন্তী।’ তিনি নিজেও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

গান্ধী জয়ন্তীর দিনেই এই আন্দোলনের সূচনা হওয়ায় রাজনৈতিক তাৎপর্যও বেড়েছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ভোটাধিকার। ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং অবাধে ভোট দেওয়ার অধিকার সেই ব্যবস্থার মৌলিক অংশ। তাঁদের অভিযোগ, ‘এসআইআর’-এর নামে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা দূর করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সে অভিযোগ থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। ‘সিজেপি’-র আন্দোলন এক দিকে এবং বিরোধী দলগুলির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি অন্য দিকে — দুটি আন্দোলন আলাদা সংগঠনের হলেও আপাতত একই প্রশ্নকে সামনে আনছে, ভোটার তালিকা কতটা স্বচ্ছ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কতটা জবাবদিহিমূলক। অন্যদিকে, রাজধানীর পুলিশি প্রস্তুতির পিছনে আগের কয়েকটি বডড়ো ছাত্র আন্দোলনের অভিজ্ঞতাও কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘নিট’-সহ বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে বিশাল জমায়েত এবং পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর এবার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!