- দে । শ
- অক্টোবর ২৭, ২০২৬
জনগণের কাছে ক্ষমা চাক ‘হাত’, অরুণাচল বিতর্কে উষ্মা রিজিজুর
অরুণাচল প্রদেশের একাংশ চিনের দখলে চলে গিয়েছে—কংগ্রেসের এমন অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছে ভারতীয় সেনা। সেনার বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এবার এই ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা অরুণাচল প্রদেশের সাংসদ কিরেণ রিজিজু। তাঁর দাবি, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বিকৃত ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে গোটা দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত কংগ্রেসের।
ঘটনার সূত্রপাত বিহার কংগ্রেসের মুখপাত্র ঋতু চৌধুরির একটি ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে। মঙ্গলবার ওই ভিডিও প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চিনা গাড়ি। তাঁর অভিযোগ, অরুণাচল প্রদেশের একটি এলাকা চিন দখল করে নিয়েছে। অন্য এক কংগ্রেস কর্মীর দাবি, ওই অঞ্চলে মোতায়েন ভারতীয় সেনার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, জওয়ানদের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছতেও চিন বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
তবে কংগ্রেসের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি অরুণাচল প্রদেশের নয়। সেটি ভারত-চিন সীমান্তের সিকিমের নাথু লা পাস সংলগ্ন একটি বাণিজ্যিক এলাকার দৃশ্য। সেখানে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনেই গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে ওই ভিডিওতে চিনা গাড়ির উপস্থিতিকে চিনের দখলদারির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা সঠিক নয় বলেই সেনার বক্তব্য।
এ ছাড়াও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া আরও একটি ভিডিও নিয়ে সতর্ক করেছে সেনা। তাদের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবরের একটি পুরনো ফুটেজ বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে। ওই ফুটেজে জম্মু-কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন এক সেনা আধিকারিক। কিন্তু সেই ভিডিওর বিষয়বস্তু বদলে দিয়ে নতুন করে ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কিরেণ রিজিজু। তাঁর বক্তব্য, এআই ব্যবহার করে বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের কাজ দেশের শত্রুদের স্বার্থের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রিজিজুর দাবি, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর জন্য কংগ্রেসের উচিত দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।
যদিও এই বিতর্ক নিয়ে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে সেনার বক্তব্য এবং রিজিজুর অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
❤ Support Us





