Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ১৪, ২০২৩

অমিত বিক্রমে ‘শাহি’ গর্জন— দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদ্ম-লড়াই থামবে না। ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানাবার কসরতে ব্যস্ত বাংলার নেত্রী

দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ, আগামী লোকসভা ভোটে অন্তত ৩৫ টি আসন আমাদের চাই-ই চাই।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অমিত বিক্রমে ‘শাহি’ গর্জন— দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদ্ম-লড়াই  থামবে না। ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানাবার কসরতে ব্যস্ত বাংলার নেত্রী

লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ৩৫ আসনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করলেন অমিত শাহ । ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও বছর খানেক দেরি। তার আগে সিউড়িতে দলীয় সভায় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিলেন বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা। সেই লক্ষ্যে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে  নিয়োগ দুর্নীতিকে তিনি হাতিয়ার করলেন।

শুক্রবার সিউড়িতে বেণীমাধব স্কুলের মাঠে সভায় যোগ দেন অমিত শাহ। নির্বাচনী সাফল্যের লক্ষ্যে প্রত্যাশামতোই তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অস্ত্রে শান দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তীব্র  সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী ও তার প্রশাসনের । বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপো যা পারেন করে নিন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে  লড়াই রুখবে না। পশ্চিমবঙ্গের  বেকার যুবকদের হতাশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন,  বাংলার কর্মপ্রার্থী যুবসমাজ জবাব চায়, আপনি চাকরিতে নিয়োগে এত দুর্নীতি করেছেন যে ইডিকে ২ ট্রাক ভরে টাকা নিয়ে যেতে হয়েছে। ২১ – ২১ কোটি টাকা । বিস্বময়ভরে তার প্রশ্ন, এত টাকা মন্ত্রীর বাড়ি থেকে পাওয়া যায়? তিনি অভিযোগ করেন তরুণ-তরুণীদের ন্যায্য চাকরি থেকে বঞ্চিত করে নিজের রাজ্য বানাতে চাইছে তৃণমূল। আর প্রধানমন্ত্রী কড়া পদক্ষেপ নিলে বলা হয়, অত্যাচার হয়েছে। নবান্নের উদ্দেশে তাঁর তির্যক প্রশ্ন, কারও ঘর থেকে ২১ কোটি টাকা পাওয়া গেলে তাঁকে কি জেলে পাঠানো উচিত নয়? তাঁর অভিযোগ গরীব মানুষকে নিয়ে তিনি বা তাঁর দল চিন্তিত নন। নিজের ভাইপোকে কীভাবে রাজ্য প্রশাসনের প্রধান বানানো যায় সেটাই তাঁর একমাত্র ভাবনা। বাংলায় দুর্নীতি দমনে বিজেপি যে একমাত্র বিকল্প সে কথা দলীয় কর্মীদের সামনে তিনি তুলে ধরেন ।

মুখ্যমন্ত্রী বার বার বকেয়া টাকা না পাওয়া নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। শুক্রবার দলীয় সভায় তার জবাব দিয়েছেন অমিত। মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকে রাজ্যের উন্নয়নের তার অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শাহ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, মোদিজি গত আড়াই বছর ধরে বাংলার মানুষকে মাসে ৫ কেজি করে চাল দিচ্ছেন। আপনি সেই বস্তার ওপর নিজের নামের স্টিকার লাগাচ্ছেন।

দলীয় কর্মীদের ভোটে জেতার রোডম্যাপও জানিয়ে দেন অমিত শাহ। তাঁর কথায়, লোকসভায় ৩৫ আসন পেলে ২০২৬ সালের আগেই তৃণমূলের ধূলিস্যাত হয়ে যাবে। এখানে বলা প্রয়োজন, মঞ্চ থেকে নো ভোট টু টিমসির শ্লোগান দেন শুভেন্দু অধিকারী । সমর্থকরাও তার সঙ্গে গলা মেলান।
রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট আসন্ন। দিনক্ষণ এখনও স্থির হয়নি। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে পর্যুদস্ত করবার কথা ভাবছে দল। অমিত শাহর কথায়, পঞ্চায়েত নির্বাচনের দায়িত্ব রাজ্যবিজেপির নেতার সামলে নেবেন। কিন্তু লোকসভায় যদি ৩৫ বা তার আসন জয়ী হওয়া যায় তাহলে ২০২৬ সালের বিধানসভা জয়ের লক্ষ্যে অনেকটা এগিয়ে থাকবে পদ্ম বাহিনী। বলা প্রয়োজন। ২০১৯ সালে বাংলায় ১৮ আসনে জয় পদ্ম ফুটেছিল। প্রায় ১২৬ আসনে সরাসরি তৃণমূলকে টপকে প্রথম সারিতে চলে এসেছিল দল। যদিও সে সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ২৪ এর লোকসভায় ৩৫ লোকসভা আসনে জয় অর্থাৎ ১৭৫ আসনে রাজ্যের শাসক দলের থেকে এগিয়ে থাকা। যা পরবর্তী বিধানসভায় তাঁদের নির্বাচনী সাফল্যলাভকে সুনিশ্চিত করতে পারে। তাই  বাংলা দখলের লক্ষ্যে ২০২৩ থেকে জল মেপে এগোতে চাইছে গেরুয়া শিবির। অস্ত্র, শাসক দলের বিরুদ্ধে ওঠা  বেনজির দুর্নীতির অভিযোগ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!