Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২৩, ২০২৫

আন্দামানে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, দু-দিন অবরুদ্ধ আকাশপথ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আন্দামানে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, দু-দিন অবরুদ্ধ আকাশপথ

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য ২৩ ও ২৪ মে আকাশপথ আংশিক সময়ের বন্ধ রাখছে ভারত। এই উচ্চ-স্তরের অস্ত্র পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল ও প্রযুক্তিগত শক্তি আরো বাড়াবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ফের বড়সড় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে চলেছে ভারত। সে কারণে শুক্র ও শনিবার সকালে ৩ ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই সময়কালে সম্ভাব্য একটি আন্তঃদ্বীপ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ বা নোটাম জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আগামী ২৩ ও ২৪ মে, ভারতীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত, আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলে কোনো বেসামরিক বিমান চলাচল করতে পারবে না। আকাশসীমা বন্ধ থাকবে ‘গ্রাউন্ড টু আনলিমিটেড’ স্তর পর্যন্ত। অর্থাৎ, আকাশের সর্বোচ্চ উচ্চতাতেও বিমান চলাচলের অনুমতি নেই।

নিরাপত্তার খাতিরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা দফতরের এক আধিকারিক। তাঁর কথায়,’আজ একটি উচ্চ-উচ্চতায় অস্ত্র পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল অনুরূপ একটি পরীক্ষা হবে। এগুলি আমাদের রুটিন সামরিক অনুশীলনের অংশ।’ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে আন্দামান ও নিকোবর অঞ্চলের গুরুত্ব ফের সামনে এল। ভারতের একমাত্র ত্রিসেনা কমান্ড হিসেবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত দৃষ্টিকোণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওই অঞ্চলে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্রাহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ‘স্যালভো মোড’-এ পরীক্ষা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলেও একটি এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল এখান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। সরকারের তরফে এখনও কী ধরনের, কত শক্তিশালী অস্ত্র পরীক্ষা হবে সে বিষয়ে কোনও তথ্য জানানো হয়নি। তবে প্রতিরক্ষা দফতরের একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে আপাত শান্তি থাকলেও, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর আওতায় দেশের নিরাপত্তা জোরদার রাখতে এই ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ চালু রাখা হয়েছে। ৭ মে শুরু হওয়া এই অভিযানে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক নিখুঁত আঘাত হানে ভারতীয় বাহিনী। জবাবে পাকিস্তান ৮ থেকে ১০ মে একাধিক হামলার চেষ্টা করলেও, ভারতের পাল্টা প্রতিরোধে তারা বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়ে।১০ মে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, ‘উভয় দেশই স্থল, জল ও আকাশপথে সমস্ত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে।’ কূটনৈতিক সমঝোতা চললেও, ভারত নিজের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলছে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে।

প্রতিরক্ষা দফতর সূত্রে আরো জানা যাচ্ছে, এই নোটামের আওতায় ৯টি আন্তর্জাতিক উড়ান রুট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো বিকল্প রুটও দেওয়া হয়নি। বিশাল এলাকাজুড়ে, সমস্ত উচ্চতায় আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, অত্যন্ত সংবেদনশীল কোনও অস্ত্র পরীক্ষা হতে চলেছে। পূর্ব অভিজ্ঞতা বলছে, এমন পরীক্ষাগুলো ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার অন্যতম প্রমাণ। আর তার কেন্দ্রে এখন আন্দামান ও নিকোবর।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!