- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
মধ্যপ্রদেশের পর এবার অন্ধ্রপ্রদেশেও দূষিত জল-আতঙ্ক ! শ্রীকাকুলামে মৃত ১, অসুস্থ ৭০
মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, রাজস্থান, হরিয়ানা; একের পর রাজ্য বিগত কয়েক মাসে জলদূষণের কবলে পড়েছে। প্রাণহানি, অসুস্থতা ছোবল মেরেছে বারবার। প্রশ্ন উঠেছে বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক গাফিলতি, প্রকল্প ও আশ্বাসবার্তার সততা নিয়ে। পরিস্রুত পানীয় জলের দাবি জোরদার কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে উত্তর-পশ্চিম থেকে মধ্য ভারতে। এবার সেই দাবি ধ্বনিত হচ্ছে দক্ষিণেও। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম শহরের দাম্মলা ভিড়ি এলাকায় হঠাৎই একটি স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে, যা ঘিরে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, ওই এলাকায় পানীয় জল খাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বহু মানুষ। পেটব্যথা, বমি, মাথা ঘোরা এবং দুর্বলতা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। যা ক্রমেই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ রূপ দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং ৭০-এর বেশি মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। শ্রীকাকুলাম জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক কে অনীতা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘প্রাথমিকভাবে হালকা ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিয়ষটি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়। তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামেন আধিকারিকরা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে, আক্রান্তদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অন্যান্য সম্ভাব্য আক্রান্তদের চিহ্নিত করছেন। রিপোর্ট দ্রুত স্বাস্থ্য শিবিরে পাঠানো হচ্ছে।’
স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ওই এলাকা থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে, যাতে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায়, ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত জলের প্রভাবে এ ধরণের অসুস্থতা হওয়া সম্ভব, তবে অন্যান্য কারণও পরীক্ষা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনও তৎপর। প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তারা। পুরো এলাকায় চলমান জল সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে, পরিবর্তে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা দরজায় দরজায় গিয়ে আক্রান্তদের স্ক্রিনিং করছেন। হালকা উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীদের বাড়িতেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর অবস্থার রোগীদের নিকটস্থ মেডিকেল ক্যাম্প এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
আকস্মিক এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। তিনি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। গুরুতর রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য ও প্রশাসন বিভাগের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে।’ এ ঘটনায় রাজনীতিও উসকে উঠেছে। ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির সভাপতি ওয়াইএস জাগন মোহন রেড্ডি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘শ্রীকাকুলামে এই প্রাদুর্ভাব প্রমাণ করে যে সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা রয়েছে।’ তিনি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা রোগীদের বিশেষ যত্ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রীকাকুলামের ঘটনা মধ্যপ্রদেশের দূষিত জলের কারণে মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করা পাইপলাইন ব্যবস্থার কারণে জনজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শহরের জল সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অবশ্য রাতদিন পরিশ্রম করছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অবস্থা প্রতি ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, তবে তাদের এও আশঙ্কা, ‘দূষিত জল ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে, আগামীতে আরও বড়ো বিপদ আসতে পারে।’
❤ Support Us






