Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৭, ২০২৫

উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র অসম, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু যুবকের, জখম বহু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র অসম, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু যুবকের, জখম বহু

উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে আবার উত্তাল অসম। উচ্ছেদের পরে অস্থায়ীভাবে বসবাস করা মানুষজনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে শাকওয়ার হুসেন নামের এক ব্যক্তির। মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনায় ১০ জন পুলিশ কর্মী-সহ জখম আরো অনেকে। গুরুতর আহত এক যুবক গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার, দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোয়ালপাড়া জেলার পাইকান রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায়। বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। জানা যাচ্ছে, গত ১২ জুলাই পাইকান রিজার্ভ ফরেস্টে প্রায় ১৪০ হেক্টর বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ করা হয় প্রায় ১,০৮০টি পরিবারকে। বিশাল পুলিশি উপস্থিতিতে চালানো হয় বুলডোজার অভিযান। তবে সেই সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় পরে। ভাঙা ঘরের জায়গায় ত্রিপল টাঙিয়ে থেকে গিয়েছিলেন বহু বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, অন্য কোথাও যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। বৃহস্পতিবার সকালেই সেই অস্থায়ী ঘরবাড়ি সরাতে ফের এলাকায় যায় পুলিশ ও বনদপ্তরের দল। অভিযোগ, তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন উচ্ছেদ হওয়া মানুষজন। প্রথমে বচসা, পরে তা রূপ নেয় খণ্ডযুদ্ধে। বাধ্য হয়ে গুলি চালাতে হয় পুলিশকে।

অসম পুলিশের আইজি (আইন-শৃঙ্খলা) অখিলেশ সিং জানান, ‘উচ্ছেদ হওয়া এলাকায় বনদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। আজ স্থানীয় বাসিন্দারা কর্তব্যরত অফিসারদের উপরে আক্রমণ চালায়। ১০ জন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। সরকারি সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বলপ্রয়োগ করতে হয়। গুলি চালাতে হয়। গুলিতে ৩জন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হন। তাঁদের মধ্যে এক যুবক, শাকওয়ার আলি, মারা গিয়েছেন।’ ঘটনার পরে ফের মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী।
আইজি জানিয়েছেন, ‘উচ্ছেদের সময় প্রায় ১,০০০ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিল। পরে কিছুটা কমানো হয়েছিল। এখন ফের অতিরিক্ত ফোর্স পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার বনদপ্তর ও পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়াচ্ছেন, মূলত উচ্ছেদস্থলে প্রবেশপথ বন্ধ করার চেষ্টার জেরেই উত্তেজনা বাড়ছে।’ গোয়ালপাড়ার ডেপুটি কমিশনার প্রদীপ তিমুং বলেন, ‘পুলিশ নিয়ম মেনেই কাজ করেছে। আমাদের রিপোর্টে উঠে এসেছে, বিক্ষোভকারীদের অনেকে স্থানীয় নন। আশপাশের এলাকা থেকেও লোক জড়ো হয়েছিল, যাঁদের উচ্ছেদই করা হয়নি। এ সংঘর্ষ পূর্বপরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে।’ যদিও উচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, ‘স্থায়ী ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, তখন আমরা প্রতিবাদ করিনি। কিন্তু আজ যখন অস্থায়ী ত্রিপলের ঘরও সরাতে এল, তখন আমরা শুধু একটু সময় চেয়েছিলাম। কোনো কথা না শুনেই গুলি চালাল। আমাদের আর কিছু নেই, শুধু রাস্তায় বসে থাকি।’

উত্তপ্ত পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও চলছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যাঁরা পুলিশকে আক্রমণ করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উচ্ছেদ শেষ হলে ওই এলাকায় বনসৃজন শুরু হবে। আমাদের লক্ষ্য, পাইকান এলাকায় দখলমুক্ত বনভূমিকে তার প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।’ অন্যদিকে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা এবং শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ, যিনি উচ্ছেদের প্রথম দিন অর্থাৎ ১২ জুলাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘যে ২ টি গ্রাম উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের বাসিন্দারা কেউ বে-আইনি অনুপ্রবেশকারী নন। এঁরা অসমীয় মুসলমান, যাঁদের নাম এনআরসি-তে রয়েছে। আজ তাঁরা রাস্তা তৈরির প্রতিবাদ করছিলেন, আর পুলিশ গুলি চালাল। এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। অবিলম্বে পুনর্বাসন দিতে হবে।’ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ‘অল মাইনোরিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন’-এর কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা মৃত শাকওয়ারের ন্যায়বিচার ও বন ও পুলিশ আধিকারিকদের ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। বিশেষ করে বন দফতরের ডিভিশনাল অফিসার জগদীশ বর্মণের অপসারণের দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা।

উল্লেখ্য, গোয়ালপাড়ার এই অভিযানটি রাজ্যের সাম্প্রতিক বড় উচ্ছেদ কর্মসূচির একটি অংশ। গত এক মাসে ৪টি জেলার একাধিক জায়গায় ৩,৩০০-রও বেশি মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই সপ্তাহেই বলেন, ‘২০২১ সালে সরকার গঠনের পর থেকে প্রায় ১৬০ বর্গকিলোমিটার জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। উচ্ছেদ করা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার জনকে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!