Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ৯, ২০২৫

অসমের বন্যায় ৩৬ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অসমের বন্যায় ৩৬ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে

গত কয়েকদিন বন্যার কবলে থাকা অসমের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। কয়েকটা নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ‌ব্রহ্মপুত্রসহ প্রধান নদীগুলির জলস্তর ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার কামরূপ জেলার কামালপুর এলাকায় বন্যার জলে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

টানা বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে ভারতের উত্তর–পূর্ব রাজ্যগুলিতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, ভূমিধস ও ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে ১০০–রো বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন। সবথেকে খারাপর পরিস্থিতি আসামের। এই রাজ্যে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ মানুষ বন্যার কবলে। ১২টি জেলায় কয়েক লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় জলস্তর কমলেও এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

দক্ষিণ অসমের শ্রীভূমি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (ASDMA) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জেলায় প্রায় ২ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া হাইলাকান্দিতে ৭৪ হাজার এবং কাছাড় জেলায় ৫৭ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত। ১২টি জেলার রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন প্রায় ১০০০ গ্রাম এখনও ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৬৩১১.১৬ হেক্টর ফসলি জমি এখনও জলের নীচে। পশ্চিমাঞ্চলের ধুবড়ি এবং দক্ষিণাঞ্চলের হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ অংশ এখনও প্লাবিত। কোপিলি নদীর জল বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। বন্যা কবলিত জেলাগুলিতে এখনও ১৩৩টি ত্রাণ শিবির এবং বিতরণ কেন্দ্রে ৩৬,০০০ এরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন। ৬৮টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রও চালু রয়েছে।
জলস্তর কমায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর গত সপ্তাহ থেকে বন্ধ থাকা ফেরি পরিষেবাগুলি দিনের বেলায় আংশিকভাবে চালু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ ধুবড়ি, ধরমতুলে কোপিলি, বিপি ঘাটে বরাক এবং শ্রীভূমিতে কুশিয়ারায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান এবং পবিতোরা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যও বন্যার কবলে রয়েছে। আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বন্যা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান এবং ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে বন্যার কারণে এখন পর্যন্ত ৭টি প্রাণী মারা গেছে। জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ ৩১টি প্রাণীকে উদ্ধার করেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!