Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ৪, ২০২৩

অসমে উচ্ছেদ রুখতে সমবেত প্রতিরোধ শুরু। শুধু চরবাসী বাঙালি নয়, গর্জে উঠছে বন ও খনি এলাকার বাসিন্দারাও

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অসমে উচ্ছেদ রুখতে  সমবেত প্রতিরোধ শুরু।  শুধু চরবাসী বাঙালি নয়, গর্জে উঠছে বন ও খনি এলাকার বাসিন্দারাও

বিজেপিশাসিত অসমে বহু মানুষকে জমি থেকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এনিয়ে জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে খবরাখবর প্রকাশিত হচ্ছে।  এই আবহে জমি থেকে কোনও পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে যে হাজার হাজার মানুষকে, গুয়াহাটিতে সম্প্রতি বড় ধরনের সমাবেশে করলেন তারা।
ওই সমাবেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন অংশ নেন। রাজ্যের নানা এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে সামিল হয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতিতে উস্কানি দেওয়া এবং দরিদ্র মানুষের জমি জোর করে দখলের অভিযোগ তুলেছেন।
গুয়াহাটির সাসালে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন অসমের বাঙালি মুসলিম এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের ও কার্বি জনজাতির হাজার হাজার মানুষ যারা সকলেই জমি হারিয়েছেন।  আক্রান্ত অসমিয়ারাও উপস্থিত ছিলেন।
এই সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার মানবাধিকারের পরিপন্থী কাজ করছে। একশ্রেণির ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি, কর্পোরেটের সঙ্গে স্বার্থ রক্ষায় খনি এলাকাগুলি থেকেও দরিদ্র মানুষকে রাজ্য সরকারের প্রত্যক্ষ মদতেই উচ্ছেদ করা হচ্ছে।  এর এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে রাজ্য পুলিশকে।
গত কয়েকমাস ধরেই আরও বেশি দরিদ্র মানুষকে জমি থেকে তাড়াতে রাজ্য সরকার উঠেপড়ে লেগেছে। দখল করা ওই জমি কর্পোরেট এবং বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত আরও তীব্র হয়েছে গত কয়েক মাস ধরে।
অভিযোগ, রাজ্য সরকার জমি থেকে দরিদ্র মানুষকে তাড়াতে কখনও ‘বহিরাগত বনাম ভূমিপুত্র’ তত্ত্ব খাড়া করা হয়েছে। আবার কখনও  দরিদ্র মানুষকে বেআইনি জমি  দখলদার হিসেবেও অন্যায়ভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
বিজেপির সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য ডাক দেওয়া হয়েছে ওই সমাবেশে।
গুয়াহাটিতে ওই সমাবেশের পরে এখনও অসম সরকার জমি দখল ইস্যুতে কোনও বিবৃতি দেয়নি। রাজ্য সরকারের দাবি, গত ছয় দশক ধরে আরও ভয়াবহ হয়েছে নদী ভাঙন। ইতিমধ্যে ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে তলিয়ে গিয়েছে ৪ দশমিক ২৭ লক্ষ হেক্টর জমি। যদিও প্রচুর সংখ্যক মানুষ নদী ভাঙনের ফলে জমি হারালেও সরকারি  পুনর্বাসন পাননি তারা।
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিপুল পরিমাণ জমি তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুহারা বহু মানুষ বসবাসের একটুকরো জমি পেতে বিস্তর কাঠখড় পুড়িয়েছেন। তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার জমি হারানো মানুষজনকে বসবাসের জন্য জমি দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যত সেই প্রতিশ্রুতি পালন করা হয়নি। বরং রাজ্য সরকার বন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা দরিদ্র মানুষদের উচ্ছেদ করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
প্রতিবাদকারীরা দাবি জানিয়েছেন, অসমে জমি আইনের চরিত্র এখনও ব্রিটিশ আমলের। অবিলম্বে ঔপনিবেশিক আমলের জমি আইনগুলি সংস্কার করতে হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!