Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ৮, ২০২৫

স্কুলভ্যানে ট্রেনের ধাক্কা, তামিলনাড়ুর কুড্ডালোরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩ স্কুলপড়ুয়ার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
স্কুলভ্যানে ট্রেনের ধাক্কা, তামিলনাড়ুর কুড্ডালোরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩ স্কুলপড়ুয়ার

স্কুলে যাওয়ার তাগিদ। সময়ে পৌঁছতে হবে। কিন্তু সে তাড়াহুড়োই যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা কে জানত ! মঙ্গলবার সকালে তামিলনাড়ুর কুড্ডালোর জেলার সেম্মানকুপ্পামে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩ স্কুল পড়ুয়ার। গুরুতর আহত আরো বেশ কয়েকজন। স্কুলমুখী ওই প্রাইভেট ভ্যানকে ধাক্কা দেয় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন।

স্থানীয় সময় সকাল প্রায় সাড়ে ৭টা নাগাদ কুড্ডালোর-আলাপ্পাক্কাম শাখার একটি ম্যান লেভেল ক্রসিং, গেট নম্বর ১৭০-তে, দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি প্রাইভেট স্কুলের ছাত্রবোঝাই ভ্যান রেললাইন পার হচ্ছিল, ঠিক সে সময় ছুটে আসে ভিল্লুপুরম-ময়িলাড়ুথুরাই প্যাসেঞ্জার ট্রেন। সজোরে ধাক্কা মারে ভ্যানটিকে। মুহূর্তে দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক পড়ুয়ার। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরো দুজনের। নিহত তিন পড়ুয়ার নাম নিমিলেশ (১২), চারুমতী (১৬) এবং চেঝিয়ান (১৫)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চেঝিয়ানকে পুদুচেরির জিপমারে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন চারজন পড়ুয়া এবং ভ্যানচালক শংকর। শিশুদের বাঁচাতে ছুটে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা অন্নাদুরাইও, বিদ্যুতের ছেঁড়া তারের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের ভর্তি করা হয়েছে কুড্ডালোর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

রেল সূত্রে খবর, ওই লেভেল ক্রসিংটি ছিল ‘নন-ইন্টারলকড’। সেখানে গেটম্যানের হাতেই গেট খোলা ও বন্ধ করার দায়িত্ব থাকে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গেটম্যান গেট বন্ধ করতে যাচ্ছিলেন, সেই সময় স্কুলভ্যানের চালক তাঁকে অনুরোধ করেন গেট খুলে দেওয়ার জন্য, যাতে স্কুলে পৌঁছতে দেরি না হয়। গেটম্যান সেই অনুরোধ রক্ষা করতে গেট খুলে দেন। এই হটকারী, নিয়মবিরুদ্ধ পদক্ষেপের ফলেই প্রাণ হারালো তরতাজা কিশোরেরা। রেল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে গেটম্যান নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে, প্রত্যক্ষদর্শীরা ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁদের কথায়, দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গেট খোলাই ছিল। এই দাবি ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বিক্ষুব্ধ জনতা গেট কিপারকে ঘিরে ধরে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করে রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর, ঘটনাস্থলে আসে রেলওয়ে রিলিফ ট্রেন আর মেডিকেল ভ্যান। সেখানে পৌঁছান ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার ও অন্যান্য আধিকারিকরা। জানা যাচ্ছে, নিরাপত্তা, অপারেশন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত কমিটি তদন্ত শুরু করেছ । রেল দফতরের তরফে, নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। গুরুতর আহতরা ২.৫ লক্ষ এবং আহতরা ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিন মৃতদের পরিবারের প্রতি শোকপ্রকাশ করেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরো ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। গুরুতর আহতদের ১ লক্ষ ও সামান্য আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছান কুড্ডালোরের ডিএমকে বিধায়ক জি. আইয়াপ্পান। বিরোধী দলনেতা এডাপ্পাদি কে. পালানিস্বামী এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে রাজ্য সরকারকে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার আবেদন করেছেন।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, জনবহুল একটি লেভেল ক্রসিংয়ে কীভাবে এত গাফিলতি হয়? কেন এখনো বহু জায়গায় অটোমেটিক গেট নেই? বিশেষ করে শিশুদের যাতায়াতের পথে এমন নিরাপত্তাহীনতা আরো উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, সমস্ত স্কুল রুটে অবিলম্বে নিরাপত্তা বাড়ানো হোক।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!