- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৯, ২০২৩
যাঁকে খুশি উপাচার্য বানাচ্ছেন, কালো চশমা পরে জ্ঞান দিচ্ছেন, আনন্দকে নিশানা মমতার
বুধবার বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে ঝাড়গ্রাম থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি রাজ্যপালকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমরা একটা করে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছে, উনি দালালি করে সব ভণ্ডুল করে দিচ্ছেন। ছাত্রছাত্রীদের দুর্নীতি কাকে বলে বোঝাচ্ছেন। আপনার কাজ সাংবিধানিক। এসব সহ্য করা হবে না। যদি এসব চান, আপনি বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়ান। জিতে আসুন। সেটা ১০০ বছরেও হবে না। তার আগে বিজেপি দলটাই উঠে যাবে। বলছে মুখ্যমন্ত্রী যা করছে আমিও তাই করছি। আজই আমি ঝাড়গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রেজিস্ট্রার করে দেব। আলিয়ায় একজনকে ভিসি করেছেন যার শিক্ষাক্ষেত্রে কোনও অভিজ্ঞতা নেই। ঝাড়গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে না আছেন উপাচার্য, না আছেন রেজিস্ট্রার। সার্টিফিকেট পর্যন্ত দেওয়া যাচ্ছে না। আমি মুখ্যসচিবকে অনুরোধ করছি ব্যবস্থা করার।”
এর আগে আমদা দেখেছি, রাজ্যপালের “হাতেখড়ি” অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে রাজভববনে দেখা গেছে। কিন্তু তার পর থেকেই দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসা নিয়ে বারবার সুর চড়াতে শুরু করেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। শিক্ষাক্ষেত্রেও দুর্নীতি নিয়ে সরব হন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী এদিন সরাসরি রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “বিজেপি খুনের রাজনীতি করছে। আগুন জ্বালানো সোজা। নেভানো কঠিন। বিজেপির এক নেতা আছেন। ভোট আসলেই বিজেপির থেকে অনেক টাকা পান। আর বলেন এটা করব। ওটা করব। কিন্তু কিছুই করবে না। সুতরাং একসঙ্গে থাকুন। বিজেপি সরকার হটানোই আমার একমাত্র লক্ষ্য। আপনাদের কুর্ণিশ জানাই।”
বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্যপাল হস্তক্ষেপ করার ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপির দালালি করার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই রাজ্যপাল বাংলায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁকে জেন্টলম্যান বলেছিলেন। আর এখন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর চোখে জেন্টলম্যান নেই সে কথা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। ফলে রাজ্যপাল-রাজ্য সংঘাত আরও প্রকট হল। কিছুদিন আগেই রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের তুলনা করে বোসের তুলনায় প্রাক্তন রাজ্যপালকে ভালো বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে আজ বুধবার ঝাড়গ্রামে আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে সোজা চ্যালেঞ্জও ছুঁড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন ঝাড়গ্রামের উন্নয়নের খতিয়ান তুলেও রাজ্যপালকে তুলোধনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘”বাংলার মানুষের উপর অত্যাচার করছে। এই বঞ্চনা বাংলার মানুষ সহ্য করে না। মানুষ একটু ভালবাসা চায়। আমরা তা দিয়েই জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরে এনেছি। আমাদের গভর্নর মহাশয় চোখে কালো চশমা পড়ে জ্ঞান দিয়ে বেড়াচ্ছেন। যাকে খুশি উপাচার্য করে দিচ্ছেন। উনি বিজেপির লোককে বসিয়ে দিচ্ছেন। আমি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। আর উনি দালালি করে যাকে খুশি বসিয়ে সব ভণ্ডুল করে দিচ্ছেন। হিম্মত থাকলে আচার্য বিলে সই করে দিন। আমরা ফাইল পাঠালে ফাইলে সই করেন না। অথচ কেরল থেকে নিয়ে এসে উপাচার্য করে দিচ্ছে। মনে রাখতে হবে উপাচার্য হতে গেলে ১০ বছরের ফ্রোফেসরি করার অভিজ্ঞতা থাকা দরকার।”
❤ Support Us







