- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৭, ২০২৩
“মানুষের জনমতে সরকার তৈরী হয়েছে, তাকে ভেঙে দেওয়া গণতন্ত্র বিরোধী”, সুকান্ত-শুভেন্দু-শান্তনুর বিরুদ্ধে সরব দিলীপ
সুকান্ত মজুমদারকে দাবি রাজ্যে ৩৫৫ ধারা জারি করতে হবে।এই দাবির ক্ষেত্রে শান্তনু ঠাকুরের সুর মিলে গেছে সুকান্তর সাথে। এদিকে সুকান্ত-শান্তনুর এই দাবির বিরোধিতায় সরব দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “মানুষের দ্বারা নির্বাচিত একটা সরকারকে ফেলে দেওয়া গণতন্ত্র বিরোধী।” এদিকে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “দিলীপ দা কী বলেছেন আমি শুনিনি, ওসব দিলীপদার ব্যক্তিগত মত।” তাহলে কী ৩৫৫, ৩৫৬ ইস্যুতে বিজেপি-র রাজ্য নেতৃত্বের সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সংঘাত লেগে গেল? সুকান্ত মজুমদার বিজেপির রাজ্য সভাপতি। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ বিজেপি-র সর্বভারতীয় সহ সভাপতি।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস করে ভোটে জেতার অভিযোগে সোচ্চার হয়ে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের একটা অংশ সংবিধানের ৩৫৫ ধারা, কেউ আবার ৩৫৬ ধারা রাজ্যে জারির দাবি জানিয়েছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি শোচনীয় ভাবে পরাজিত হওয়ার পর বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা রাজ্যের তৃণমূল সরকার ফেলে দিতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর ৩৫৫ ধারার থিওরি থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদার–শান্তনু ঠাকুরের পাঁচ মাসের মধ্যে সরকার ফেলে দেওয়ার কথা এখন প্রকাশ্যে বলছেন। আর ঠিক এই সময়ে ৩৫৫ ধারার বিরোধিতা করে বসলেন খোদ বিজেপি-র সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষ সোমবার ইকো
পার্কে বলেছেন, “আমি জানি না , পশ্চিমবঙ্গে ৩৫৫, ৩৫৬ কোনওদিন লেগেছে কি না। আমরা বলছি দরকার।আমি মানুষকে বলছি, এই সরকারকে কারা জিতিয়েছে? কারা এখন মারামারি করছে? মানুষের জনমতে সরকার তৈরী হয়েছে, তাকে ভেঙে দেওয়া গণতন্ত্র বিরোধী।”
রবিবার সল্টলেকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর বিজেপির পর্যালোচনা বৈঠকেও রাজ্য নেতৃত্বকে তুলোধনা করেছেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, হারের কারণ যে সাংগঠনিক ত্রুটি, সেটা দিলীপ ঘোষ ওই বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে বলে দিয়েছেন। তাছাড়া জেতা আসনে কেন বিজেপি হারল? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দিলীপ। এই ইস্যুতে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের তীব্র কথাকাটাকাটি হয়েছে রবিবারের বৈঠকে। রবিবারের এই ঘটনার পরেই সোমবার দিলীপ ঘোষের এই ৩৫৫, ৩৫৬ বিরোধী মন্তব্য বঙ্গবিজেপির অন্দরে জোর বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
বিজেপি এর আগে সরকার ফেলে দেয়নি কোনও রাজ্যে সেটা নয়। তাহলে হঠাৎ দিলীপ ঘোষ বাংলায় তৃণমূলের সরকার ফেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরই দলের নেতাদের দাবিতে এভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে সওয়াল করে সুকান্ত, শুভেন্দুদের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কেন তা দেখে বাংলার মানুষ অবাক হচ্ছেন।
❤ Support Us






