Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৩০, ২০২৫

কসবার কলেজে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল কলকাতা, ঘটনা খতিয়ে দেখতে রাজ্যে বিজেপির অনুসন্ধানকারী দল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কসবার কলেজে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল কলকাতা, ঘটনা খতিয়ে দেখতে রাজ্যে বিজেপির অনুসন্ধানকারী দল

দক্ষিণ-কলকাতার কসবা অঞ্চলের এক সরকারি আইন কলেজে ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে উত্তপ্ত শহর। ইতিমধ্যেই তদন্তে সিট গঠন করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে ঘটনাস্থলে পুনর্গঠন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ। শনিবার রাতে ঘটনার পুনর্গঠন করা হয় কলেজ ক্যাম্পাসেই। নির্যাতিতাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সে রাতের ঘটনার বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা। রবিবার অভিযুক্ত ও নির্যাতিতার ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। এরইমাঝেই, সোমবার শহরে এসে পৌঁছল বিজেপির ৪ সদস্যের অনুসন্ধানকারী প্রতিনিধি দল।

আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের ঘটনা এখনও পুরোনো হয়নি, তার মধ্যেই ফের শহরের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা। স্বাভাবিকভাবেই উত্তাল রাজনীতি। প্রতিক্রিয়ায় রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি।। রবিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখিয়েছে দলটি। আর সোমবার সকালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার নির্দেশে গঠিত ৪ সদস্যের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল কলকাতায় পৌঁছেছে। দলে রয়েছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সাংসদ বিপ্লব দেব, মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার ও সাংসদ বর্তমান সত্যপাল সিং, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মীনাক্ষী লেখি এবং সাংসদ মনন কুমার মিশ্র। বিমানবন্দরে নেমেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিপ্লব দেব বলেন, ‘বাংলার আইন-শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। যেখানে আইন শেখানো হয়, সেখানেই এরকম ভয়াবহ যৌন নির্যাতন! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। উনি নিজে অন্য রাজ্যে প্রতিনিধি দল পাঠান, অথচ বাংলায় বিজেপির প্রতিনিধি দল এলে বাধা দেওয়া হয়। এটা কি গণতন্ত্র?’

সূত্রের খবর, প্রতিনিধি দলটি কসবার ওই কলেজে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তাঁরা কথা বলতে চান নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে। তবে এখনো পর্যন্ত পুলিশ কমিশনার ও মুখ্যসচিবের কাছ থেকে সেই বিষয়ে ছাড়পত্র মেলেনি বলেই অভিযোগ করেছে বিজেপি। যদিও পুলিশ সূত্রের দাবি, সোমবার নয়, মঙ্গলবার তাঁদের সময় দেওয়া হতে পারে। প্রতিনিধি দলের সদস্য সত্যপাল সিং বলেন, ‘বাংলায় আজ কলেজ, হাসপাতাল, এমনকি প্রশাসনিক ব্যবস্থাও অপরাধমুক্ত নয়। আমরা চাই, নির্যাতিতা যেন ন্যায়বিচার পান। সেই দাবি নিয়েই আমরা এসেছি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার-সহ একাধিক নেতা এর মধ্যেই প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন।’ শাসক তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বলেছে, ‘বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যে অশান্তি ছড়াতে চাইছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। রাজ্যের আইন নিজস্ব পথে চলবে।’ আলিপুর আদালতে আজ নির্যাতিতার বাবা-মায়ের গোপন জবানবন্দি নেওয়া হতে পারে বলে খবর।

এদিকে, ঘটনার জেরে কসবা কলেজের পড়ুয়ারা ইতিমধ্যেই পথে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। সোমবার কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদে অংশ নেবেন তারা। একইসঙ্গে, কসবা পোস্ট অফিসের সামনে জমায়েতের ডাক দিয়েছেন কলকাতার অন্য ল-কলেজের পড়ুয়া, প্রাক্তনী ও জুনিয়র আইনজীবীরা। তবে এসব প্রতিবাদ আন্দোলনের মুখে হুমকির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের দাবি, মূল অভিযুক্তর ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী আন্দোলনের সংগঠকদের হুমকি দিচ্ছে। হুমকির মুখেও দমে না গিয়ে প্রতিবাদে একজোট হয়েছে পড়ুয়ারা। ক্যাম্পাসে প্রশ্ন উঠছে— এত বড়ো ঘটনার পরও কীভাবে অভিযুক্তের দল এমন সাহস দেখাতে পারে, তাদের পেছনে কে বা কারা রয়েছে? এদিকে, সরকারি নির্দেশে আজ কলেজের পরিচালন সমিতির বৈঠক ডাকা হয়েছে। শিক্ষা দফতরকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্তকে কলেজের অস্থায়ী কর্মীর পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!