- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৬, ২০২৫
সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে এবার বিআর গাভাই। শপথ ১৪ মে
১৪ মে ভারতের প্রধান বিচারপতি পদে শপথ নেবেন বিচারপতি বিআর গাভাই । বর্তমান প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার অবসর গ্রহণের একদিন পরেই দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না তাঁর নাম সুপারিশ করেছেন। বিচারপতি কে জি বালাকৃষ্ণনের পর গাভাই হবেন প্রধান বিচারপতির পদে আসীন দ্বিতীয় তফসিলি জাতিভুক্ত ব্যক্তি।
বিচারপতি ভূষণ রামকৃষ্ণ গাভাই, আগামী ১৪ মে ভারতের ৫২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেবেন। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার অবসর গ্রহণের একদিন পরেই দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি। ২০০৭-এ বিচারপতি কে জি বালাকৃষ্ণনের পর বিচারপতি গাভাই হবেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির পদে আসীন দ্বিতীয় তফসিলি জাতিভুক্ত ব্যক্তি। । ঐতিহ্য অনুসারে, প্রধান বিচারপতিকে অবসর গ্রহণের আগে তাঁর উত্তরসূরির নাম প্রস্তাব আকারে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকে পাঠাতে হয়। বিচারপতি সঞ্জীব খান্না তাঁর প্রস্তাবে বিআর গাভাইয়ের নাম পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে। তবে, মে মাসে দায়িত্ব নেবার পর মাত্র ৬ মাস প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকবেন তিনি। নভেম্বর মাসে তাঁর অবসর গ্রহণের কথা।
১৯৬০ সালে ২৪ মে, মহারাষ্ট্রের আমরাবতীতে জন্ম বিচারপতি গাভাই-এর। মাত্র ২৫ বছর বয়সে, ১৯৮৫ সালে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু। মহারাষ্ট্র হাইকোর্টের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল ও বিচারপতি রাজা ভোঁসলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি বোম্বে হাইকোর্টে স্বাধীনভাবে প্র্যাকটিস করেন। এরপর, মূলত নাগপুর বেঞ্চে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক আইনের মামলায় প্র্যাকটিস করতে থাকেন। ১৯৯২ সালের আগস্ট মাসে নাগপুর বেঞ্চে সহকারী সরকারি আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০০ সালে তাঁকে নাগপুর বেঞ্চের সরকারি আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ২০০৩ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত হবার পর, ২০০৫ সালে স্থায়ী বিচারপতি হন। ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে তাঁর পদন্নোতি ঘটে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি গাভাই একাধিক ঐতিহাসিক রায়ে অংশগ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রের ২০১৬ সালের নোটবন্দি সিদ্ধান্তের বৈধতা সংক্রান্ত রায় ও নির্বাচনী বন্ড-কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করবার রায় ইত্যাদি। সম্প্রতি বুলডোজার শাসন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দেয়, সেই বেঞ্চেও ছিলেন বিচারপতি গাভাই। রাতারাতি মহিলা, শিশু, বয়স্কদের রাস্তায় এনে দাঁড় করানো নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয় ওই মামলায়। এছাড়াও, ২০০র বেশি রায়ে স্বাক্ষর করেছেন শীর্ষ আদালতের হবু প্রধান বিচারপতি।
উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হিসাবে শপথ নিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। প্রধান বিচারপতি খন্নার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম গত ৬ মার্চ বিচারপতি বাগচীর নাম সুপারিশ করে। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের ওই সুপারিশ অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ করে আইন মন্ত্রক। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূর অনুমোদন পাওয়ার পর এই নিযুক্তিকরণ সম্পূর্ণ হয়। ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই বিচারপতি আলতামাস কবিরের অবসর নেওয়ার পরে কলকাতা হাই কোর্টের কোনও বিচারপতি শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি হননি। আগামী দিনে বিচারপতি বাগচীর, শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। ৬ বছরের বেশি সময় সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি থাকবেন তিনি। ২০৩১ সালে স্বল্প সময়ের জন্য শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন তিনি।
❤ Support Us







