- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১, ২০২৫
মুর্শিদাবাদ সীমান্তে বিএসএফের বড়সড় সাফল্য। লক্ষাধিক টাকার গয়না, মাদক বাজেয়াপ্ত, উদ্ধার গবাদি পশুও। গ্রেফতার ৫
মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-এর অভিযানে কয়েক কোটি কোটি টাকার গয়না, মাদক ও গবাদি পশু উদ্ধার, গ্রেফতার ৬। বাংলাদেশে পাচারের ছক ভেস্তে দিয়ে আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের যোগসূত্রে তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালান রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। সম্প্রতি দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তে, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় একাধিক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক, গয়না এবং অন্যান্য পাচারযোগ্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এসব অভিযানে ধৃত পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় ও বাংলাদেশি নাগরিক, এমনকি গবাদি পশু পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে তাদেরও উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে মুর্শিদাবাদের বামনাবাদ এলাকায় বিএসএফের ৭৩তম ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা সীমান্তে রুটিন টহলের সময় নদীর তীরে কিছু সন্দেহজনক পায়ের ছাপ লক্ষ্য করেন, যা কাছের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ তারা অনুসন্ধানে নামে, একাধিক দিক থেকে ঘিরে ফেলেন ওই এলাকা। এই তৎপরতায় ৫ জন পাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক বলেও জানা গিয়েছে।
তদন্তে ধৃতরা জানিয়েছে, তারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেনসিডিল পাচারের কাজ করছিল। এক ফেনসিডিলের বোতলের বিনিময়ে তারা ১০ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক পাচ্ছিল বলে দাবি করেছে। বিএসএফ-এর তথ্য অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২১.৩৯ কেজি রুপোর গয়না, যার আনুমানিক বাজারদর প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ফেনসিডিল-এর ১,০৫৭ বোতল, ৭.৩ কেজি গাঁজা, পাচারের জন্য ব্যবহৃত হওয়া ২৫টি ফিশ পিন বল ছাড়াও ৮ টি গবাধি পশু উদ্ধার হয়েছে।
একই দিনে আরো একটি সফল অভিযান চালায় বিএসএফের ১৪৬তম ব্যাটালিয়ন। জলঙ্গির সীমান্ত এলাকায় বিদেশি মদ ও গাঁজা পাচারের অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় বিভিন্ন ধরণের মাদক আর সীমান্ত পার হওয়ার সরঞ্জাম।পাশাপাশি এদিনই গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিএসএফের ১৪৩তম ব্যাটালিয়নের হাকিমপুর সীমান্ত ফাঁড়ির জওয়ানরা উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা ২০.৫ কেজি রুপোর গয়না এবং ৯টি মোবাইল ফোনবাজেয়াপ্ত করা হয়। উদ্ধার গয়নার বাজারমূল্য প্রায় ১৬.৫৫ লক্ষ টাকা। উদ্ধার হওয়া মালপত্র প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিএসএফ-এর দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আমাদের জওয়ানরা প্রতিদিন সীমান্তে চোরাচালান রুখতে নিরন্তর পরিশ্রম করছেন। পাচারকারীদের যে কোনো ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিতে তারা সদা প্রস্তুত। মাদক পাচার থেকে গয়না চুরি বা গবাদি পশুর অবৈধ পাচার – প্রতিটি দিকেই নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে। অভিযানে পাচারচক্রের একাধিক পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছ।’ এইসব ঘটনার পর বিএসএফ সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি আর কম্বিং অপারেশন আরো জোরদার করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতার মাধ্যমে পাচারচক্রের চাঁইদের ধরার পরিকল্পনা চলছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভগবানগোলা থানার চর বাবুপুর-পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রায় সাড়ে ছ’কেজি মাদক উদ্ধার করেছিল। গ্রেফতার হয় সন্তু শেখ নামের চর বিনপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা। তাঁর কাছ থেকে ৩.২৮০ কেজি হেরোইন আর ৩.১৯০ কেজি নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছিল। উদ্ধার হওয়া মাদকের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। পুলিশ জানিয়েছে, ভিনরাজ্য থেকে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক এনে বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। তদন্তে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছে।
❤ Support Us






