- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ৩, ২০২৫
ছাত্রভোট কেন করাচ্ছে না রাজ্য ! হলফনামা চাইল হাইকোর্ট। বন্ধ হচ্ছে ‘অবৈধ’ ইউনিয়ন রুম, উপাচার্য নিয়োগেও উঠল প্রশ্নচিহ্ন
দীর্ঘদিন রাজ্যের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বন্ধ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। কলেজে কলেজে ইউনিয়নগুলি হয় অকার্যকর না হয় পরিণত হয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কার্যালয়ে, গণতান্ত্রিক সংসদের পরিবর্তে শাসক নির্বাচিত ‘কাউন্সিল মডেল’ চাপিয়ে দিতে চাইছে রাজ্য সরকার, চাইছে ছাত্ররাজনীতির পরিসর সংকুচিত করতে; বিরোধী বাম ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে বিগত এক দশক ধরে বারবার এ ধরণের অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পড়ুয়াদের দীর্ঘ বিক্ষোভ-প্রতিবাদে যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি, ভিক্টোরিয়া কলেজে ইউনিইয়ন ইলেকশন করায় শিক্ষাদপ্তর। জায়গাতেই দাগ কাটতে পারেনি টিএমসিপি, জয়ী হয়েছিল এসএফআই-সহ বামপন্থী সংগঠনগুলি। এরপর অনান্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রভোট করানোর কথা থাকলেও তা হয় নি। কার্যত অকেযো হয়ে পড়ে আছে যাদবপুর, প্রেসিডেন্সির ইউনিয়নগুলি, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সকলেই পোড়াশোনা শেষ করে বেরিয়ে গেছেন। ফলে পড়ুয়াদের নিত্যদিনের সুবিধা-অসুবিধা জানানোর কোনো জায়গা এই মূহূর্তে নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৪ সালের পুজোর পর ছাত্রভোটের সম্ভাবনার কথা বললেও, এখনো কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণের ঘোষণা হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও একাধিকবার বলেছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন করাতে রাজ্য উদ্যোগী। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এই প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেছে। একই সুরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘করোনার সময় পড়াশোনাই বন্ধ ছিল। ফলে তখন ভোট সম্ভব হয়নি।’
এবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে উল্লেখযোগ্য নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ভোট না হলে খোলা যাবে না ইউনিয়ন রুম। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রভোট নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা কতটা— এ প্রশ্নই তুলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিল, ছাত্র সংসদ ভোটে সরকারের কতটা হস্তক্ষেপ রয়েছে, তা হলফনামার মাধ্যমে আদালতকে জানাতে হবে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, যেখানে উপাচার্য নেই বলে ভোট হচ্ছে না, সেসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা রাজ্যকে আদালতে জমা করতে হবে। পাশাপাশি, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে উপাচার্য রয়েছেন, সেখানেও কেন এখনো ভোট হয়নি, তার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা পেশ করতে বলা হয়েছে রাজ্যকে।
এদিন, মামলার শুনানিতে রাজ্যের হয়ে হাজির ছিলেন সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন একযোগে হয় না। বিভিন্ন কলেজে ছাত্র সংসদের মেয়াদ শেষ হয় ভিন্ন সময়ে। সেই অনুযায়ী নির্বাচনও হয়। তবে, অনেক কলেজে ইতিমধ্যেই নতুন করে অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি গঠিত হয়েছে।’ তিনি আরো দাবি করেন, উপাচার্য না থাকার কারণেই কিছু কলেজে নির্বাচন করানো সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রের কাছে ভিসি-র নাম পাঠানো হলেও অনুমোদন মেলেনি। পাল্টা মামলাকারীদের আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, রাজ্যের এই দাবির কোনো ভিত্তিই নেই। তাঁরা আদালতের কাছে প্রশ্ন তোলেন—‘তাহলে যেখানে ভিসি রয়েছেন, সেখানে নির্বাচন কেন হয়নি?’
দু-পক্ষের সোয়াল-জবাব শুনে বিচারপতি সৌমেন সেন বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনে রাজ্য সরকারের ভূমিকা ঠিক কতটা, তা আইনসঙ্গত দৃষ্টিকোণ থেকে স্পষ্ট করতে হবে। বিস্তারিত তথ্য হলফনামা আকারে পেশ করতে হবে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে।’ একইসঙ্গে তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘কিছু প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব আইন থাকতে পারে, কিন্তু গোটা প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে।’ এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে, ছাত্র সংসদের অস্তিত্ব না থাকলে ‘ইউনিয়ন রুম’ খোলা থাকার যৌক্তিকতা কোথায়! মামলাকারীদের আইনজীবীর তরফে আদালতে জানানো হয়, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর আগেই একটি মামলায় হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যের কোনো কলেজে ছাত্র সংসদ নেই। ফলে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকা অবস্থায় ইউনিয়ন রুম খোলা থাকার কোনো ভিত্তি নেই। আদালতও এই যুক্তি মেনে নিয়ে রায় দেয়, ছাত্র ভোট না হওয়া পর্যন্ত কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুম খোলা যাবে না। ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের লিখিত অনুমতি ছাড়া ওই রুম খোলা যাবে না। কোন জরুরি প্রয়োজনে রুম খুলতে হলে রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দিয়ে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে হবে।
❤ Support Us







