Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ২, ২০২৬

দলীয় তহবিল নিয়ে ব্যাঙ্কের কাছে হলফনামা চাইল হাইকোর্ট ! রিপোর্ট তলব পুলিশের, অস্বস্তিতে কালীঘাট তৃণমূল !

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দলীয় তহবিল নিয়ে ব্যাঙ্কের কাছে হলফনামা চাইল হাইকোর্ট ! রিপোর্ট তলব পুলিশের, অস্বস্তিতে কালীঘাট তৃণমূল !

তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ফ্রিজ’ হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে জটিলতা আরও বাড়ল। দলের কালীঘাটপন্থী শিবিরের আবেদন সত্ত্বেও আপাতত খুলছে না তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশকেও বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে বলা হয়েছে। আগামী বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের পর তৃণমূলের সংসদীয় ও পরিষদীয় দলে ভাঙন এবং অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের প্রেক্ষিতে এই বিতর্কের সূত্রপাত। দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করার আবেদন জানান। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই চিঠিতে তিনি নিজেকে এখনও দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেই পরিচয় দিয়েছিলেন।
এরপর গত ১৮ জুন বিধাননগর সাইবার থানায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিধায়ক অভিযোগ দায়ের করেন যে, একটি বড় সাইবার প্রতারণার অর্থ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে এবং সেই তালিকায় তৃণমূলের কিছু অ্যাকাউন্টও থাকতে পারে বলে তাঁর সন্দেহ। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে এবং পরদিন সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা বা ‘ডেবিট ফ্রিজ’ জারি করতে নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল।
আদালতে কালীঘাটপন্থী শিবিরের দাবি, ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমেই দলের কর্মীদের বেতন, অফিস পরিচালনার খরচ, বিদ্যুতের বিল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যয় মেটানো হয়। তাদের অভিযোগ, শুধুমাত্র আশঙ্কার ভিত্তিতে দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের ওপর নির্ভর করেই পুলিশ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। প্রথমে তিনটি অ্যাকাউন্টের কথা বলা হলেও, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে মোট আটটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বর্তমানে ফ্রিজ অবস্থায় রয়েছে।
দলের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে যুক্তি দেন, অভিযোগে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি কত টাকা ওই অ্যাকাউন্টে এসেছে, সেই অর্থের উৎস কী বা কারা টাকা পাঠিয়েছে। এমনকি অভিযোগকারী নিজেও টাকার উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত নন। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত সম্পূর্ণ না করেই পুলিশ তড়িঘড়ি পুরো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। যদি কোনও নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ নিয়ে সন্দেহ থাকত, তবে কেবল সেই পরিমাণ অর্থ আটকে রাখা যেত, পুরো অ্যাকাউন্ট নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোট-পরবর্তী সময়ে বিরোধী শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং এই পদক্ষেপও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই এফআইআর বাতিল এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি আদালতের কাছে অন্তর্বর্তী নির্দেশের আবেদন জানানো হয়।
কালীঘাটপন্থী শিবিরের অপর আইনজীবী অভিষেক মনু সিংঘবী প্রশ্ন তোলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পুলিশ এ ধরনের পদক্ষেপ করতে পারে কি না। তাঁর বক্তব্য, একটি রাজনৈতিক দলকে কার্যত অচল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যদি তৃণমূলের মধ্যে বিভাজন হয়ে থাকে, তবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার নির্বাচন কমিশনের, অথবা প্রয়োজন হলে আদালতের। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের আগেই পুলিশ কীভাবে ধরে নিল যে দলটি দু’ভাগে বিভক্ত এবং সেই ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল ?
অন্যদিকে, অভিযোগকারী বিধায়কের আইনজীবী নীরজ কিশন কৌল আদালতে বলেন, তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ ২০২৫ সালেই শেষ হয়েছে। যদি দলের মধ্যে বিভাজন ঘটে থাকে, তবে তার বৈধতা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তি দেন, সিংঘবীর বক্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে দলের মধ্যে বিভাজনের বিষয়টি স্বীকার করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দলের তহবিলের অধিকার কার, তা নির্ধারিত হওয়ার আগেই কীভাবে এক পক্ষ আদালতে এসে তহবিল পরিচালনার অধিকার দাবি করতে পারে? তিনি মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে তা খারিজের আবেদন জানান।
শুনানিতে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, “এক পক্ষ বলছে আমি সভাপতি, অপর পক্ষও একই দাবি করছে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের এমন নির্দেশ দেওয়া উচিত, যা বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব।”
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পুলিশকে তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে বলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ অবস্থাতেই থাকবে। আগামী বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!