- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ২৮, ২০২৫
ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্থার প্রতিবাদ, রবীন্দ্রনাথের ছবি হাতে বোলপুরে ভাষা আন্দোলন পদযাত্রা মুখ্যমন্ত্রীর
২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের বাদ্য বেজে উঠেছে ভোট ঘোষণার আগেই। বীরভূূমে সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোড়া কর্মসূচি। বাংলা ও বাঙালির অস্মিতা রক্ষার নামেই এবার ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সুর বেঁধে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই লক্ষ্যে সোমবার একদিকে বাংলা ভাষা ও বিজেপি শাসিত ভিন রাজ্যে বাঙালি হেনস্থার প্রতিবাদে মিছিল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, হাঁটলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি হাতে। এর আগে বীরভূমে প্রশাসনিক বৈঠকও করে বিএলওদের দিয়েছেন প্রয়োজনীয় নির্দেশ।
বীরভূমে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি বাংলার ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের উপর বঞ্চনার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, ভোটার তালিকাকে ঘিরে নতুন সমীক্ষার যে কর্মসূচি নির্বাচন কমিশন নিয়েছে, তা যথাযথ নিয়মে পালিত না হলে প্রতিবাদ হবে দিল্লিতে, এ বিষয়ে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। একুশে জুলাই সভামঞ্চ থেকেই ঘোষণা করেছিলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বাংলার একজন যোগ্য ভোটারের নামও যদি বাদ যায়, তবে দিল্লিতে পৌঁছে যাবে আন্দোলনের আঁচ। অন্যদিকে, ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের অবমাননার বিরুদ্ধে ‘ভাষা আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছিলেন ধর্মতলা থেকে।
সোমবার প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএলও-দের কাছে আমার অনুরোধ থাকছে, ভোটার তালিকা থেকে যাতে কারও নাম বাদ না-যায় সেটা দেখবেন।” বিএলও-দের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর দায়িত্ব নেয় নির্বাচন কমিশন। তার আগে এবং পরে রাজ্য সরকারের হাতেই প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকে। আপনারা রাজ্য সরকারের চাকরি করেন। কোনও মানুষকে অযথা হেনস্থা করবেন না।’ বিহারের পর এই রাজ্যেও ভোটার তালিকায় সমীক্ষার কাজ শুরু করতে পারে কমিশন, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। কমিশনের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু বলা না-হলেও এই কাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত থাকবেন, সেই বিএলও-দের একাংশকে দফায় দফায় প্রশিক্ষণ দেওয়া চলছে দিল্লি পাঠিয়ে। ১৭-১৮ জুলাই প্রশিক্ষণ চলেছে দিল্লিতে। রবিবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে কলকাতার নজরুল মঞ্চে। রবিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও নজরুল মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। দিল্লিতে প্রশিক্ষণের বিষয়টি রাজ্য জানতই না বলে জানিয়ে বীরভূম থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জেলাশাসকদের একটু চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। অনেকসময় দেখছি জেলাশাসকেরা দায়িত্ব দিচ্ছেন নীচের কাউকে। এই যে ১০০০ লোককে দিল্লি নিয়ে গিয়েছে প্রশিক্ষণ দেওয়াতে। জেলাশাসকদের উচিত ছিল আমাকে বা মুখ্যসচিবকে বলা। কিন্তু তাঁরা সেটা করেননি।” মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বুঝিয়ে দেন রাজ্য সরকারের চাকরি করে রাজ্যকে এড়িয়ে কাজ করার প্রবনতা বরদাস্ত করা হবে না।
এদিন, বোলপুরের ট্যুরিস্ট লজ মোড়-জামবনি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার পথ হাঁটেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি হাতে নিয়ে পদযাত্রা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা এবং দলীয় সমর্থকরা ।
ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের প্রতি যে অত্যাচার চলছে তার প্রতিবাদে একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার ছিল নানুর দিবস। ওই দিনই বীরভূমে গিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সোমবার বোলপুরে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করে তিনি যোগ দেন পদযাত্রায়। বাঙালি অস্মিতাকে রক্ষার জন্য তৃণমূলের এই প্রচার শুরু হয়েছে। কলকাতায় একুশে জুলাইয়ের সভা থেকেই তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছিলেন যে রাজ্যজুড়ে ভাষা আন্দোলন করবে তৃণমূল কংগ্রেস। বিভিন্ন কর্মসূচি ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা করা হয়ে গিয়েছে। তারই একটি অংশ হল বোলপুরের সোমবারের পদযাত্রা। বিভিন্ন জেলাতে প্রতিবাদ মিছিল জারি রেখেছেন তৃণমূল নেতা, কর্মী, সমর্থকরা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ পর্যন্ত এইসব কর্মসূচি চলবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, “আমি বাংলাতেই কথা বলব। দেখি কে কি করে। এসব করলে ঘেরাও হবে রাজ্যজুড়ে। ২১-এর মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে ছিলেন, সপ্তাহের শেষে শনিবার এবং রবিবার, এবার থেকে এই ২ দিন প্রতি সপ্তাহেই রাজ্যজুড়ে থাকবে তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচি। তার উদ্দেশ্য বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের সম্মান, মর্যাদা রক্ষা করা। এই লড়াই চলবে।
শনিবার থেকেই তৃণমূল নেত্রীর ডাকে রাস্তায় নেমেছেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। ২ অগস্ট থেকে ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও রবিবার তৃণমূলের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে।
❤ Support Us






