Advertisement
  • দে । শ
  • মে ৬, ২০২২

তদন্তের মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ, রাজস্থানে সাসপেন্ড ৫৯ বছরের পুলিশ কর্তা

উত্তরপ্রদেশে থানার ভিতরেই মহিলাকে নগ্ন করে বেল্ট দিয়ে পেটাল পুলিশ! সাসপেন্ড দুই আধিকারিক । বারবার একই ঘটনারপুনরাবৃত্তিতে নড়েচড়ে বসেছে যোগি সরকার।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তদন্তের মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ, রাজস্থানে সাসপেন্ড ৫৯ বছরের পুলিশ কর্তা

ছবি: টুইটার, রাজস্থান পুলিস ।

আবার কাঠগোড়ায় পুলিস। উত্তরপ্রদেশের পর এবার রাজস্থানে। ফের পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ। রাজস্থানের ঝালওয়ারের ভালতা থানা এলাকার বাসিন্দা একজন গৃহবধূ গত জানুয়ারি মাসে নিজের শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন। ওই মামলার তদন্তের ভার এসে পড়ে ৫৯ বছর বয়সি অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর জগদীশ প্রসাদের উপর।অভিযোগ, মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর থেকেই নির্যাতিতাকে নানাভাবে উত্যক্ত করছিলেন ওই পুলিশ আধিকারিক। বারবার তদন্তের নামে তাঁকে অকারণে ফোন করা হত। থানায় ডাকা হত।
পুলিশ জানিয়েছে গত সোমবার রাতে গ্রামের একটি বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন ওই মহিলা । তখন ওই পুলিশ আধিকারিক তাঁকে বাইরে ডাকেন। নিজের বাইকে বসিয়ে নিয়ে চলে যান পাশের জঙ্গলে। অভিযোগ, সেখানেই মহিলাকে ধর্ষণ করেন ওই পুলিশকর্মী। তারপর ভয় দেখিয়ে নিজেই মহিলাকে ওই বিয়েবাড়িতে নামিয়ে দিয়ে আসেন। নির্যাতিতা ওই মহিলা নিজের স্বামীকে সব ঘটনাক্রম জানান। তারপরই তাঁরা ওই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ওই আদিবাসী মহিলার করা মামলার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন জেলা পুলিশ সুপার মণিকা সেন। তিনি প্রাথমিক তদন্তের পর অভিযুক্ত জগদীশ প্রসাদকে সাসপেন্ড এবং গ্রেপ্তার করেছেন। শুধু তাই নয়, ওই আধিকারিক অবসরের পরও কোনওরকম সরকারি সুযোগসুবিধা পাবেন না। মাস ছ’য়েকের মধ্যেই ওই পুলিশকর্তার অবসর নেওয়ার কথা। পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করানো হয়েছে। তাঁর মেডিক্যাল টেস্টও করানো হবে। পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হবে।

কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। গত দু’মাসে দফায় দফায় সেরাজ্যে গোষ্ঠী সংঘর্ষের অভিযোগ উঠছে। সেই সঙ্গে ধর্ষণ তথা খুনের ঘটনাও নিত্য নৈমিত্তিক হয়ে উঠছে। যা রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে ।

উল্লেখ্য উত্তরপ্রদেশে গণধর্ষণের অভিযোগ জানাতে নগিয়ে থানায় থানারই মধ্যেই বড়বাবুর দ্বারা আবার ধর্ষিত হতে হয় এক বছর তেরোর নাবালিকাকে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ললিতপুরেই পুলিশের বিরুদ্ধে মহিলার বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠল। শুধু মহিলাকে নগ্ন করে মারধর নয়, পুলিশের কাছে যে অভিযোগ জানতে এসেছিলেন ওই মহিলা, সেই অভিযোগ যাতে চেপে দেওয়া যায়, তার জন্য পুলিশ পালটা তাঁর বিরুদ্ধেই মামলা করে। মামলা করা হয় ওই মহিলার স্বামীর বিরুদ্ধেও।

ঘটনাক্রম এই রকম। দিন কয়েক আগে অংশু প্যাটেল নামের এক কনস্টেবল ওই পরিচারিকার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনেন। কিন্তু কোনও মামলা দায়ের না করে তিনি ললিতপুর জেলার মেহরাউনি এলাকার সরকারি বাসভবনে নিজেই পরিচারিকাকে মারধর শুরু করেন। হাত লাগান ওই কনস্টেবলের স্ত্রীও। পরিচারিকাকে বাঁচাতে এলে তাঁর স্বামীকেও মারধর করা হয়। নিজের বাড়িতে মারধরের পর ওই পরিচারিকাকে কোতয়ালি থানায় টেনে নিয়ে যান অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিক। সেখানেই ওই মহিলার মুখ ঢেকে নগ্ন করে মারধর করা হয়। কনস্টেবলের পাশাপাশি মারধরের অভিযোগ ওঠে এক সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধেও।

ঘটনাটি ঘটেছে ২ মে। বুধবার রাতে তা প্রকাশ্যে আসে। তারপর অবশ্য নড়েচড়ে বসেছে যোগী প্রশাসন। ওই দুই অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের দু’জনের বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!