Advertisement
  • এই মুহূর্তে ন | গ | র | কা | হ | ন
  • জানুয়ারি ১৬, ২০২৪

মহম্মদ সেলিম: লোকসভার আগে, ধর্মকে বর্ম করে বিষাক্ত সাম্প্রদায়িক পরিবেশ তৈরিতে স্বচেষ্ট বিজেপি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মহম্মদ সেলিম: লোকসভার আগে, ধর্মকে বর্ম করে বিষাক্ত সাম্প্রদায়িক পরিবেশ তৈরিতে স্বচেষ্ট বিজেপি

দেশের সরকারকে ব্যবহার করে মন্দির নির্মাণ ও তার উদ্বোধনকে ঘিরে যে আবহাওয়া তৈরি করা হচ্ছে তাকে কেন্দ্র করে একটা ভয়ের পরিবেশ ও বিষাক্ত সাম্প্রদায়িক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে কোনও কোনও সংগঠন। এর ফলে দেশে একটা ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার সিপিএম রাজ্য দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। মূূলত ২২ জানুয়ারি রামমন্দির উদ্বোধনকে ঘিরে বিজেপির কাজকর্মের সমালোচনাই মঙ্গলবার করলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক।


সিপিএমের এই পলিটব্যুরো সদস্য  অভিযোগ করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ওই সময় কেউ বেরোবেন না। সার্বিক ভাবে একটা ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, “গোধরা থেকে বাবরি মসজিদ ধ্বংস এই পর্বে মানুষ দেখেছেন কি পরিস্থিতি সারা দেশে তৈরি হয়েছিল। ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। সেই ভয়ের পরিবেশ এখন আরও বেশি। কারণ আরএসএস-এর অনুমোদন প্রাপ্ত সংগঠনগুলি এখন আরও সক্রিয়। উত্তর ভারতে এক রকম, মণিপুরে এক রকম, পশ্চিমবঙ্গে এক রকম,কেরলে এক রকম করে,  সেখানকার মাটি দেখে কতটা বেশি, কতটা কম সাম্প্রদায়িকতা করবে তা ঠিক করে নিচ্ছে। এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা যারা করে তারাও সক্রিয় হচ্ছে। আসলে সামনে লোকসভা নির্বাচন। আমরা এখন দারিদ্র,বেকারি,অশিক্ষা,মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে একমাস ধরে রাস্তায় থেকে প্রচার করে তারপর ব্রিগেড করলাম। আগামীতে আরও প্রচার করব। আমরা চাইছি এই বিষয়গুলো যাতে লোকসভা নির্বাচনে যাতে মুখ্য বিষয় হয়ে ওঠে। রাষ্ট্র কি ভাবে চলবে সংবিধানে সেই নির্দেশ দেওয়া আছে। সেই সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে দুরমুশ করে দেওয়া হচ্ছে।”

সেলিম বলেন, “সংবিধানে বলা হয়েছে, নতুন যে ভারত গড়ে উঠবে তা সামাজিক,অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। সেখানে জাতপাত,ধর্ম,বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ কোনও প্রভেদ থাকবে না। অথচ দেখা যাচ্ছে ক্রমশ একটা বহুসংখ্যকবাদ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যা ঘোরতর বিপদ নিয়ে আসছে। মণিপুরের পরেও অনেকের শিক্ষা হচ্ছে না। নির্বাচনে ভোটের হার বারানোর জন্য, সমর্থনের হার বারানোর জন্য ধর্মকে বর্ম হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

এই প্রসঙ্গে প্রয়াত সিপিএম নেতা ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর উদাহরণ টেনে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, “আগামীকাল, ১৭ জানুয়ারি, জ্যোতি বসুর মৃত্যু দিবস। তিনি বিরোধী নেতা হওয়ার সময় থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত বলে গেছেন, ধর্ম আর রাজনীতিকে মেলাবেন না। আজকে দাঁড়িয়ে শঙ্করাচার্যরা বলছেন, যদি মন্দির হয় ধর্মের বিধি অনুযায়ী হবে, প্রধানমন্ত্রীর তারিখ ও নির্ঘণ্ট অনুযায়ী তো হবে না।”
এই প্রসঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতার প্রসঙ্গে সেলিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন,এটা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে হয়। “আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও তাই, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্ম বার্ষিকীতে ডাক-ঢোল পিটিয়ে উৎসব হল, কিন্তু নেতাজি, আজাদ হিন্দ ফৌজ, স্বাধীনতা সবকে ভুলিয়ে দিয়ে জয় শ্রীরাম স্লোগানটাকে বিতর্কিত করা হল। লেখালেখি হল, বলাবলি হল। কিন্তু ভোটের আগে এই বাইনারি তৈরি করা হল। আজকেও ঠিক তাই হচ্ছে। আজ শুনলাম ওইদিন মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে যাবেন, পুজো দেবেন, মিছিল করবেন। ২২ তারিখ ২১-এ আইন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটাই তো বিপজ্জনক।”

সেলিম রাজ্যবাসীর কাছে বামফ্রন্টের তরফে আবেদন করেন, “রাজ্যের সংস্কৃতিকে বজায় রেখে যাতে কোনও ভয়াতুর পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কোনও গুজব, উস্কানি যাতে কাজ না করে সেদিকে নজর রেখে যে যার এলাকায় সতর্ক ভাবে থাকুন। যারা চাইছে লোকসভা নির্বাচনটা মন্দির কেন্দ্রীক হোক, ধর্ম কেন্দ্রীক হোক,দাম বাড়ছে, জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে সেদিক থেকে নজর ঘোরাতে।”

এই প্রসঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক কেন্দ্রের গণপরিবহণ আইন, কৃষি আইন, বিদ্যুৎ আইনের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “সমস্ত ব্যবস্থাটার মধ্যদিয়ে মানুষকে বিপর্যস্ত করা হচ্ছে। সবটাই মানুষের উপর বোঝা হিসাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গণপরিবহণ ভেঙে পড়েছে। কেন্দ্র আইন করে বাস,লরি,টেম্পো শুধু নশ, ব্যক্তিগত গাড়ির উপরও বাড়তি বোঝা চাপিয়ে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করছে। লোকসভা নির্বাচনে এই ইস্যুগুলির উপর লড়াই করা উচিত, যেগুলো আমাদের জীবনকে স্পর্শ করছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য সরকার,কেন্দ্রীয় সরকার ধর্মকেন্দ্রীক রাজনীতিতে নেমে পড়েছেন। আমরা এটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি।”


  • Tags:

Read by:

❤ Support Us
Advertisement
homepage block Mainul Hassan and Laxman Seth
Advertisement
homepage block Mainul Hassan and Laxman Seth
Advertisement
শিবভোলার দেশ শিবখোলা স | ফ | র | না | মা

শিবভোলার দেশ শিবখোলা

শিবখোলা পৌঁছলে শিলিগুড়ির অত কাছের কোন জায়গা বলে মনে হয় না।যেন অন্তবিহীন দূরত্ব পেরিয়ে একান্ত রেহাই পাবার পরিসর মিলে গেছে।

সৌরেনি আর তার সৌন্দর্যের সই টিংলিং চূড়া স | ফ | র | না | মা

সৌরেনি আর তার সৌন্দর্যের সই টিংলিং চূড়া

সৌরেনির উঁচু শিখর থেকে এক দিকে কার্শিয়াং আর উত্তরবঙ্গের সমতল দেখা যায়। অন্য প্রান্তে মাথা তুলে থাকে নেপালের শৈলমালা, বিশেষ করে অন্তুদারার পরিচিত চূড়া দেখা যায়।

মিরিক,পাইনের লিরিকাল সুমেন্দু সফরনামা
error: Content is protected !!