Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৪, ২০২৩

ডিএ মামলায় রাজ্যের দীর্ঘ শুনানির পক্ষে সাওয়াল, শীর্ষ আদালতে আবারও পিছিয়ে গেল ডিএ মামলার শুনানি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ডিএ মামলায় রাজ্যের দীর্ঘ শুনানির পক্ষে সাওয়াল, শীর্ষ আদালতে আবারও পিছিয়ে গেল ডিএ মামলার শুনানি

দেশের শীর্ষ আদালতে আবারও পিছিয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ মামলার শুনানি। আবারও সময়ের নিরিখে মহার্ঘ হল মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত মামলার শুনানি। বাড়ল রাজ্য সরকারি কর্মীদের অপেক্ষার পালা। শুক্রবার ডিএ সংক্রান্ত রাজ্যের মামলাটির শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি হৃষিকেশ রায় এবং বিচারপতি পঙ্কজ মিথিলের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলাটি ওঠে। সেখানে রাজ্যের তরফেই প্রথম শুনানির দীর্ঘসূত্রিতার কথা বলা হয়।

এই মামলায় রাজ্যের তরফে হাজির ছিলেন আইনজীবী ও কংগ্রেস নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ডিএ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। রাজ্যের প্রায় চার লাখের কাছাকাছি কর্মীর জন্য রাজ্যের উপরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার বোঝা পড়বে। তাই এই মামলায় দীর্ঘ শুনানির প্রয়োজন আছে।”

রাজ্যের এই যুক্তি শোনার পর দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, যে হেতু মামলাটির দীর্ঘ শুনানির প্রয়োজন রয়েছে, তাই মামলাটির শুনানির জন্য নির্দিষ্ট দিন ঠিক করা হবে। যদিও সেই দিন বা তারিখ কবে, তা নির্দিষ্ট করে শুক্রবার বলা হয়নি বেঞ্চের তরফে।

এদিকে এই ডিএ মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী। ২০২২-এর ৫ ডিসেম্বর রাজ্যের ডিএ মামলাটি শুনানির জন্য প্রথম সুপ্রিম কোর্টে ওঠে। পরে এই মামলার শুনানির দিন পিছিয়ে ১৪ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়। পাশাপাশি, এই মামলা শুনানির জন্য নতুন ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করা হয়। সেখানে ছিলেন দুই বিচারপতি, বিচারপতি হৃষীকেশ রায় এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। কিন্তু শুনানির দিনই মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি দত্ত। তাই এই মামলার শুনানি ১৪ ডিসেম্বর হয়নি। তার পর থেকে ডিএ মামলার শুনানির দিন যতবারই ঠিক হয়েছে, তত বারই কোনও না কোনও কারণে ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে গেছে।

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ৩১ শতাংশ ডিএ দেওয়ার জন্য গত ২০২২ সালের মে মাসে কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়। রাজ্য সরকার হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়। রাজ্যের যুক্তি ছিল, হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত মেনে ডিএ দিতে হলে প্রায় ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা রাজ্যের অতিরিক্ত খরচ হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনের (কনফেডারেশন) আইনজীবী দাবি করেন, বকেয়া ডিএ দিতে হলে রাজ্যের উপর বিশাল অঙ্কের আর্থিক বোঝা চাপবে, এ কথা ঠিক। আবার এ-ও ঠিক যে, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য অধিকার। তা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা যাবে না। শুনানি বার বার পিছিয়ে যাওয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের অপেক্ষা দীর্ঘতর হল।
এদিকে ডিএ -র দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আন্দোলন চলছে। তাঁদের দাবি কেন্দ্রের সমহারে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ রাজ্য সরকারকে দিতে হবে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “ডিএ রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের কোনও অধিকার নয়। রাজ্যের হাতে বাড়তি টাকা থাকলে খুশি হয়ে আমি তখন কিছু দিতে পারি। ডিএ -র জন্য আন্দোলন করছেন কোথায় কেন্দ্রের কাছে তো রাজ্যের বকেয়া টাকার জন্য কোনও আবেদন বা দাবি করছেন না? পছন্দ না হলে কেন্দ্রের চাকরি করলেই তো হয়, যান।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য শুনে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের শাসক বিরোধী অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল, সমালোচনা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের। তবে তাতে আখেরে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বৃদ্ধির কোনও জট খোলেনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!