- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ৮, ২০২৫
মানহানি মামলায় মুক্ত সমাজকর্মী মেধা পাটেকর
দিল্লির আদালত, সমাজকর্মী মেধা পাটেকরের বিরুদ্ধে ভি কে সাক্সেনার করা মানহানি মামলায় তাঁর কারাদণ্ডের সাজা স্থগিত করে, তাঁকে মুক্তি দিয়েছেন। যদিও ১ বছর তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখবে আদালত । এই মামলা দুই দশকের পুরনো, যা নর্মাদা বাঁচাও আন্দোলন আর তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাতের একটি প্রতিফলন।
‘নর্মদা বাঁচাও’ আন্দোলনের নেত্রী মেধা পাটেকরের বিরুদ্ধে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনার করা মানহানি মামলার শুনানিতে প্রবীণ সমাজকর্মীকে কারাদণ্ড থেকে রেহাই দিয়েছে দিল্লি আদালত। এর আগে আদালত পাটকরকে ৫ মাসের কারাদণ্ড ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল। ২ এপ্রিল কোর্ট পাটকরের জামিন আবেদন খারিজ করে দেয় । তবে মঙ্গলবার কোর্ট তাঁর বয়স ও অপরাধমুক্ত অতীত পর্যবেক্ষণ করে, তাঁর কারাদণ্ড স্থগিত করে দিয়েছে। আজ, ৭০ বছর বয়সী সামাজিক কর্মী পাটেকর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক বিশাল সিংহ এই মামলায় ‘অভিযুক্ত’-এর কারাবাসের প্রয়োজনীয়তা দেখেন নি। আদালত আগামী ১ বছর তাঁর আচরণ পর্যবেক্ষণ করবে। আদালতের প্রহিবিশন বা নিরীক্ষণ এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে ভালো আচরণ করার শর্তে কারাবাস এড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়, তাকে তদারকি করার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়। বিচারক বলেছেন, ‘অপরাধের প্রকৃতি, অভিযুক্তের বয়স আর তাঁর পূর্ববর্তী কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আদালত মনে করছে যে তাকে কারাগারে পাঠানোর ক্ষেত্রে যুক্তি নেই।’ এছাড়াও, এদিন আদালত সেক্সেনাকে দেওয়ার জন্য পাটকরকে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ পরিমাণ ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ লাখ টাকা করেছে। এই মামলার প্রথম রায়, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া হয়েছিল।
এই মামলার সূত্রপাত ২ দশক আগে। ২০০০ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সিভিল লিবার্টিজের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ভি কে সাক্সেনা। এ সময় এনবিএ পাটকরের নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন-এর বিরুদ্ধে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলেন। তার প্রতিক্রিয়া হিসাবে মেধা পাটেকর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলেন। যার শিরোনাম ছিল ‘একজন দেশপ্রেমীর সত্যি কথা – বিজ্ঞপ্তির প্রতিক্রিয়া’। যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের সঙ্গে যুক্ত সাক্সেনা।লালভাই গ্রুপের সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক আছে, তাঁদের মধ্যে কে বেশি দেশপ্রেমী? প্রশ্ন তোলেন তিনি। দিল্লির বর্তমান লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে গুজরাট সরকারের ‘এজেন্ট’ বলেও অভিহিত করেছিলেন মেধা। কিন্তু মেধার দাবিতে ‘ব্যথিত’ সাক্সেনা ২০০১ সালে আমদাবাদের একটি আদালতে প্রবীণ সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০০৩ সালে মামলাটি দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়।
পরবর্তীতে সেক্সেনা ২০০১ সালে আহমেদাবাদে পাটকরর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করেন, যা সম্প্রতি রায় পর্যন্ত গড়ায়। সাক্সেনা তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে নিম্ন আদালতে মামলা করেছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে, দায়রা আদালতের বিচারপতি রাঘব শর্মা, মেধাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন। সাক্সেনা দাবি করেছিলেন, মেধার কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং তিনি যে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিলেন তা মিথ্যা ও অপমানজনক ছিল। এছাড়াও, মেধার বিরুদ্ধে টেলিভিশন চ্যানেলে আপত্তিকর মন্তব্য ও মানহানিকর বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করেন। যদিও মেধা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে প্রতিকার চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালত মেধার বিরুদ্ধে রায় দেন এবং তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে এই ঘটনা শুধু দুটি ব্যক্তি বা তাঁদের মধ্যে একটি মামলা নিয়ে নয়। বরং এক সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা ফুটিয়ে তোলে। নর্মাদা বাঁচাও আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আন্দোলনের প্রবীণ কর্মীকে নানা অভিযোগে জর্জরিত করা ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে ক্লান্ত করে তোলা — এ যেন ভারতের রাজনৈতিক সংঘাতের চিরায়ত রূপকেই নতুন করে ফুটিয়ে তোলে।
❤ Support Us







