Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৫

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদে বসবে কে ? রাজধানীর রাজনীতিতে তুমুল জল্পনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদে বসবে কে ? রাজধানীর রাজনীতিতে তুমুল জল্পনা

দীর্ঘ ২৭ বছর পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় দখলের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। একাধিক নতুন মুখ থাকলেও কে হবেন দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী, সেই নিয়ে চর্চা এই মুহূর্তে তুঙ্গে। কেজরীওয়ালের এ হেন ভয়ঙ্কর হারের পিছনেই বা কোন তত্ত্ব ?

এক্সিট পোলের রিপোর্ট বলছিল, দিল্লিতে উঠতে চলেছে গেরুয়া ঝড়। শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা প্রমাণও হয়ে যায়। দীর্ঘ ২৭ বছর পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় দখলের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। একাধিক নতুন মুখ থাকলেও কে হবেন দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী, সেই নিয়ে চর্চা এই মুহূর্তে তুঙ্গে। এমন দিনও দেখতে হবে, ভাবেননি কেজরিওয়াল। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী আপ সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিবাল। দিল্লির ক্ষমতা তো হারিয়েছেনই, একইসঙ্গে বিগত তিনবারের বিধানসভা নির্বাচনে যে আসনে জিতে এসেছেন, সেই আসনও ধরে রাখতে পারেননি। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ৭০ আসনের মধ্যে ৪৮টি আসন পেয়েছে বিজেপি। মাত্র ২২টি আসন পেয়েছে আপ। কংগ্রেস শূন্য। অভিযোগ উঠেছে, এই ভোটে নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ করেছে হাত শিবির। দিল্লির লজ্জার ফল প্রকাশ্যে আসার পর ইন্ডিয়া জোটকে বার্তা দিয়ে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, “দিল্লিতে কংগ্রেস আপকে সাহায্য করেনি। আবার হরিয়ানাতে আপ কংগ্রেসকে সাহায্য করেনি। যার জন্য দুই জায়গায় বিজেপি জিতে গিয়েছে। এই দুই দল একসঙ্গে থাকলে ভোটের ফল অন্যরকম হতে পারত।” এই ভোট ভাগাভাগির খেলা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সে কথা স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়া করে থাকতে হবে সব দলকে। তা না হলে, জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে বিজেপিকে রোখা কঠিন হবে।”

তবে এটাই কী একমাত্র কারণ ? বোধহয় নয়। একদিকে যেমন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়া সহ একাধিক শীর্ষ আপ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, যে কারণে জেলেও যেতে হয়েছে তাঁদের, পাশাপাশি শীষমহল বিতর্কও যথেষ্ট ক্ষতি করেছে আম আদমি পার্টির রাজনৈতিক ছবির। এছাড়াও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিতে শাসক বিরোধী হাওয়া ছিলই, পাশাপাশি জনগণ এবার আম আদমি পার্টির বিনামূল্যের স্কিমগুলিতেও বিশ্বাস করেনি। কারণ দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকলেও রাজধানীর বহু অঞ্চলে পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে পারে নি আপ সরকার। দূষণে জর্জরিত দিল্লিবাসীকে দিতে পারেনি মুক্ত বাতাসের আশ্বাস। যমুনার জলে রাসায়নিক ফেনা, শহরের অধিকাংশ জায়গায় নেই পরিচ্ছন্নতা আর নর্দমা ব্যবস্থা। এমনকি আপ সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল খোদ দলের সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বারবার। এই সকল কারণে ঝাড়ুর সাফাইয়ের বদলে বিজেপির ইস্তেহারে আস্থা রেখে এবার জনমত দিয়েছে দিল্লির আমজনতা, বলে মনে করা হচ্ছে। দিল্লি দেশের রাজধানী, কিন্তু গত কয়েক বছরে এই রাজ্যই দুর্দশার সম্মুখীন হয়েছে ৷ তা নিয়ে বিজেপির শীর্ষনেতারা আপ সরকারকে দায়ী করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, তিনি দিল্লিকে একটি আধুনিক শহর করতে চান ৷ আর বিজেপি তা করবে৷ এই বক্তব্যও ভোটারদের আস্থা অর্জনে সফল হয়েছিল। যমুনার দুর্দশা এবং দিল্লির দূষণের কারণে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ ধারাবাহিকভাবে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের শীর্ষে ছিল।

পালাবদলের স্রোতে দীর্ঘ ২৭ বছর পর দিল্লিতে বিজেপির সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। যে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বিজেপি জয় স্থির করেছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফ্যাক্টরের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে। আপ ও গেরুয়া শিবিরের ফল নিয়ে হাজারো আলোচনার মাঝে বার বার ঘুরে ফিরে পুরনো স্মৃতি। সালটা ১৯৯৩। সেবার পাঁচ বছরে তিনজন বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে। শেষ বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর মেয়াদ ছিল মোটে ৫২ দিন। তখন দিল্লির মসনদ বিজেপির দখলে। প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মদনলাল খুরানা। ক্ষমতায় এসে ভালই কাজ করছিলেন তিনি। কিন্তু ‘দিল্লি কা শের’ বিপাকে পড়েন ১৯৯৫ সাল। নাম জড়ায় হাওলা কাণ্ডে। ২৭ মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন তিনি। তখনও নির্বাচনের জন্য বাকি অনেকটা সময়। দায়িত্বভার দেওয়া হয় সাহিব সিং ভর্মার ওপর। সিংহাসনে বসেন, কাজ শুরু করেন। কিন্তু সমালোচনা পিছু ছাড়ে না এই মুখ্যমন্ত্রীরও। ৩১ মাস পর পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একজোট হতে থাকেন বিরোধীরা। সরব হন সাধারণ মানুষও। চাপ বাড়ে। সমালোচনার মুখে পড়ে পদত্যাগ করেন তিনি। তখনও নির্বাচনের বাকি প্রায় দু’মাস। দিল্লির মসনদে এবার কে, সে নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। গেরুয়া শিবিরের হাতে থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত কার্ডটি খেলে তারা। সিংহাসনে বসানো হয় সুষমা স্বরাজকে। দিল্লির প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, ৫২ দিনের মুখ্যমন্ত্রী। তারপর শিলা দীক্ষিতের ১৫ বছরের ইনিংস ও কেজরিওয়ালের ক্ষমতায় আসা।

কে হবেন দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ? আপ সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী প্রবেশ সিং ভর্মা। দুইবারের বিজেপি সাংসদ প্রবেশ সিং ভর্মা। তবে রাজনীতির সঙ্গে তাঁর যোগ ছোটবেলা থেকে। তাঁর বাবা সাহিব সিং ভর্মা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা প্রবেশের কাকা, আজাদ সিং উত্তর দিল্লির পুরসভার মেয়র ছিলেন। সম্ভবত বাবার পথেই হাঁটতে চলেছেন প্রবেশ। তিনিই কি মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন দিল্লির ? আজই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। জায়েন্ট কিলার হিসাবে তাকে সবার আগে অগ্রাধিকার দিতে পারে গেরুয়া শিবির। মসনদের অন্য দাবিদার বাঁসুরি স্বরাজ। ইনি প্রাক্তন মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মেয়ে। দিল্লি থেকে প্রথমবার তিনি সাংসদ হয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিজেপিতে তিনি প্রতিষ্ঠিত মুখ। অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং এল কে আডবানির আসনে লড়াই করে তিনি নিজেকে হাইপ্রোফাইল প্রমাণিত করেছেন. তার হাতেও দিল্লির দায়িত্ব তুলে নিতে পারে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। না কি নতুন মুখকে দায়িত্ব দিয়ে রাজনৈতিক মহলকে চমকে দেবে বিজেপি র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ! প্রবেশ সিং ভর্মা এবং বাঁসুরি স্বরাজ উভয়ের মুখ্যমন্ত্রী পদের কাঁটা পরিবারের ইতিহাস। পরিবারতন্ত্র নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র সমালোচনা করে নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপি নেতারা, দিল্লির চেয়ারে এই দুজনের মধ্যে কাউকে বসালে বিরোধীদের আক্রমণের তীর যে ছুটে আসবে, তা বলাবাহুল্য।

অন্যদিকে ২০২৬ -এ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। দিল্লির ভোটে জিতে এখন বিজেপি নেতারা বলছেন, তাঁরা বাংলায় ক্ষমতায় আসবেন। খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গতকাল কলকাতায় দাঁড়িয়ে সেই কথাই বলেছেন। যার জবাব দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তবে বাংলায় কারো সঙ্গে জোটের প্রয়োজন নেই মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‌বাংলায় আমাদের কারও প্রয়োজন নেই। আমরা ২০২৬ সালে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই আবার ক্ষমতায় আসব। দিল্লির নির্বাচনে কয়েক শতাংশের হেরফেরে ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে। কংগ্রেস নমনীয় হয়ে জোট করলে এটা হতো না।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!