- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ৫, ২০২৫
অভিনব উদ্যোগ, পড়ুয়াদের বইমুখী করতে এবার দুয়ারে গ্রন্থাগার মঙ্গলকোটে
বইয়ের পসরা নিয়ে দরজায় হাজির গ্রন্থাগার। গুগুল-ইউটিউবের ‘আকর্ষক’ জাল থেকে বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়াদের মুক্ত করতে অভিনব উদ্যোগ মঙ্গলকোটের মাজিগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের। বুধবার থেকে শুরু হবে অভিযান। নানান কিসিমের বইয়ের ঝোলা নিয়ে গ্রামে গ্রামে হাজির হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার। সেই ঝোলায় থাকছে বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্ভার। থাকবে বিভিন্ন পাঠ্য বিষয়ের রেফারেন্স বই, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির নানারকম উপযোগী বইপত্র। পড়ুয়াদের উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করা হবে তাদের পছন্দমাফিক বই বেছে নেওয়ার জন্য।
‘আগে আমরা মাছ, সবজি কিনতেতো বাজারে বা হাটে যেতাম। এখনতো সেসব বাড়ির দরজাতেই মিলছে। তাহলে কেন বই নিয়ে দরজায় দরজায় ঘুরব না ?’ সহজ কথায় এভাবেই ‘দুয়ারে গ্রন্থাগার’ কর্মসূচির ব্যাখ্যা দিলেন মাজিগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের পরিচালন সমিতির সভাপতি বিকাশ চৌধুরি। এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেল বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান প্রজন্ম, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। কোনও প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বইপত্রের পাতা না উল্টে গুগুল-ইউটিউব ঘাঁটছে। এই আসক্তি ‘অত্যন্ত ক্ষতিকর’ বলে মনে করেন বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদরা। এই আবহেই ‘দুয়ারে গ্রন্থাগার’ কর্মসূচির ‘প্রয়োজনীয়তা’ অনুভব মাজিগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের।
অ্যান্ড্রয়েড আসক্তির বিষয়টিকে মান্যতা দিলেও বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়াদের বই পড়ার প্রবণতা কমার দাবির সঙ্গে সহমত নন কাটোয়া মহকুমার গ্রন্থাগারের ইতিহাস রচয়িতা তথা কাটোয়া বইমেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডঃ তুষার পণ্ডিত। তিনি বললেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে ৩৩তম কাটোয়া বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রেকর্ড বিক্রি হয়েছে এবার। তথ্য বলছে, সিংহভাগ ক্রেতাই হচ্ছে স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারা।’
মাজিগ্রাম পাঠাগারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন বইপ্রেমীরা। মাজিগ্রাম বিশ্বেশ্বরী উচ্চবিদ্যালয় থেকে পথ চলা শুরু হয়েছে ভ্রাম্যমাণ মাজিগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের। চলার পথে এই পাঠাগার ছুঁয়েছে কোঁয়ারপুর, চাকুলিয়া-সহ এলাকার বিভিন্ন উচ্চমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের বই-বিশ্বের উঠোনে হাজির করার সঙ্কল্পে অটল পাঠাগারের পরিচালন সমিতি। এই সঙ্কল্পকে সাধুবাদ জানিয়ে মাজিগ্রাম হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক সুব্রত সাহা বলেন, ‘অত্যন্ত দরকারি ও প্রাসঙ্গিক দুয়ারে গ্রন্থাগার কর্মসূচিকে সফল করতে সবরকমের সহযোগিতা করব।’ রোজই নানান স্বাদের বইয়ের ‘পর্বত’ পৌঁছে যাচ্ছে ‘মহম্মদ’ পড়ুয়াদের দরজায়। আশা, সাফল্যের মুখ দেখছে ‘দুয়ারে গ্রন্থাগার’।
❤ Support Us







