- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২১, ২০২৩
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে “কালীঘাটের কাকু”-র মেয়ে, জামাইয়ের কলকাতার ফ্ল্যাটে হানা দিল ইডি
চিত্র সংগৃহিত
সোমবার সকালেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় “কালীঘাটের কাকু”-র মেয়ে,জামাইয়ের বাড়িতে ইডি-র হানা। এদিন সকালেই কলকাতা এবং সংলগ্ন তিনটি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। ভবানীপুর এবং নিউ আলিপুরের ঠিকানায় এই অভিযান চলে। ভবানীপুরের লি রোডের যে আবাসনে হানা দিয়েছে ইডি, সেখানেই নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত “কালীঘাটের কাকু” ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের মেয়ে পারমিতা চট্টোপাধ্যায় এবং জামাই দেবরূপ চট্টোপাধ্যায় থাকেন। ইডি সূত্রে খবর, সুজয়কৃষ্ণের মেয়ে, জামাইয়ের ফ্ল্যাটেই হানা তল্লাশি চলছে। আর নিউ আলিপুরের যেখানে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে, সেটি একটি সংস্থার অফিস। তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, সেই সংস্থার “নিয়ন্ত্রকের” ভূমিকায় ছিলেন সুজয়। তৃতীয় ঠিকানাটি হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর-২ ব্লকের সাঁজুয়া। সেই ঠিকানার সংস্থাটির সঙ্গেও সুজয়-যোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ইডি-র তরফে ।
ইডি কলকাতার নগর দায়রা আদালতে যে চার্জশিট পেশ করেছিল, সেখানে ইডি দাবি করেছিল, কালো টাকা সাদা করতে মেয়ে এবং জামাইকেও ব্যবহার করেছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। ১২৬ পাতার ওই চার্জশিটের ৮৩ নম্বর পাতায় বলা হয়েছে, সুজয়কৃষ্ণের নির্দেশে প্রায় আড়াই কোটি টাকা দিয়ে কলকাতার ভবানীপুরে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন দেবরূপ চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। এই দেবরূপ চট্টোপাধ্যায় আসলে সুজয়কৃষ্ণ ভাদ্রের মেয়ে পারমিতা চট্টোপাধ্যায়ের স্বামী। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ফ্ল্যাটটি কিনতে জামাইকে দিবাকর খেমকা নামের এক ব্যক্তি এবং তাঁর অধীনস্থ সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার ঋণ পাইয়ে দিয়েছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভাদ্র । ইডির দাবি, “ওয়েলথ উইজার্ড” নামের একটি সংস্থার কাছ থেকে আরও ৪৫ লক্ষ টাকা ঋণের বন্দোবস্ত জামাইকে করে দিয়েছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। ইডির দাবি, এই সংস্থাটি সুজয়কৃষ্ণের অধীনস্থ একটি সংস্থা। চার্জশিটেও সংস্থাটিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের সূত্র ধরেই সোমবার সুজয়ের মেয়ে-জামাইয়ের ফ্ল্যাটে ইডির হানা। দাবি, যে টাকা দিয়ে ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে, তার পুরোটাই “দুর্নীতি”-র টাকা।
তদন্তকারীরা আগে জানিয়েছিলেন, সুজয় বা তাঁর জামাইকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দিবাকর খেমকা। ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে, দেবরূপ একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে নতুন ফ্ল্যাটের টাকা মিটিয়েছিলেন। অন্য দিকে, সুজয়কৃষ্ণ একটি সরকারি ব্যাঙ্কে ওই সংস্থা থেকে ঋণবাবদ নেওয়া টাকা জমা করেছিলেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ফ্ল্যাট কিনতে তিনি যে সুজয়কৃষ্ণের সহায়তা পেয়েছেন, তা স্বীকার করে নিয়েছেন জামাই দেবরূপ।
এদিকে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র দাবি করে চলেছেন তিনি নিয়োগ দুর্নীতি বা কোনও রকম দুর্নীতিতে জড়িত নয়। তবে তদন্তকারী সংস্থা যতই তদন্তের মাত্রা বাড়াচ্ছে, ততই নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে সুজয়কৃষ্ণের জড়িত থাকার প্রমাণ আরও জোরালো হচ্ছে।
❤ Support Us







