Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১, ২০২৫

ঋণ জালিয়াতির মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানিকে তলব ইডি–র

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ঋণ জালিয়াতির মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানিকে তলব ইডি–র

১৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানিকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ৫ আগস্ট দিল্লিতে ইডি সদর দফতরে তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে। হাজির না হলে অনিল আম্বানিকে গ্রেফতার করা হতে পারে।
অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে রিলায়েন্সের বিরকুদ্ধে একটা আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। তদন্তের জন্য গত সপ্তাহে মুম্বইয়ের প্রায় ৩৫টি জায়গায় তল্লাশি চালায় এই কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই ৩৫টি জায়গাই অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় ৫০টি কোম্পানি এবং ২৫ জন ব্যক্তিকে এই তল্লাশির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়াও (‌সেবি)‌ একটা আর্থিক তছরুপের একটা আলাদা তদন্ত চালাচ্ছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (‌ইডি)‌, ন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি (‌এনএফআরএ)‌ এবং ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্টেসি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া–র (আইবিবিআই) সঙ্গে তদন্তের অংশ ভাগ করে নিয়েছে।
সেবির প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সিএলই প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটা কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন করেছে। এই কোম্পানির সঙ্গে রিলায়েন্সের কী সম্পর্ক রয়েছে, তা ঘোষণা করা হয়নি। এই লেনদেন আন্তঃ–কর্পোরেট আমানত হিসেবে দেখানো হয়েছে। সিএলই রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের একটা গ্রুপ কোম্পানি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সেবি জানিয়েছে যে, যথাযথ তথ্য প্রকাশ না করেই বিপুল পরিমাণ অর্থ এই কোম্পানিতে পাচার করা হয়েছিল। যার ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি লাভবান হয়েছিল বলে অভিযোগ।
রিলায়েন্স গ্রুপের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন যে, রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ৯ ফেব্রুয়ারি এই বিষয়টা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। সেবি নিজডে থেকে এটা খুঁজে বার করেনি। সেবির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, এই লেনদেনের পরিমাণ মাত্র ৬,৫০০ কোটি টাকা, ১০,০০০ কোটি টাকা নয়। রিলায়েন্সের ওই কর্তা বলেন, ‘‌যখন ঋণের পরিমাণ ছিল ৬,৫০০ কোটি টাকা, তখন কীভাবে ১০,০০০ কোটি টাকা লেনদেন হতে পারে? রিলায়েন্স ইনফ্রা ইতিমধ্যেই একজন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের অধীনে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার মাধ্যমে বম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেছে।’‌
সেবি জানিয়েছে, কোম্পানিটির ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা সীমিত হলেও রিলায়েন্স ইনফ্রা সিএলই–কে অগ্রিম প্রদান অব্যাহত রেখেছে। ইটি–র প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৭ থেকে ২০২১ অর্থবছর পর্যন্ত, রিলায়েন্স ইনফ্রা প্রভিশন, ত্রুটি এবং ন্যায্য মূল্য সমন্বয়ের কারণে ১০,১১০ কোটি টাকা বাতিল করেছে বলে জানা গেছে। সেবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ৩১ মার্চ, ২০২২ পর্যন্ত রিলায়েন্স ইনফ্রা এবং সিএলই–এর মধ্যে মোট লেনদেন ছিল ৮,৩০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে আইসিডি, ইক্যুইটি বিনিয়োগ এবং গ্যারান্টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৩ থেকে ২০২৩ অর্থবছরের মধ্যে আর ইনফ্রা-এর মোট সম্পদের ২৫% থেকে ৯০% সিএলই–তে ব্যয় করা হয়েছে। সেবি অভিযোগ করেছে যে, রিলায়েন্স ইনফ্রা ইচ্ছাকৃতভাবে অডিট এবং শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সিএলই–র সঙ্গে সম্পর্কের কথা এড়িয়ে গেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!