- দে । শ
- মে ২২, ২০২৫
স্কুলছুট, পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের লেখাপড়ার আঙিনায় আনতে বিকল্প পাঠশালা প্রাক্তন বিধায়কের
বিকল্প পাঠশালা। স্কুলছুট, পিছিয়ে পড়া শিশু-কিশোর-কিশোরীদের লেখাপড়ার আঙিনায় এনে শিক্ষার মূল স্রোতে শামিল করার লক্ষ্যে বছরখানেক ধরে চলছে এই পাঠশালা। মূল উদ্যোগ পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা স্থানীয় পারুলিয়া কুলকামিনী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধানশিক্ষক প্রদীপ কুমার সাহার। ২০২৪-র এপ্রিলে কালেখাঁতলা ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের পারুলিয়ার মণ্ডলপাড়ায় এই পাঠশালার পথ চলা শুরু। এই এলাকায় মূলত খেটে খাওয়া শ্রমিক, ক্ষেতমজুরের বসবাস। সিংহভাগ বাসিন্দাই তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত। অনেক ছেলেমেয়েকে উপযুক্ত পরিকাঠামো, অর্থনৈতিক অভাবের কারণে স্কুলে গিয়েও পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। শিক্ষাদানের মূল স্রোত তাদের কাছে অধরা থেকে যায়। এই বিষয়টি নজরে আসতেই অবসরের পর প্রদীপবাবু এই ‘বিকল্প পাঠশালা’ চালু করেছেন। রোজ সকালবেলা নিয়ম করে বিকল্প পাঠশালায় হাজির হয় এলাকার একঝাঁক শিশু-কিশোর-কিশোরী। মোটামুটি দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার বয়সীদের নিয়েই চলছে এই পাঠশালা। ষাটোর্ধ্ব প্রদীপবাবুর সহযোগী হিসেবে এখানে বিনা পারিশ্রমিকে বিদ্যা দান করছেন অবসরপ্রাপ্ত বিএসএনএল আধিকারিক ধৃতিমান শীল ও পারুলিয়া কুলকামিনী উচ্চবিদ্যালয়ের অঙ্কের শিক্ষক সুব্রত আচার্য। প্রদীপবাবু বলছিলেন, ‘এলাকার বহু গরিব, পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান স্কুলে ভর্তি হয়েও লেখাপড়ায় অন্যান্যদের সঙ্গে তাল রাখতে পারছে না। পড়াশোনায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই লেখাপড়া ছেড়ে দিচ্ছে। তাদেরকে এগিয়ে দেওয়াই বিকল্প পাঠশালার অভীষ্ট।’ এমন পাঠশালার বন্দোবস্ত করায় প্রদীপবাবুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকার গরিবগুর্বো বাসিন্দাদের। তাদের কৃতজ্ঞতা, ‘প্রদীপদা রয়েছেন বলেই আমাদের ছেলেমেয়েগুলো লেখাপড়া করতে পারছে। মানুষ হচ্ছে।’ ‘বিকল্প পাঠশালা’ গড়ে এভাবেই নীরবে ‘অন্ধকার’ এলাকাজুড়ে জ্ঞানের প্রদীপে আগুন ঠেকাচ্ছেন অঙ্কের মাস্টরমশাই প্রদীপবাবু।
❤ Support Us






