- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১০, ২০২৩
ইস্পাতের বদলে অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেল। পাঁচ মিনিটের বদলে আড়াই মিনিটের ব্যবধানে এবার চলবে মেট্রো
মেট্রো রেলের পরিকাঠামোতে বড় রকমের পরিবর্তন আন্তে চলেছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। আজ থেকে ৩৮ বছর আগে উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর পরিকাঠামোয় এক কথায় বড়সড় রদবদল হতে চলেছে এর ফলে। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ চাইছে এবার থেকে আড়াই মিনিটের ব্যবধানে ট্রেন চালাতে। ঠিক হয়েছে, এই কারণে পুরনো ইস্পাতের থার্ড রেল বদল করে অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেল বসানো হবে। মেট্রো রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, লন্ডন, সিঙ্গাপুর, মস্কো, বার্লিন, ইস্তানবুল-এর মেট্রো রেলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ওই সব দেশে শুরুর দিকে ইস্পাতের থার্ড রেল ব্যবহার করা হলেও পরে তা বদলে অ্যালুমিনিয়ামের করা হয়। প্রসঙ্গত, ইস্পাতের তুলনায় অ্যালুমিনিয়াম উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী। তাই রোধ কম বলে অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেলে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়। অত্যধিক রোধের কারণে বিদ্যুৎ পরিবহণের সময়ে ইস্পাতের থার্ড রেল গরমকালে আরও বেশি গরম হয়ে উঠছিল। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি একটানা বিদ্যুৎ প্রবাহের ক্ষেত্রে আরও রোধ বাড়িয়ে বেশি বাধার সৃষ্টি করছিল। এর ফলে ইস্পাতের থার্ড রেল থেকে প্রায়ই আগুনের ফুলকি বার হওয়ার ঘটনা ঘটে। তা ছাড়া, ট্রেনের বৈদ্যুতিক মোটরে তড়িৎ প্রবাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এর ফলে মেট্রো চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই পরবর্তী সময়ে কলকাতায় ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো ছাড়াও জোকা-তারাতলা এবং নিউ গড়িয়া-রুবি মেট্রোয় অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেল ব্যবহার করা হয়েছে। সে দিক থেকে এই ব্যবস্থা নতুন না হলেও চার দশকের পুরনো ইস্পাতের থার্ড রেল বদলে সেখানে অ্যালুমিনিয়ামের রেল বসানোর সিদ্ধান্ত অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। এই প্রসঙ্গে মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র জানান, ‘‘আগামী দু’বছরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে দমদম থেকে মহানায়ক উত্তমকুমার স্টেশনের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।’’
মেট্রো রেল সূত্রের জানা গেছে, ইস্পাতের পরিবর্তে অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেল ব্যবহার করার ফলে ৮৪ শতাংশ বিদ্যুতের অপচয় কমানো যাবে। অর্থাৎ ১০০ শতাংশের জায়গায় ১৬ শতাংশ বিদ্যুতে কাজ হয়ে যাবে। টাকার অংকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বছরে এক কোটি টাকা। রেল বদলের জন্য খরচ করা টাকা বিদ্যুতের সাশ্রয় থেকে তিন বছরের মধ্যে উঠে আসবে। পাশাপাশি, সুড়ঙ্গের মধ্যে বাতাসের তাপমাত্রা কমবে। কলকাতায় সুড়ঙ্গের মধ্যে আর্দ্র আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই ওই বদল আনা হচ্ছে। এর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এখন দেখার কাজটা শুরুর পর মেট্রো রেল চলাচলে বিঘ্ন হয় কি না বা কাজটা কত দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়।
তবে মেট্রো রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, কাজটি যে সংস্থা করবে তারা দৈনিক পরিষেবা ব্যাহত না করেই রেল বদলানোর কাজটা করবে। পর্যায়ক্রমে দৈনিক ২০০ মিটার করে রেল বদলের কাজ হবে। ইস্পাতের মতো অ্যালুমিনিয়ামের রেল জোড়ার জন্য ঝালাই করার প্রয়োজন পড়বে না। এর ফলে ভবিষ্যতে কম সময়ের ব্যবধানে মেট্রো চালাতে পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে এই বদল গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন মেট্রোর আধিকারিকেরা। এখন কলকাতা মেট্রোর উত্তর-দক্ষিণ লাইনে সব চেয়ে কম পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে মেট্রো চলে। ট্রেনের ব্যবধান আড়াই মিনিটে নামিয়ে আনতে হলে সিগন্যালিং ব্যবস্থাতেও বদল আনতে হবে। আধুনিক স্বয়ংক্রিয় কমিউনিকেশন বেসড ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম বা সিবিটিসি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির প্রাথমিক ধাপ হিসাবে মেট্রোর থার্ড রেল বদলের কাজ করা হচ্ছে। এই কাজ সম্পন্ন হলে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় কমিউনিকেশন বেসড ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম-এর কাজ শুরু হবে।
❤ Support Us







