Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ২৩, ২০২২

ঘরোয়া বিদ্রোহে সঙ্কটে ফ ব, ইমরান গোষ্ঠির সাসপেনসনের পরেও দলের ঐক্য অটুট রাখতে মরিয়া নেতৃত্ব ।

বাহার উদ্দিন
ঘরোয়া বিদ্রোহে সঙ্কটে ফ ব, ইমরান গোষ্ঠির সাসপেনসনের পরেও দলের ঐক্য অটুট রাখতে মরিয়া নেতৃত্ব ।

আলোচনা করেই পরিবর্তন, বিদ্রোহীদের জবাব ফ ব নেতৃত্বের প্রকাশ্যে ঘোষণা করে নয়, কার্যকলাপের মাধ্যমে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠিত ফরওয়ার্ড ব্লক দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল । ইস্যু দলের পত্রিকা। উত্তরবঙ্গের তরুণ ফ ব নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক নেতা আলি ইমরান (ভিক্টর) দলীয় পতাকা থেকে কাস্তে হাতুড়ির চিহ্নের অপসারণ মেনে নিতে পারেন নি। তিনি দলের ভিতরে গনতন্ত্রহীনতা ও অর্থনৈতিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা উড়িয়ে দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত বিশ্বাস ও নরেন চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ নেতারা । নরেনবাবু জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক হিসেব নিকেষ খতিয়ে দেখার নির্দিষ্ট কমিটি আছে। তাঁরা ‘অসঙ্গতি’ সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন তোলেন নি। যাঁরা অভিযোগ করছেন, এটা প্রমান করার দায়িত্ব তাঁদেরই যে, কোন কোন স্তরে অসঙ্গতি রয়েছে। আমরা অর্থনৈতিক বিষয় আশয় নিয়ে পুরোপুরি স্বচ্ছ। অর্থ বিষয়ক কমিটি হিসাব খতিয়ে দেখে তা দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে পেশ করে। এখানে রাখঢাকের প্রশ্ন ওঠে না। দ্বিতীয়ত, দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘ আলোচনার পর কাস্তে-হাতুড়ি চিহ্ন দলীয় পতাকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

হেমন্ত বসু ভবনে বুধবার ফ ব-র সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত বিশ্বাস জানিয়েছেন,‘পতাকা বা গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন হঠাৎ হয়নি।। দু’টো পার্টি কংগ্রেস, দু’টো জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন পর প্রতীক চিহ্ন বদলানো হয়েছে । এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকতে পারে। থাকলে দলের ভিতরেই এ বিষয়ে আলোচনা করা যেত।’

বিক্ষুদ্ধ গোষ্ঠির নেতা আলি ইমরান বলেছেন, পার্টি কংগ্রেস, জাতীয় কাউন্সিল, এমনকি, কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় নি। ভিক্টর সরাসরি অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় এবং পার্টির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী পতাকার রঙ ও প্রতীক চিহ্ন বদলেছেন । রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়ের পাল্টা বক্তব্য, ‘‌ভিক্টররা রাজ্য কাউন্সিলের বৈঠকে এ বিষয়ে টুঁ শব্দটিও করেননি। এখন যুযোগ বুঝে পার্টির শৃঙ্খলা ভাঙছেন।’‌

বুধবার ফ ব প্রতিষ্ঠা দিবসে পার্টিরকাস্তে-হাতুড়ি সমন্বিত পুরনো পতাকা নিয়ে ৬টি জেলায় কর্মসূচি করেছে আলি ইমরান-এর ‘আজাদ হিন্দ মঞ্চ’। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ফ ব রাজ্য কমিটির ভিক্টর–সহ পাঁচ নেতাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছে । ক্ষমতাসীন গোষ্ঠি এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে মতাদর্শ লড়াই এখন তুঙ্গে। দলের ঐক্য অটুট রাখা অসম্ভব । বিদ্রোহীরা আজাদ হিন্দ মঞ্চ নাম দিয়ে কার্যত স্বতন্ত্র্য অভিব্যক্তি জানিয়ে দিলেন । নেতাজির ফ ব কাস্তে হাতুড়ি ছিল না। পরে তা সংযোজিত হয়। বাম জমানায় অশোক ঘোষের নেতৃত্বেদলের ঐক্য ও কার্যকলাপ নিয়ে কখনও প্রশ্ন ওঠে নি। অশোক ঘোষের পরে রাজ্যে নরেন চট্টোপাধ্যায় যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে দলের ঐক্য বজায় রেখেছেন । তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই । প্রাক্তন সাংসদ ও সর্বভারতীয় সম্পাদক দেবব্রত বিশ্বাস জাতীয় স্তরের নেতা । বামপন্থী সব দলের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। কী কারণে আলি ইমরান আর তাঁর জনা কয়েক অনুগামী পতাকার প্রতাক চিহ্ন বদলের প্রক্রিয়াকে কাঠগোড়ায় দাঁড় স্বতন্ত্র ভূমিকায় অবতীর্ণ—এখনও তার আভাস মেলে নি । তরুণ নেতা । নিজের এলাকায় সুপরিচিত। পরিবারে ফরওয়ার্ড ব্লকের চেনা ঘরানার স্পর্শ এখনও বিরাজমান । ম্রিয়মান বামপন্থার আবহে তাঁর শক্তি কায়েম কতটা সম্ভব হবে বা হতে পারে—ভেবে দেখা দরকার । দেবব্রতবাবু বিশ্বাস আশাবাদী, বিদ্রোহীরা দলেই থাকবেন । এ ব্যাপারে ইমরান ও তাঁর সহযোগীরা এখনও কোনও মন্তব্য করেন নি। নতুন দল গঠনের কথাও জানান নি। ফ ব আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি দুরূহ। দেবব্রত বিশ্বাস, নরেন চট্টোপাধ্যায় আর দলের প্রথম স্তরের নেতারা সমস্যা কাটিয়ে উঠার সমূহ প্রয়াস অব্যাহত রেখেছেন ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!