- দে । শ
- জুলাই ৫, ২০২৩
চিনা সড়ক প্রকল্প নিয়ে ভারতের প্রশ্নের মুখে জিনপিং। সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর
ভারতের বিরোধিতায় বেজিং দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের প্রকল্পর বাস্তবায়ন এখন প্রশ্নের মুখে। সাংহাই কো-অর্পারেশনের বৈঠকে ‘বেল্ট এণ্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’- নিয়ে তীব্র আপত্তি জানালেন নরেন্দ্র মোদি। তাই দেখা গেল আলোচনা শেষে বিআরএই নিয়ে অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা সম্মতি জানালেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারের নীরবতাই অবলম্বন করলেন। সীমান্ত উত্তেজনা মাঝে আন্তর্জাতিক সড়ক প্রকল্প নির্মাণকে কেন্দ্র করে আবার সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে বেজিং – নয়াদিল্লি।
‘বেল্ট এণ্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা বিআর আই মূলত চিনা প্রকল্প, যার উদ্যোক্তা রাশিয়া , পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরঘিজস্তান তাজিকিস্তান। এই প্রকল্পে মাধ্যমে কয়েকটি নির্দিষ্ট রুটের মাধ্যমে বিশ্বকে এক সূত্রে বাধতে চায় জিনপিং প্রশাসন । ২০১৩ সালে থেকেই এব্যাপারে ভাবনা- চিন্তা শুরু হয়। এই প্রকল্পে মধ্যে একটি সড়ক পথ যার নাম চিন-পাকিস্তান করিডোর । যা চিনের কাশগড় থেকে বালুচিস্তানের গাওয়াদার বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। সাংহাই কো-অর্পোরেশনারে অন্য দেশগুলো চিনের প্রকল্পের সমর্থক। ব্যতিক্রম ভারত।
ভারতের আপত্তি নির্দিষ্ট এই সড়কপথের বিস্তারকে কেন্দ্র করে । কারণ, প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তা তৈরি হলে পাক অধিকৃত গিলগিট – বাল্টিস্তানের মধ্যে দিয়ে তা যাবে। তাতে বিদেশি মদতে সীমান্তে বাড়তে পারে জঙ্গি তৎপরতা। তার থেকেও বড়ো কথা, এই অংশটিকে নিজেদের দেশের অংশ রূপেই বিচার করে ভারত। সেখানে বাইরের দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে কোনো প্রকল্প নির্মাণএর প্রচেষ্টাকে কোনোমতেই ভালো চোখে দেখছে না নয়াদিল্লি। তাদের আশঙ্কা এতে বিঘ্নিত হতে পারে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব।
শুধুমাত্র বিআইআর নয় সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে নাম না করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন প্রধানমন্ত্রী। ভার্চুয়াল বৈঠকে শাহবাজ শরিফ ও জিনপিং-এর উপস্থিতিতে তিনি বলেন, কয়েকটি দেশ রয়েছে যারা তাদের সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে সন্ত্রাসবাদী হামলাকে মদত দেয়। আশ্রয় দেয় জঙ্গিদের, কারণ সন্ত্রাসবাদই তাদের নীতি। নাশকতামূলক কার্যকলাপ যেভাবেই হোক না কেন, তার বিরোধিতা করতে হবে। আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক মহল-সমস্ত ক্ষেত্রেই সাংঘাতিক বিপজ্জনক হয়ে উঠছে সন্ত্রাসবাদের সমস্যা। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সমবেতভাবে একসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জঙ্গি হামলার নিন্দা করার ক্ষেত্রে কোনও দ্বিচারিতা করা চলবে না। তাঁর মতে, সাংহাই কো-অর্পরেশনের কিছু মৌলিক নীতি রয়েছে, যা সকলের মেনে চলা উচিত।
বৈঠকের শেষে আফগানিস্তানের সমস্যা নিয়েও সদস্য দেশগুলো আলোচনা করে। সেখানে যে একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শাসন কাঠামো গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন, সে ব্যাপারে সহমত হন সকলেই। বিবৃতি জারি করে বলা হয়, এমন ভাবে দেশটিকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সেখানে হিংসা হানাহানি ও মাদকদ্রব্য মুক্ত শান্তির পরিবেশ বিরাজ করে। সুস্থ ভাবে বাঁচার সুযোগ যেন পায় নবীন প্রজন্ম।
❤ Support Us






