- দে । শ
- নভেম্বর ৩, ২০২৬
আরব সাগরে ফের পণ্যবাহী জাহাজে হামলা ! ওমান উপকূলে নিহত ভারতীয় নাবিক, উদ্ধার ১৩
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ আরও এক ভারতীয় নাবিকের প্রাণ কাড়ল। ওমানের উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার আঘাতে নিহত হয়েছেন এক ভারতীয় নাবিক। জাহাজে থাকা বাকি ১৩ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, মৃত নাবিকের নাম নাহিম আজিজ। তিনি গুজরাতের বাসিন্দা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘এমএসভি আল জুসুফি’ নামে ওই জাহাজটি ১৪ জন ভারতীয় নাবিককে নিয়ে ওমানের উপকূলের কাছে চলাচল করছিল। সে সময় অজ্ঞাতপরিচয় একটি আকাশপথে আসা বস্তুর আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কী ধরনের বস্তু থেকে আঘাত এসেছিল, কিংবা কারা এ হামলার নেপথ্যে রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আঘাতের পরেই জাহাজ থেকে বেরিয়ে আসেন ১৩ জন নাবিক। তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। গুরুতর আহত অবস্থায় থাকা নাহিম আজিজকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত নাবিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক এবং ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিহত নাবিকের দেহও যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরেই পশ্চিম এশিয়ার জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন দেশের নাবিকেরা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা, ইজ়রায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ থাকছে না, ছড়িয়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথেও। জ্বালানি পরিবহণ এবং পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ওমান উপকূলে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাও এই প্রথম নয়। গত সেপ্টেম্বর মাসেও একই ধরনের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ভারতীয় নাবিক সুরজ যাদব। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি কেপ ডাও’ ওমান উপকূলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান সুরজ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। জাহাজটিতে মোট ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
তারও আগে গত জুন মাসে ওমান উপকূলের কাছে আক্রান্ত হয়েছিল পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি সেটেবেলো’। ওই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়। পর পর এ ধরনের ঘটনায় পশ্চিম এশিয়ার জলপথে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহ পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে অন্তত ২২ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনই নাবিক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত মাসে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে ভারত গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। ওই সংঘাতে ২২ জন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ জন সামুদ্রিক পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত। ‘আল জুসুফি’-র ঘটনায় আরও এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর সে সংখ্যা বেড়ে হলো ২৩।
পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়েছে দিল্লি। সংঘাতপ্রবণ এলাকায় কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা, তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে দ্রুত উদ্ধার ও দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন কেন্দ্রের অগ্রাধিকার। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ধারাবাহিক হামলা বন্ধ না হলে আন্তর্জাতিক জলপথে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
❤ Support Us





