Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২, ২০২৫

৩০ বছরের কারাদণ্ড গণসেকরনের । তদন্তে ‘গাফিলতি’, আদলতের প্রশ্নের মুখে পুলিশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
৩০ বছরের কারাদণ্ড গণসেকরনের । তদন্তে ‘গাফিলতি’, আদলতের প্রশ্নের মুখে পুলিশ

আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দোষী গনসেকরনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল মহিলা আদালত। গণসেকরনের ‘ন্যুনতম’ শাস্তির আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক এম রাজারাজলক্ষ্মী। ঘটনার তদন্তে গাফিলতি ও রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।

আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে ১৯ বছর বয়সি এক ছাত্রীর উপর নৃশংস যৌন হেনস্থার ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় রায় ঘোষণা করছে আদালত। দোষী সাব্যস্ত হওয়া, বিরিয়ানি বিক্রেতা গণসেকরনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনাল চেন্নাইয়ের একটি মহিলা আদালত। একইসঙ্গে আদালত জানিয়ে দিল, অন্তত ৩০ বছর জেলে কাটাতেই হবে তাঁকে। অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে সর্বোচ্চ সাজাই দেওয়া হল। দোষীকে ৯০,০০০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এদিন বিচারক এম রাজারাজলক্ষ্মীর কণ্ঠে ছিল দৃঢ় বার্তা— ‘এই রকম অপরাধে ন্যূনতম সাজার কোনও জায়গা নেই।’

গত বছর ২৩ ডিসেম্বর আন্না বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই নিজের বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। অভিযোগ, সেখানেই ওই ছাত্রীর বন্ধুকে আক্রমণ করে গণসেকরন। নির্যাতিতা ছাত্রীকে টেনে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালায় । শুধু তাই নয়, ঘটনার ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করার হুমকিও দেয় সে । ওই দিনই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই মামলায় সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন। পুলিশের ১০০ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছিল। সব দিক খতিয়ে দেখে, গত সপ্তাহে আদালত গণসেকরনকে যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, ভয় দেখানো আর অপহরণসহ ১১টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত সাজা ঘোষণার আগে, গণসেকরন আবেদন জানিয়েছিলেন, তাঁর বৃদ্ধা মা আর ৮ বছরের মেয়ের দেখাশোনা করতে হয়, তাই তাঁকে যেন ন্যূনতম সাজা দেওয়া হয়। কিন্তু বিচারকের পর্যবেক্ষণ— ‘এরকম বর্বরোচিত অপরাধের পরে তাঁর অনুকম্পা চাওয়ার অধিকার থাকে না।’ সর্বোচ্চ সাজার পক্ষেই নিজের অবস্থান রেখেছিলেন বিচারপতি।

এই ঘটনা তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে বহিরাগত এক ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে এ ধরনের ঘটনা ঘটাল! অভিযোগ ওঠে তদন্ত নিয়েও। পুলিশের দায় এড়ানো মনোভাবে ক্ষুব্ধ হয় আদালতও। এফআইআরে ছাত্রীর পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে মহিলা সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে ন্যায়ালয়। নির্দেশ দেয়, তদন্তে গাফিলতির জন্য সরকারকে ভুক্তভোগীকে ২৫ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তী আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। শুরু হয় তুমুল রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধী দল বিজেপি, এআইএডিএমকে অভিযোগ তোলে, শাসক দল ডিএমকের সঙ্গে ‘অভিযুক্ত’-এর যোগ রয়েছে। তবে স্ট্যালিন সরকার ওই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। আরো অভিযোগ ওঠে, ঘটনার সময় গণসেকরন নাকি কারো সঙ্গে ফোনে কথা বলছিল, অজ্ঞাত সেই ব্যক্তিকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেছিল সে। সেই রহস্যজনক ‘স্যার’ কে? পুলিশ অবশ্য তদন্ত রিপোর্টে জানিয়েছে,ঘটনার সময় গনসেকরন কাউকে ফোন করেনি, নাটক করছিল মাত্র।

ঘটনার তদন্তে আরো সামনে আসে, ‘অভিযুক্ত’ বিরিয়ানি বিক্রেতা একাধিক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তার কাছ থেকে পুলিশ ১০০ গ্রাম ওজনের সোনা ও একটি বিলাসবহুল এসইউভি উদ্ধার করে। অভিযুক্ত এই সমস্ত চুরির কথা স্বীকারও করেছেন। আদালতের রায় ঘোষণার পর নির্যাতিতার পরিবার ও প্রতিবাদী সমাজে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ঠিকই। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— এই নৃশংসতার সুযোগ কীভাবে পেল বহিরাগত কোনো ব্যাক্তি? বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এমন নিরাপত্তার অভাব কেন? তদন্তেই বা কীভাবে গাফিলতি হল?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!