- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
‘১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ চলে যাবে’, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে আশঙ্কা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
ভোটের আগমুহূর্তে উন্নয়ন আর রাজনৈতিক বার্তার দ্বৈত সুর ভবানীপুরে। বুধবার, জৈন মানস্তম্ভ ও সন্ত কুটিয়া গুরুদ্বার গেটের উদ্বোধন, সংখ্যালঘু কেন্দ্রের ঘোষণা, সাইকেল বিলি থেকে ৮৫০ কোটির প্রকল্প ঘোষণার মাঝে ‘এসআইআর’ নিয়ে বিস্ফোরক আশঙ্কা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ পড়ে যেতে পারে।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। সে প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার কথা সামনে আসে। পরে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি’র অজুহাতে আরও নাম ছাঁটাই চলছে। মৃত ভোটারের সংখ্যা ধরলে মোট বাদ পড়া নাম ১ কোটি ২০ লক্ষে পৌঁছতে পারে বলেই তাঁর আশঙ্কা। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছেন, যদিও তাঁর পিটিশন এখনো স্থগিত। ভবানীপুরের জৈন মানস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, ‘কারও অধিকার ছিনিয়ে নেবেন না। বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়।’ দল-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘কে তৃণমূল, কে বিজেপি, কে সিপিএম, ওসব আমি দেখি না। কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে শিখ, কে জৈন—তা-ও দেখি না। গণতন্ত্র বাঁচুক।’ শীর্ষ আদালতের নির্দেশে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তালিকা প্রকাশ বাধ্যতামূলক। পরে সম্পূরক তালিকা প্রকাশের সুযোগ থাকলেও, এত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ অল্প সময়ে নিষ্পত্তি সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ৬০ লক্ষ অভিযোগ এখনও বিচারাধীন বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। বিচারিক আধিকারিকদের দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ রয়েছে, কিন্তু সময়সীমা ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
রাজনৈতিক তর্কের পাশাপাশি উন্নয়নের খতিয়ানও পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহণ, সংখ্যালঘু উন্নয়ন, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন পরিষেবার ঘোষণা আসে। একই সঙ্গে রাজ্যের সাড়ে ১২ লক্ষ স্কুলপড়ুয়ার হাতে সাইকেল তুলে দেওয়ার কর্মসূচির সূচনা হয় এদিনই। স্বাস্থ্য পরিষেবায় রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ, ডায়মন্ড হারবার ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব’ চালু হয়েছে। ফুরফুরা শরিফে ১০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ৫০ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক এবং গোসাবা গ্রামীণ হাসপাতালে মা ও শিশুর জন্য নতুন পরিষেবার উদ্বোধন করেন তিনি। পরিকাঠামোর তালিকায় বাঁকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদের উপর নতুন সেতু নির্মাণ, রাজ্যজুড়ে ১০১টি ফাস্ট ড্রাইভ প্রকল্প এবং ১২০টি সিএনজি বাস চালুর ঘোষণা রয়েছে। কলকাতা পুলিশের বিজয়গঞ্জ বাজার থানা ও উলুবেড়িয়া থানার নতুন ভবনেরও উদ্বোধন হয় এদিন।
আন্তরিক এ অনুষ্ঠানে জৈন, শিখ, মুসলিম ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরেন। সল্টলেকে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সংখ্যালঘু কেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে পারবেন। জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীরের সঙ্গে বর্ধমানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের উল্লেখ করে অহংকার ত্যাগের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। ভাষার বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে বলেন, উচ্চারণ আলাদা হলেও ভাবের ঐক্যই বাংলার শক্তি।
❤ Support Us





