- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ২৫, ২০২৫
প্রবল বর্ষণ-ভূমিধসে বিপর্যস্ত উত্তর সিকিম। বন্ধ রাস্তা, আটকে হাজারের বেশি পর্যটক
একটানা মুষলধারায় বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত উত্তর-সিকিমের বিস্তীর্ণ অংশ। ধস নেমে বন্ধ একাধিক রাস্তা। বন্ধ যান চলাচল আর অন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাহাড়ি পথে হু হু করে বইছে জল, এ পরিস্থিতে সেখানে আটকে রয়েছে হাজারের বেশি পর্যটক। নতুন করে ভ্রমণ পারমিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিকিমের পর্যটন দফতর।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বিরতিহীনভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়ে চলেছে উত্তর সিকিমে। বৃষ্টিপাত, ভূমিধসে কার্যত অবরুদ্ধ উত্তর সিকিমের জনপ্রিয় পর্যটনস্থল লাচেন, লাচুং আর ইয়ুমথাং। ধস নেমে বন্ধ একাধিক প্রধান সড়ক । বন্ধ যান চলাচল ও অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ পরিস্থিতে সেখানে আটকে রয়েছে হাজারের বেশি পর্যটক। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন ঋতুতে এই এলাকাগুলি পর্যটকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সিকিম সরকার পর্যটকদের উদ্ধার ও যোগাযোগ স্থাপনের কাজ তৎপরতার সঙ্গে শুরু করেছে। কিন্তু সে কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে লাগাতার হয়ে চলা মূষলধারার বৃষ্টি। সিকিমের পর্যটন দফতর নতুন করে ভ্রমণ পারমিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত উত্তর সিকিমে পর্যটকদের না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে, পর্যটন ব্যবসায়ীদেরও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সিকিম পর্যটন বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘সমস্ত পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয় মাথায় রেখে। আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধার এবং গ্যাংটকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’
গত কয়েকদিন ধরে সে রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছিল, আবহাওয়ার তরফে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসঅ ছিল। হালকা-মাঝারি বৃষ্টি পর্যটকদের তেমন কোনো অসুবিধায় ফেলেনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকাই শুরু হয় প্রবল বর্ষণ, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে । মুন্সি থাং এলাকায় ধস নামার কারণে লাচেন ও চুংথাংয়ের মধ্যে সংযোগকারী রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে, ফলে ওই পথে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তা মেরামত না হওয়া পর্যন্ত এই পথে গাড়ি চলাচল একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে লাচেনের সঙ্গে গ্যাংটকের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লাচেনে বেড়াতে যাওয়া শত শত পর্যটক এই অবস্থার কারণে আটকে পড়েন। গ্যাংটক থেকে যারা লাচেনের পথে রওনা হয়েছিলেন, তাদেরও মাঝপথ থেকেই ফিরে আসতে হয়েছে। লাচেনের পাশাপাশি লাচুংয়ের পরিস্থিতিও বেশ সঙ্কটজনক। চুংথাং থেকে লাচুং পর্যন্ত রাস্তাতেও ধস নামায় বহু পর্যটক সেখানে আটকে পড়েছেন। ইয়ুমথাং ভ্যালি এবং জিরো পয়েন্ট যাওয়ার পথে একাধিক স্থানে ধস দেখা দিয়েছে, যার ফলে এইসব পথেও সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও চুংথাং যাওয়ার রাস্তাটি খোলা রয়েছে, তবে কর্তৃপক্ষ সেখানে যাত্রা না করার জন্য সতর্ক করেছে। বৃষ্টির পরিমাণ এতটাই বেশি যে, কয়েকটি জায়গায় রাস্তায় হাঁটুসমান জল জমে যায়। স্রোতের তোড়ে কিছু স্থানীয় রাস্তাও ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গেছে। রাস্তায় বেশ কয়েকটি গাড়ি আটকা পড়েছে। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, বৃষ্টি না কমলে রাস্তাগুলির মেরামতি সম্ভব নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ধসের কারণে প্রায় ১,০০০ পর্যটক বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়েছেন। প্রায় ২০০টি পর্যটকবাহী গাড়ি চুংথাং-এ আটকে পড়েছে এবং যাত্রীরা সেখানে একটি গুরুদোয়ারে আশ্রয় নিয়েছেন। চুংথাং গ্যাংটক থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে লাচেন জেলা প্রশাসক অনন্ত জৈন জরুরি বৈঠক করেছেন। জানা যাচ্ছে, রাস্তা সংস্কার ও আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আটকে থাকা পর্যটকদের যাতে কোনোরকম সমস্যা না হয়, তার জন্য হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক নিয়মিত লাচেন ও লাচুংয়ের হোটেল মালিক ও পরিবহণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এদিকে আবহাওয়া দফতর পূর্বাভাস দিয়েছে, শুক্রবারও উত্তর সিকিমের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।
মানগান জেলার পুলিশ সুপার সোনাম দেচু ভুটিয়া জানিয়েছেন, ‘লাচেন-চুংথাং রোডের মুনশিথাং এলাকায় এবং লাচুং-চুংথাং রোডের লেমা/বব এলাকায় ব্যাপক ধস নেমেছে। উত্তর সিকিমে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। চুংথাং-এর রাস্তা খোলা থাকলেও রাতে যাতায়াত অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকতে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।’ সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, লাচেনে প্রায় ৬০০ পর্যটক ও ১০০টি গাড়ি এবং লাচুংয়ে প্রায় ৮০০ পর্যটক ও ১৫০টি গাড়ি আটকে রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও হোটেল কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছেন, রাস্তাঘাট স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য থাকা-খাওয়ার পূর্ণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
❤ Support Us






