- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২৯, ২০২৪
রাহুলের ন্যায় যাত্রা মালদায়। মুর্শিদাবাদে যোগ দেবেন সেলিম, সুজন। আমন্ত্রিত মীনাক্ষী
মালদা, মুর্শিদাবাদে রাহুল গান্ধির “ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা”-য় থাকছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, সিপিএম যুবনেতা শতরূপ ঘোষ। আমন্ত্রিত ডিওয়াইএফআই নেতা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক নিজে এই কথা জানিয়েছেন। তবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং মুখপাত্র জয়রাম রমেশ মমতাকে ন্যায় যাত্রায় থাকার আহ্বান জানালেও মমতা সম্মত হননি। উল্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুল গান্ধির উদ্দেশে বলেছেন, “এখানে এলে এক কাপ চা খেয়ে যাবেন।”
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায় একলা চলার কথা ঘোষণা ও নীতীশ কুমারের ইন্ডিয়া ছেড়ে এনডিএতে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেস-বাম সমঝোতা আরও সহজ হয়ে উঠেছে।
শিলিগুড়িতে রাহুল গান্ধির “ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা”-য় পা মিলিয়েছিলেন জেলার সিপিএম নেতা জীবেশ সরকার। পশ্চিমবঙ্গে “ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’-র বাকি পথেও বাংলায় রাহুল গান্ধির সঙ্গী হচ্ছে ইন্ডিয়া শরিক সিপিএম।
সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, চোপড়ায় স্থানীয় নেতৃত্ব থাকলেও ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রাকে গুরুত্ব দিয়ে মালদা, মুর্শিদাবাদে রাহুল গান্ধির পাশে থাকছেন থাকছেন দলের রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
এই প্রসঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “তিরুবনন্তপুরমে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক চলছে। তবে অসমে আমাদের সংগঠনের নেতারা রাহুল গান্ধির ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় ছিলেন। উত্তরবঙ্গেও ছিলেন। মালদা, মুর্শিদাবাদে আমি, সুজন চক্রবর্তী, শতরূপ ঘোষ উপস্থিত থাকছি।”
দু’দিনের বিরতির পর, রবিবার ফের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় অংশ নিয়েছেন রাহুল গান্ধি। আর আসন সমঝোতা নিয়ে তৃণমূল ও কংগ্রেস মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই, বাংলাকে পথ দেখানোর আহ্বানও জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ। রবিবার কখনও হুড খোলা গাড়িতে কখনও বাসে করে জনসংযোগ সারতে দেখা গিয়েছে রাহুল গান্ধিকে। রবিবার শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার সঙ্গে জুড়ে যায় বামেরা। মিছিলে অংশ নেন সিপিএম, সিপিআই সমর্থকরা। মালদায় থাকছেন সুজন চক্রবর্তী, শতরূপ ঘোষরা। মুর্শিদাবাদে অধীর চৌধুরীর জেলায় থাকছেন খোদ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় থাকতে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছে কংগ্রেস।
রবিবার সকালে, জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর মোড় থেকে শুরু হয় রাহুলের যাত্রা। হুড খোলা গাড়িতে চেপে জনসংযোগ করেন তিনি। গাড়িতে বেশ কিছুটা পথ রাহুলের সঙ্গী ছিলেন অধীর চৌধুরী, সামিল হন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও। এদিন রাহুল গান্ধি বলেন, “বাংলা একটা বিশেষ জায়গা। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যে আদর্শগত লড়াই, তা শুরু হয়েছিল বাংলা থেকেই। আপনি বাঙালি, দেশকে রাস্তা দেখানো আপনার কর্তব্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করেছিলেন, সুভাষচন্দ্র বোস করেছিলেন, বিবেকানন্দ করেছিলেন। আপনাদের মধ্যে সেই ক্ষমতা আছে। আপনারা যদি রাস্তা দেখানোর কাজ না করেন, দেশ আপনাকে ক্ষমা করবে না। এই আগুন বাংলার প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে আছে।’’
এদিকে বাংলায় এক চলার বার্তা দেওয়ার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্তুতি শোনা যাচ্ছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড মল্লিকার্জুন খাড়গের মুখে। লোকসভা ভোটের আগে শেষমেশ কংগ্রেস-তৃণমূলের কী সমীকরণ হতে চলেছে তা সময় বলবে। এই আবহে মালদা জেলায় একই দিনে দুই হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীর কর্মসূচি ঘিরে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। একদিকে ন্যায় যাত্রা নিয়ে ৩১ জানুয়ারি মালদায় প্রবেশ করবেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। একই দিনে মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর এনিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক জটিলতা বাড়ছে। মালদা শহরের ডি এস এ ময়দানে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা।
কংগ্রেসের বক্তব্য, তাদের কর্মসূচি পূর্ব ঘোষিত। আর তা ভঙ্গ করতে ইচ্ছা করেই সেদিন মালদা জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা রাখা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
৩১ জানুয়ারি রাহুল গান্ধির মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া হয়ে ইংরেজ বাজারে আসার কথা। রাতে তিনি থাকতে পারেন মালদার সুজাপুরে। এরপর ১ তারিখে মালদা থেকে মুর্শিদাবাদে পৌঁছাবে তাঁর “ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা”।
জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি কালীসাধন রায়ের অভিযোগ, “তৃণমূল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আর সেই কারণে তাদের কর্মসূচি বানচাল করার জন্য ইচ্ছে করে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা রাখা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যতিব্যাস্ত করে তোলাই তৃণমূলের উদ্দেশ্য।”
পাল্টা জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি দুলাল সরকার বলেন, “এই রাজ্যে কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্ব নেই। রাহুল গান্ধি রাহুল গান্ধির কর্মসূচি করবেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজস্ব প্রশাসনিক সভা রয়েছে, তিনি সেটা করবেন।”
এদিকে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূল থেকে সরে যাচ্ছে, সেই আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে তৃণমূল, আর সেই কারণেই কংগ্রেসের কর্মসূচির দিন ইচ্ছে করে প্রশাসনিক সভা রেখেছে বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক ।
❤ Support Us






