Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ৩০, ২০২৫

স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করাতে গিয়ে হেনস্থার শিকার দিব্যাঙ্গন আইনজীবী ! রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করাতে গিয়ে হেনস্থার শিকার দিব্যাঙ্গন আইনজীবী ! রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখিয়েও মিলছে না চিকিৎসা। উল্টে হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার বিল। থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও টালবাহানা। পুলিশের নীরবতায় শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ এক আইনজীবী। হাইকোর্টে মামলা উঠতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রাজ্য সরকারকে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।

ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের। পেশায় আইনজীবী গৌরাঙ্গ পাল এক জন বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তি। তাঁর স্ত্রী কিডনির জটিল রোগে ভুগছিলেন। ৩ জুন স্ত্রীকে ভর্তি করান কলকাতার নারায়ণ মেমোরিয়াল হাসপাতালে। স্বামী-স্ত্রীর দুজনেরই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে। অভিযোগ, শুরুতে কার্ড দেখে ভর্তি নেওয়া হলেও, কয়েক দিন পর হাসপাতাল জানায়, এই কার্ডে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়। হাসপাতালের আচরণে ভেঙে পড়েন গৌরাঙ্গবাবু। বাধ্য হয়ে ১২ জুন স্ত্রীকে স্থানান্তরিত করেন অন্য এক বেসরকারি হাসপাতালে। তবে এখানেই শেষ নয়, চিকিৎসা পরিষেবা না দিয়েও নারায়ণ হাসপাতাল থেকে তাঁকে পাঠানো হয় কয়েক লক্ষ টাকার বিল।

ঘটনার পর গৌরাঙ্গবাবু বারাসত থানায় অভিযোগ জানাতে যান। অভিযোগ, পুলিশ অভিযোগ নিতে চায়নি। পরে নিম্ন আদালতের নির্দেশে অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব হলেও তদন্তে কোনোরকম আগ্রহ দেখায়নি পুলিশ। নিরুপায় হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। আবেদনে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবারকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার কথা রয়েছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে। কিন্তু বাস্তবে বহু ক্ষেত্রেই বেসরকারি হাসপাতালগুলি রোগীদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। রাজ্য সরকার একাধিকবার সতর্ক করলেও অনেক হাসপাতাল ইচ্ছাকৃতভাবে কার্ড গ্রহণ করছে না। সূণাণীটে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।’ এরপরই রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে নিম্ন আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু হয়েছে ২০২১ সালে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন। কিন্তু অভিযোগ, প্রকল্পে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং পরিষেবায় অনীহার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। বহু হাসপাতালই স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় রোগীদের ভর্তি করতে চায় না। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় বিল মঞ্জুরিতে দেরি এবং প্রশাসনিক জটিলতাকে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, গত ১৮ মাসে স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা না দেওয়ার কারণে রাজ্যের ৫৩টি বেসরকারি হাসপাতালকে প্রায় ১১ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কমিশনের তরফে আরো জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে কার্ড গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। রাজ্যের নাগরিকদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, কোনো হাসপাতাল যদি স্বাস্থ্যসাথীর অধীনে রোগী ভর্তি না করে, তবে রোগীর পরিবার হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের পর্যালোচনার দায়িত্ব দিয়েছে একটি বেসরকারি পরামর্শদাতা সংস্থাকে। তবে বাস্তবে যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে পরিষেবা পেতে লাগাতার সমস্যার মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, তা একাধিক ঘটনায় সামনে এসেছে আইনজীবী গৌরাঙ্গ পালের আর্তি, ‘স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। হাসপাতালে পরিষেবা না পেলে, পুলিশ অভিযোগ না নিলে—তবে আমরা কোথায় যাব?’ এসব প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে রাজ্য প্রশাসন। হাইকোর্টের কড়া অবস্থানে স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহির দাবিও আরো জোরালো হয়ে উঠল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!