Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ৩, ২০২৫

মন্তেশ্বরে আক্রান্ত গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মন্তেশ্বরে আক্রান্ত গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা

মন্তেশ্বরে ৮ ও ৯ জুলাই একুশের শহিদ সমাবেশ উপলক্ষ্যে তিনটি প্রস্তুতি সভার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখানকার বিধায়ক তথা রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি। সেই সভাগুলির প্রস্তুতির কাজ দেখতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হলেন তিনি। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় অভিযোগের তীর মন্তেশ্বরের সিদ্দিকুল্লা বিরোধী গোষ্ঠীর দিকে। মন্তেশ্বর, মালডাঙা, কুসুমগ্রাম, যেখানেই যান সেখানেই তাঁকে নাগরিক সমাজের ব্যানারে গো-ব্যাক ধ্বনি, ঝাঁটা ও কালো পতাকা দেখাতে থাকে একঝাঁক পুরুষ ও মহিলা। মন্ত্রীর গাড়ি ও কনভয়ের অন্যান্য গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়, মন্ত্রীকে টেনে গাড়ি থেকে নামানোর চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। এসব তাকে খুনের চক্রান্ত বলে অভিযোগ খোদ মন্ত্রীর। ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। সাফ বলেন, ‘মন্তেশ্বরের আইসি দাঁড়িয়ে থেকে করিয়েছে।’ বর্ধমানে গিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিহিত চাওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি মমতা ব্যানার্জি, অভিষেক ব্যানার্জি ও রাজ্য সভাপতি সুব্রত বকসির নজরে এনেছেন বলে জানান সিদ্দিকুল্লা সাহেব। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
মন্ত্রীর কথায়, ‘তৃণমূলের ইতিহাসে এরকম জঘন্যতম ঘটনা ঘটেনি। ১৫ বছর ক্যাবিনেট চলছে কোন ক্যাবিনেট মিনিস্টার এইভাবে আক্রান্ত হয়নি।’ তাঁর কথায়, ‘যে বিক্ষোভকারী ছিল,পুলিশ চাইলে তাদের হটিয়ে দিতে পারতো। আইসি ১০০ শতাংশ দায়ী। তার সামনে আমার গাড়িতে ইট ফেলেছে। এত বড় ইট যে অত মোটা কাঁচ ভেঙে গেছে। আমার শরীরেও একাধিক আঘাত লেগেছে। শরীরে রক্ত ঝরেছে।’ যোগ করেন, ‘চালককে আক্রমণ করেছে। যাতে গাড়িটা ভাঙচুর হয়। পরে আমাকে নিয়ে গিয়ে যাতে খুন করতে পারে। পুরোপুরিভাবে খুনের চক্রান্ত। পয়সা দিয়ে মানুষকে ক্ষেপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের প্রত্যেকটা পঞ্চায়েত, অঞ্চল কমিটিকে বাধ্য করা হয়েছে যে তারা না এলে ঠ্যাঙ্গাড়ে বাহিনী দিয়ে ঠ্যাঙাবে।’ সেইসঙ্গে তিনি জানান, ‘এ কাজ যারা করেছে, আমার ভয় হচ্ছে তারা মাওবাদী কিনা। কোমরে কোমরে তাদের রিভলবার,ছোট ছোট অস্ত্র, কে দেয়? এই মমতা ব্যানার্জির সরকারে আমরা শান্তিতে আছি।’ মন্ত্রীর অভিযোগ, সরকারি গাড়ি-সহ পাঁচটা গাড়ি ভেঙেছে। আমার ড্রাইভার শ্যামল পাল আহত হয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, ‘আহমেদ হচ্ছে এই আক্রমণের মূল মাথা। এছাড়াও আমি একটা তালিকা এসপিকে দিয়েছি। এই সন্ত্রাস যদি বন্ধ না হয় সিপিএমের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন করেছি, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি সেই আন্দোলন করবে।’ উল্লেখ্য আহমেদ শেখ হচ্ছেন সিদ্দিকুল্লা সাহেবের বিরোধী শিবিরের। তিনি তৃণমূল শাসিত মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে তোলা মন্ত্রীর সমস্ত অভিযোগ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করলেন আহমেদ শেখ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি ঘোষণা করেন, ‘ব্যবস্থা না নিলে ১০ই জুলাই কলকাতায় মহা মিছিল বের করে প্রতিবাদ করব।’ মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘মন্তেশ্বরে দলের নামে নৈরাজ্য দলকে ঠিক করতে হবে। গুন্ডাদের রাখবে? না ভালো মানুষদের রাখবে? আমি আইনের শাসন চাই।’
হামলার কারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রীর ব্যাখ্যা, ‘সিদ্দিকুল্লাহকে অবরোধ করে রাখো, মুখ বন্ধ করে রাখো, সত্য কথা যাতে না বলে, গুন্ডাগরদিতে যাতে সাহায্য না করে, তোলাবাজদের যাতে সাহায্য না করে।’ তাঁর অভিযোগ, ‘মন্তেশ্বরে সরকারি জমি ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড করে বাড়ি তৈরি করছে। কাটমানি খাচ্ছে। জমির দালালি খাচ্ছে। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি সেই নৈরাজ্য মানতে পারবে না। দরকার হলে দল ছেড়ে দেবে।’ আরও বলেন, ‘আজকের ঘটনায় আমি অনুভব করছি, আমাদের নিরাপত্তা যদি পুলিশ দিতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেবে কী করে?’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!