Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ৩১, ২০২৪

রাত পোহালেই বদলে যাবে প্রজন্ম পরিচয়।সমাজদ্রষ্টারা আশাবাদী, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে নতুন বিশ্ব গড়বে বিটা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাত পোহালেই বদলে যাবে প্রজন্ম পরিচয়।সমাজদ্রষ্টারা আশাবাদী, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে নতুন বিশ্ব গড়বে বিটা

দিনের ব্যবধানেই বদলে যাবে প্রজন্ম নাম । রাত পোহালেই ২০২৫ এর পয়লা দিন থেকে, নবজাতক প্রজন্মের পরিচয় হবে নতুন । প্রযুক্তিই হবে যাদের সহচর । ২০৩৫ সালের মধ্যে তারা বিশ্ব জনসংখ্যার ১৬% হবে ।

প্রজন্মের সময়কাল ১৫ বছর । ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত প্রজন্মের নাম মিলেনিয়াল । তাদের আগের সবাই পরিচিত বুমারস নামে । ১৯৯৬-২০১০ সালের মধ্যে যাদের জন্ম, তারা পরিচিত জেনারেশন জেড বা জেন-জি নামে । ২০১০-২০২৪ পর্যন্ত যারা জন্মেছে তারা জেনারেশন-আলফা । সেই নিয়মে ২০২৫-২০৩৯ পর্যন্ত জন্ম নেওয়া সমস্ত শিশু হবে বিটা প্রজন্মের ।

প্রযুক্তির পরিবর্তনকে দেখতে দেখতেই বড়ো হয়েছেন মিলেনিয়ালরা । রেডিও থেকে টিভিতে রূপান্তর, কম্পিউটারের প্রাথমিক রূপ, সিম্বিয়ান মোবাইল টেকনোলজির সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিতেই তাদের বড়ো হয়ে ওঠা । চিঠি থেকে অর্কুট হয়ে ফেসবুক, সামাজিক যোগাযোগের ডিজিটাল যাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়েই এদের হয়ে ওঠা । পরবর্তী প্রজন্ম জেন জি আধুনিক প্রযুক্তিতে অনেক বেশী চৌখস, স্মার্ট ডিজিটাল প্রযুক্তি তাদের হাতের মুঠোয় । আলফার জমানায় বিকাশ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার । প্রযুক্তির দুর্বার গতিকে যারা ইন্ধন জোগায় । এদের পরবর্তীতেই আসছে বিটা জেনারেশন । যারা অটোনমাস ট্রান্সপোর্টেশন, পরিধানযোগ্য হেলথ টেকনোলজির মধ্যে বড়ো হবে এবং যাদের অধিকাংশ জগতই হবে ভার্চুয়াল ।

প্রজন্ম পরিবর্তনের গবেষক এবং জেনারেশন আলফারও নামকরণকারী মার্ক ম্যাকক্রিন্ডল তাঁর ব্লগে লিখেছেন, ‘জেনারেশন আলফা দেখেছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্মার্ট প্রযুক্তির জন্ম । জেনারেশন বিটা সেখানে বাঁচবে এমন এক সময়ে যখন রোজকার জীবন, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, স্বাস্থ্য এবং বিনোদনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা এবং অটোমেশন ।’

শিক্ষাক্ষেত্র থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, বিনোদন সব জায়গায় আগত নতুন প্রজন্ম সাহায্য নেবে এআই-এর । ব্যবহার করবে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, ওয়্যারেবল হেল্‌থ টেকনোলজি এবং ইমার্সিভ ভার্চুয়াল এনভায়রনমেন্ট ।

বিটা প্রজন্মের শিশুদের অনেকেই ২২ শতকের শুরু দেখবে । তারা ছেলেবেলা থেকেই পাবে প্রযুক্তির বিপুল সাহচর্য । আগামীতে আগত নিত্যনতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তারা সহজেই মানিয়ে নিতে পরাবেন বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা ।

একটা আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন ভবিষ্যত সমাজদ্রষ্টারা । তাদের অনুমান বিটা প্রজ্ন্ম সবচেয়ে বেশি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (সোশ্যাল আইসোলেশন)-র মুখোমুখি হবে । ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ক্রমাগত জুড়ে থাকা, অনলাইন-অফ্লাইন দুনিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখবার কৌশল খুঁজতে হবে । যদিও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়াটা জেন-জি, মিলেনিয়াল জেনা আলফার কাছেও চ্যালেঞ্জের । আত্মকেন্দ্রিকতার এই ভয়ঙ্কর চক্রব্যুহ থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য স্বাভাবিক নিয়মেই তাদের মধ্যে সঙ্গবদ্ধতার বোধ তৈরি হবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা । এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন এবং বনজঙ্গল কেটে নগরায়ন ও বিশ্বের জনসংখ্যার হু হু বৃদ্ধি জেন বিটার কাছে চ্যালেঞ্জ হতে পারে । যাদেক জৈব জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয় ভাবতে হবে দূষণ–বিহীন জ্বালানির কথা । নয়া প্রজন্ম যদি পূর্বসুরিদের কাছ থেকে গত প্রজন্মের ভুল গুলো শুধরে নেওয়ার পাঠ নিতে পারে তবে পরিবেশ রক্ষা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে গড়ে উঠবে নতুন পৃথিবী, সে বিষয়ে আশাবাদ বিজ্ঞানীদের ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!