- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ৯, ২০২৫
২৬/১১ হামলার মাস্টারমাইন্ড তাহাউর রানার ভারতে প্রত্যর্পণ
২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই হামলার প্রধান চক্রী তাহাউর রানার ভারতে প্রত্যর্পণ চলে চলেছে। প্রত্যর্পণ স্থগিত করার জন্য আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন কররেছিলেন তাহাউর রানা। কিন্তু মার্কিন শীর্ষ আদালতে খারিজ হয়ে যায়। এর পরেই ভারতের একাধিক সংস্থার প্রতিনিধি দল আমেরিকা পৌঁছে যায়। সূত্র অনুযায়ী, ভারতের প্রতিনিধি দল মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে, রানাকে বিশেষ বিমানে চাপানো হয়েছে। পথের মাঝে এক অজানা স্থানে বিরতি নিয়ে বিমান দিল্লি পৌঁছাবে। ভারতে পৌঁছানোর পর রানাকে কয়েক সপ্তাহ জিজ্ঞাসাবাদের ও তদন্তের জন্য এনআইএ-এর হেফাজতে রাখা হবে। পরে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাঁর হেফাজত পাবে। ইতিমধ্যেই দিল্লির তিহার ও মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলে নবাগত ‘অতিথি’র জন্য জোর প্রস্তুতি চলছে। দুই জেল কর্তৃপক্ষকেই অ্যালার্ট করা হয়েছে। যদিও ন্যাশানাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি মুম্বাই হামলার কু-চক্রীর মামলা মুম্বাই থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করবার আবেদন জানিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা সফরে গিয়ে, এ প্রসঙ্গে আলোচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিচারের জন্য তাহাউর রানাকে তুলে দিতে আপত্তি নেই বলে জানিইয়েছিলেন ট্রাম্প। ভারতে প্রত্যপর্ণ আটকাতে মার্কিন আদালতে একের পর এক আবেদন করেছিল পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান ব্যবসায়ী, লস্কর-ই-তৈইবা সন্ত্রাসী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য রানা। মার্কিন সর্বোচ্চ আদালতে তাহাউর দাবি করেছিলেন , সে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম হওয়ায়, ভারতে তার উপর নির্যাতন হতে পারে। এই আশঙ্কা প্রকাশ করে সে প্রত্যর্পণ স্থগিত করার আবেদন করেছিল। তাহাউরের আইনজীবী তার শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ও তুলে ধরেছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মেডিকেল রিপোর্টে জানানো হয়েছিল যে, রানা একাধিক গুরুতর রোগে আক্রান্ত, যার মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, ব্ল্যাডার ক্যানসার ও কিডনির অসুখ রয়েছে। তবে, এইসব অজুহাতে মার্কিন শীর্ষ আদালত কোন গুরুত্ব দেয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী ছিলেন তিনি।
তাহাউরের বিরুদ্ধে মুম্বাই হামলার পিছনে অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী পাকিস্তানি-আমেরিকান বাসিন্দা ডেভিড কোলম্যান হেডলি ওরফে দাউদ গিলানির মুম্বাই ভ্রমণ তথ্য সুরক্ষিত করা ও সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেবার অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালের ১১ থেকে ২১ নভেম্বর মুম্বাই সফর করেছিলেন তাহাউর। মুম্বাইয়ের হোটেল রেনেসাঁসে থাকার সময়, হামলার যাবতীয় ছক তৈরি করেছিলেন, প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা। মুম্বাই হামলায় প্রাণ জঙ্গীদের গুলিতে হারিয়েছিলেন ১৭০ জনের বেশি নিরীহ মানুষ। লস্কর-ই-তইবা এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে তাহাউরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ভারত। ২০২০ সালে রানা’র প্রোভার্নাল গ্রেপ্তারির অনুরোধ জানিয়ে আমেরিকার কাছে আবেদন করে নয়া দিল্লি। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ভারতে ফেরনো যাচ্ছে তাহাউর রানাকে।
❤ Support Us






