Advertisement
  • দে । শ
  • আগস্ট ৫, ২০২৩

মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানায় লকআপে যুবকের মৃত্যু। প্রতিবাদে সরব যাদব সমাজ, পিটিয়ে মারার অভিযোগে সাসপেন্ড থানার ওসি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানায় লকআপে যুবকের মৃত্যু। প্রতিবাদে সরব যাদব সমাজ, পিটিয়ে মারার অভিযোগে সাসপেন্ড থানার ওসি

মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানার লকআপ -এর ভেতর পিটিয়ে এক যুবককে মারার অভিযোগ থানার ওসি-র বিরুদ্ধে। ওসি-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দুদিন গ্রেফতার না করে ওই যুবককে থানায় আটকে রেখে অবশেষে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নবগ্রামে গতকাল রাত থেকে ধুন্ধুমার কাণ্ড। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চোর সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক যুবককে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নবগ্রাম থানায়। দুদিন পরেও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ। পুলিশ বলছে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল পরে। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে থানার শৌচাগারে গোবিন্দ দাস নামে ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজনা শুরু হয় মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানা এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃতের নাম গোবিন্দ দাস। ২৮ বছরের ওই যুবকের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের হাতেই শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় তিনি নিহত হন। যদিও পুলিশের বক্তব্য গোবিন্দ দাস আত্মহত্যা করেছে । এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায়  উত্তেজনা হয়। অভিযুক্ত’ পুলিশ আধিকারিক এবং কর্মীদের বরখাস্তের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে যাদব মহাসভা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জ করতে হয়। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটানো হয় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে ওই থানার ওসিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, সপ্তাহ খানেক আগে নবগ্রাম থানার সিঙ্গার গ্রামের প্রদীপ ঘোষ নামে কলকাতা পুলিশের এক কর্মীর বাড়িতে সোনার গয়না এবং নগদ টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে নবগ্রাম সেনাছাউনিতে দৈনিক মজুরের কাজ করা যুবক গোবিন্দ ঘোষের। পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কলকাতা পুলিশের ওই পুলিশকর্মী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোবিন্দকে আটক করা হয়। গোবিন্দর পরিবারের অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ আধিকারিক গোবিন্দকে বেধড়ক মারধর করেন। তাঁর বুকে এবং তলপেটে লাথি মারার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। মৃত যুবকের বাবা ষষ্ঠী ঘোষ বলেন, ‘‘আমার ছেলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তলপেটে কালো কালশিটের দাগ দেখেছি। মাথার পিছনে, ঘাড়ে গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। পিটিয়ে খুন করেছে ওকে শ্যামলবাবু নামের এক পুলিশ আধিকারিক। ওঁর চরম শাস্তি চাই। গোবিন্দ ঘোষের পরিবারের দাবি, “আমরা রক্তের বদলায় রক্ত চাই। আমাদের ঘরের ছেলেকে যারা মেরেছে আমরা তাদের ঘরের ছেলেরও মৃত্যু চাই।’’

শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ নবগ্রাম থানার শৌচাগার থেকে গোবিন্দর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের দাবি, মামলা থেকে বাঁচতে আত্মহত্যা করেছেন গোবিন্দ। কিন্তু থানায় বন্দির যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তে এলাকায় বাড়তে থাকে উত্তেজনা। যাদব মহাসভার কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক নবগ্রাম থানা ঘেরাও করে অভিযুক্ত আধিকারিকের বরখাস্তের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। যাদব মহাসভার পক্ষ থেকে সুনীল ঘোষ বলেন, ‘‘যে দিন এই অভিযোগ করা হচ্ছে, সে দিনও সেনাছাউনিতে কাজে গিয়েছিল গোবিন্দ। তার প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও ওকে পুলিশ ছাড়েনি, জোর করে থানায় তুলে নিয়ে যায়। সেনা আধিকারিকেরাও থানায় ফোন করেছিল। অভিযুক্ত পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের চূড়ান্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’’

শনিবার দুপুরে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য গোবিন্দর দেহ পাঠানো হয়েছে বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিংহ বলেন, ‘‘দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে।’’ পরে তিনি আরও বলেন, ‘‘ তদন্তের স্বার্থে নবগ্রাম থানার ওসি অমিত ভকতকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। বাকি তদন্ত চলবে।”
এদিকে প্রাক্তন পুলিশ করতে পঙ্কজ দত্ত এই ঘটনায় জানিয়েছেন, “লকআপ ডেথ-এর ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ভিডিওগ্রাফি করে ময়না তদন্ত করার নিয়ম। তাই এক্ষেত্রেও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ভিডিওগ্রাফি করে ময়না তদন্ত করা উচিত।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!