- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ১৮, ২০২৩
২০২৪ -এর লড়াই ঘোষণা করল বিজেপি বিরোধী ২৬ জোট, দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান, ভারতের কন্ঠস্বরকে রক্ষার জন্য মোদির বিরুদ্ধে জারি এই লড়াই
দলের মত আলাদা হতেই পারে, তবে সেই দলগত স্বার্থ ত্যাগ করে দেশ রক্ষার, দেশকে নরেন্দ্র মোদির ধারনার ভারতে রূপান্তর থেকে রক্ষা করার জন্য ২৬ দলের বিজেপি বিরোধী দলের জোট INDIA বেঙ্তালুরুতে বৈঠক করে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ে সম্মত হল।
দেশে এনডিএ বিরোধী জোটের নাম হল আইএনডিআইএ- বা INDIAN NATIONAL DEVELOPMENTAL INCLUSIVE ALLIANCE বাংলায় তর্জমা করলে যা হয়, ভারতীয় জাতীয় উন্নয়নমূলক সমঝোতা জোট। মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে ২৬টি বিজেপি বিরোধী দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এই নামটি গৃহীত হয়েছে। রাহুল গান্ধি যাকে “মোদি বনাম ভারত” বলে অভিহিত করেছেন ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য।
রাহুল গান্ধি মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুর বৈঠক শেষে বলেন, “আমরা সংবিধান, ভারতীয়দের কণ্ঠস্বর এবং ভারতের ধারণাকে রক্ষা করছি। আপনি নিশ্চই জানেন যে কেউ যদি ভারতের ধারণার বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায় তার কী হয়… লড়াইটি এনডিএ বনাম ভারত, নরেন্দ্র মোদি বনাম ভারত, এই লড়াইয়ের আদর্শ নিহিত ভারতের ধারণার মধ্যেই নিহিত। ভারত সব সময় সব লড়াইয়ে জয়ী হয়।”
কেন জোটের নাম INDIA? রাহুল গান্ধি বলেন, “লড়াই ভারতের দুটি ভিন্ন ধারণা নিয়ে, একটি লড়াই দেশের কণ্ঠকে চেপে রাখার বিরুদ্ধে, অন্য লড়াই হল দেশের কণ্ঠস্বরের জন্য। তাই এই INDIA নামটি বেছে নেওয়া হয়েছে।”
বিজেপি বিরোধী মেগা জোটের দ্বিতীয় সভার দিন অনেক আলোচনার পর এই নামটি আসে। বাম দলগুলি চেয়েছিল ‘জোট’ শব্দটিকে ‘ফ্রন্ট’-এ পরিবর্তন করা হোক যদিও কিছু দলের ‘এনডিএ’ নামে খুব বেশি আগ্রহী ছিল না বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে।
শিবসেনা ইউবিটি প্রধান উদ্ধব ঠাকরে চাইছিলেন এমন একটি নাম ঠিক করা হোক যাতে বিরোধিতার কোনও উল্লেখ থাকবে না। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির জিতেন্দ্র আহওয়াদ এই বিষয়ে টুইটে লেখেন, “রাহুল গান্ধিই শেষ পর্যন্ত জোটের নামের এই সংক্ষিপ্ত রূপটি দিলেন।” জিতেন্দ্র আহওয়াদ তাঁর টুইটে আরও লিখেছেন, “তার সৃজনশীলতা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।”
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এনডিএ তুমি কি ভারতকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে? বিজেপি কি ভারতকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে?” এছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দেশের সম্পদ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, রাজ্য সব কেনাবেচার কাজ চালাচ্ছে মোদি সরকার। কথায় কথায় ওরা ৩৫৫, ৩৫৬ বলে। আজ ওদের বিরুদ্ধে ৪২০ ধারা লাগিয়ে দিলাম।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আজকের বৈঠকটি খুব ভাল, গঠনমূলক, ফলপ্রসূ হয়েছে। মুম্বাইয়ের পরবর্তী বৈঠকটি একটি কমন ন্যূনতম প্রোগ্রামের উপরও ফোকাস করবে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন রাহুল গান্ধিকে ” আওয়ার ফেভারিট রাহুল গান্ধি”, বলে সম্বোধন করেন।
মঙ্গলবারের বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে সম্বোধন করে কংগ্রেসের প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “বিজেপি গণতন্ত্র, সংবিধানকে ধ্বংস করতে চায়, সিবিআই, ইডিকে বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। এটি একটি গুরুতর পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বাঁচাতে আমরা একত্রিত হই। কীভাবে দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচানো যায়- এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
কে এই জোটের নেতৃত্ব দেবে এমন প্রশ্নের জবাবে মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “দিল্লিতে জোটের সেক্রেটারুয়েট তৈরি হবে। আমরা ১১ জনের একটি সমন্বয় কমিটি করছি। মুম্বাইতে আগামী বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নেব যে ১১ জনের মধ্যে কে হবেন আহ্বায়ক। এগুলো ছোটখাটো বিষয়।”
বেঙ্গালুরুতে আজকের যখন সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলন হচ্ছে তখন দিল্লিতে এনডিএ-র সভায় বিজেপি শক্তি প্রদর্শন করছে। বলছে ৩৮ টি দলকে একত্রিত করেছে।
দিল্লির এই এনডিএ-র বৈঠকের কথা উল্লেখ করে, মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, বিজেপি ভয় পাচ্ছে। খাড়গে বলেন, “আগে, বিজেপি শরিক দলকে কখনই পাত্তা দেয়নি। তারা কখনো কথা বলেনি… এনডিএ টুকরো টুকরো ছিল, .. এখন প্রধানমন্ত্রী তাদের একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। এটাই প্রমাণ করে মোদি বিরোধীদের ভয় পান।” খাড়গে বলেন, এনডিএ বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলি কারা জানি না। যদি তারা নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল কি? আমি তো ভারতে এত দল আছে বলে শুনিনি।” এছাড়াও খাড়গে বলেন, “আমার ৫২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ইডি, সিবিআই-র মতো স্বশাসিত সংস্থাকে এভাবে সরকারকে কাজে লাগাতে দেখিনি।”
❤ Support Us





