- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ৫, ২০২৩
সুশৃঙ্খল নির্বাচনের আয়োজনে পর্যাপ্ত বাহিনী পাচ্ছে কমিশন, তাই ভোটের দফা বৃদ্ধি নিস্প্রয়োজন, জানিয়ে দিল হাইকোর্ট
পঞ্চায়েত নির্বাচনের দফা বাড়ানোর জন্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর আবেদন সোমবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এর ফলে এক দফাতেই রাজ্যে ৮ জুলাই পঞ্চায়েত নির্বাচন হচ্ছে। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দেয়, শনিবার এক দফাতেই রাজ্য জুড়ে পঞ্চায়েত ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দফা বৃদ্ধি করা যাবে না। রাজ্য নির্বাচন কমিশন কলকাতা হাই কোর্টে জানিয়েছে তাদের দাবি মতো ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যখন চাহিদা মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে বলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, তখন ভোটার দফা বাড়ছে না।
বুধবার পঞ্চায়েত ভোটের দফা বৃদ্ধি নিয়ে আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, সুশৃঙ্খল ভাবে ভোটের আয়োজন করানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে ভোটের দফা বৃদ্ধি করার কোনও প্রয়োজন নেই। তাই অধীর রঞ্জন চৌধুরীর আবেদনটিরও আপাতত গুরুত্ব থাকছে না।
গত সোমবার পঞ্চায়েত ভোটের দফা বৃদ্ধি করার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন বহরমপুরের সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। হাইকোর্টে তাঁর আইনজীবী বেশ কয়েকটি কারণ তুলে ধরে জানিয়েছিলেন, কেন একাধিক দফায় ভোট করা জরুরি।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর আগে একই দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। নওশাদের যুক্তি ছিল, হয় পঞ্চায়েত ভোটে আদালতের নির্দেশ মতো পর্যাপ্ত বাহিনী আনা হোক অথবা পঞ্চায়েত ভোটের দফা বৃদ্ধি করা হোক। রাজ্যে গত দশ বছরে জেলার সংখ্যা, ভোটার এবং বুথের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি কয়েক দফায় ভোট করানোর আবেদন কলকাতা হাইকোর্টে জানিয়েছিলেন।এই প্রায় একই দাবিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরী আদালতে একাধিক দফায় পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন।
এই মামলার শুনানিতে সওয়াল করার সময় সোমবার অধীর রঞ্জন চৌধুরীর আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় হাই কোর্টে বলেছিলেন, ‘‘পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতি দিনই অশান্তির ঘটনা ঘটছে। গুলি চলছে। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই। ফলে তৃণমূল স্তরে বাহিনী পৌঁছতে পারছে না। তাই যদি এই বাহিনী দিয়েই ভোট করাতে হয়, তবে একাধিক দফাতে ভোটগ্রহণ হোক।’’
প্রসঙ্গত রাজ্য নির্বাচন কমিশন ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনী চেয়ে কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানোর পর কেন্দ্র সেই আবেদনে সম্মতি দিলেও এখনও নিশ্চিত করেনি কবে সেই কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে এসে পৌঁছবে। এদিকে ৮ জুন রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন আদালতে বলছে ৮২২ কোম্পানি বাহিনী তারা পাচ্ছে, তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার জানাতে পারছেন না পুরো ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে পুরোপুরি কবে নাগাদ এসে পৌচচ্ছে। এদিকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আর ঠিক হাতে গোনা ২ দিন বাকি।
❤ Support Us






