- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১২, ২০২৩
প্রথম নির্বাচনেই বড়ো সাফল্য কুর্মিদের। তবে জেলার রাশ সেই তৃণমূলেরই হাতে
প্রথমবার পঞ্চায়েত ভোটে লড়াই করে উল্লেখযোগ্য ফল করে নজির গড়ল কুড়মিরা। ভোটে লড়ার কোনও অভিজ্ঞতাই সেই অর্থে তাদের নেই। নেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতো সংগঠন। উল্টে তাদের উপর শাসকদলের হুমকি, হুঁশিয়ারির অভিযোগ রয়েছে। এবার সব হুমকি, হুশিঁয়ারিকে উপেক্ষা করে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জঙ্গলমহলে লড়াই করে উল্লেখযোগ্য ফল করেছে কুড়মিরা। ঝাড়গ্রাম জেলার অন্তত দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তারা। এ ছাড়া একাধিক আসনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে জয়লাভ করেছে । তবে এর পরেও বেশি সংখ্যক গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির আসন জেতার সুবাদে উন্নয়নের চাবিকাঠি ও জেলার কর্তৃত্ব তাই থাকেছে তৃণমূলের হাতেই। এবারও কি হুমকি , হুঁশিয়ারি একই ভাবে চলবে, না কিছুটা হ্রাস পাবে? সেটা সময় বলবে।
আদিবাসী নেতৃত্ব প্রথমবার নির্বাচনে নেমেই এই সাফল্যকে অনেক বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন। তবে পাশপাশি তারা স্বীকার করে নিচ্ছেন যে তারা ভোট করতে অভিজ্ঞ নয়। তার ওপর ছিল প্রশাসনিক ও শাসকদলের চাপ। না হলে আরও ভালো ফল হতে পারত।
আদিবাসী সংগঠনের নেতারা নিজেদের জয়ের ফলে যেমন উচ্ছাস প্রকাশ করছেন তেমন স্বীকার করে নিয়েছেন, তৃণমূল সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প তৃণমূলের জয়ের পক্ষে কাজ করেছে। কুড়মি সমাজ ,পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির সম্পাদক ধর্মেন্দ্র মাহাতোও স্বীকার করে নিয়েছেন, তৃণমূলের সামাজিক প্রকল্পের প্রচারকে টপকে যেতে তারা পারেননি। জাতিসত্তার আন্দোলন থাকলেও জঙ্গলমহলের বেশির ভাগ মানুষ ভরসা করেছেন কন্যাশ্রী, রূপশ্রী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপর।
ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব বলছে,, ”জঙ্গলমহলের প্রত্যেক পরিবার সামাজিক প্রকল্পের কোনও না কোনও সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাই নানা প্রতিরোধ স্বত্বেও সাধারণ মানুষ তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছে।”
এবার পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়াতে বেশ কিছু আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। গোয়ালতড়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে দু’টি আসনে জিতেছেন তাঁরা। এ ছাড়া মেদিনীপুর সদর ও খড়্গপুর ১ ব্লকে কয়েকটি আসনে জিতেছেন কুড়মি সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা।
পুরুলিয়ায় সব মিলিয়ে ৭০টি আসন পেয়েছেন কুড়মিড়া। বাঁকুড়াতে ৩৩ টি আসনে কুড়মিড়া জিতেছেন । এছাড়া পুরুলিয়ার আগয়া-নড়রা পঞ্চায়েতের ১৪টি আসনের মধ্যে কুড়মিরা পেয়েছেন ৬টি, তৃণমূল ৬টি এবং ২টি আসনে বিজেপি জিতেছে।
মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে তাই এবার আর জঙ্গলমহলে সবুজ আবিরের উড়ান আকাশে দেখা যায়নি। পরিবর্তে তৃণমূল উড়িয়েছে সবুজ আবির কুড়মিড়া উড়িয়েছে হলুদ আবির।আর কুড়মিড়া এবার আলাদা করে ভোট দাঁড়ানোয় বিজেপির আদিবাসী ভোটটা একেবারে ভোকাট্টা হয়ে গেছে।
❤ Support Us






