- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২, ২০২৫
পিনরাই-এর কেরালার ভিঝিনজাম আদানি বন্দরের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী মোদি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ কেরালার তিরুবনন্তপুরম জেলার ভিজিনজামে ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট সমুদ্রবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন। ৮,৮৬৭ কোটি ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক বন্দরটি দেশের বাণিজ্যিক পরিকাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এক মঞ্চে মোদী, আদানি, পিনরাই বিজয়ন আর মোদিকে স্বাগত জানাতে এয়ারপোর্টে শশী থারুরের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
কেরলে বিরল এক দৃশ্যের সাক্ষী রইল গোটা দেশ—একই মঞ্চ ভাগ করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইন্ডিয়া জোটের চর্চিত শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং কেরালার বামপন্থী মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। ভিঝিনজাম গভীর সমুদ্র বন্দরের উদ্বোধন উপলক্ষে এই রাজনৈতিক বৈপরীত্যের মেলবন্ধন নজর কাড়ল সকলের। মোদিকে স্বাগত জানাতে এয়ারপোর্টে শশী থারুরের উপস্থিতি ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ কেরালার তিরুবনন্তপুরম জেলার ভিঝিনজামে ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট সমুদ্রবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন। ৮,৮৬৭ কোটি ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক বন্দরটি দেশের বাণিজ্যিক পরিকাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকার, কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর ও আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। মোদি হেলিকপ্টারে তিরুবনন্তপুরম শহর থেকে বন্দর এলাকায় পৌঁছে বন্দর চত্বরে ঘুরে দেখেন, পরে পরিকাঠামো ঘুরে দেখার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দরের প্রথম ধাপ চালু করেন। ভিঝিনজাম বন্দরের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী কারো নাম না বলে, ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আজকের এই প্রকল্প দেখে অনেকের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে।’ প্রসঙ্গত মঞ্চে থাকা কেরেলার মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নও ইন্ডিয়া জোটের অংশ, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের বন্দর মন্ত্রী ভি.এন. বাসবন আদানি গ্রুপকে ‘কমিউনিস্ট সরকারের অংশীদার’ বলায় মোদি মন্তব্য করেন, ‘দেশ বদলাচ্ছে। এমন মন্তব্য সেই পরিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করে।’
নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘ভিঝিনজাম বন্দর শুধু কেরালার নয়, সারা ভারতের জন্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিশা দেখাবে। এতদিন ৭৫ শতাংশ ট্রান্সশিপমেন্ট বিদেশি বন্দরের মাধ্যমে হতো, যার ফলে আমাদের অর্থ দেশ ছেড়ে যেত। এখন সেই অর্থ দেশেই বিনিয়োগ হবে। কেরেলার জনগণেরও আর্থিক উন্নতি ঘটবে’ তিনি আরো জানান, বন্দরটি সম্পূর্ণ চালু হলে এর ট্রান্সশিপমেন্ট ক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে এবং বড় কার্গো জাহাজ রাখার সুযোগ তৈরি হবে, যা ভারতের বাণিজ্যিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, ‘দেশের বন্দরগুলির সাম্প্রতিক দশকে ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়েছে, দক্ষতা বেড়েছে, এবং পণ্য খালাসের সময় ৩০ শতাংশ কমেছে।’ এরপর মজার ছলে প্রধানমন্ত্রী আদানিতে খোঁচা দেন, ‘গুজরাটবাসী হতাশ হতে পারেন যে গৌতম আদানি এত বড়ো বন্দর কেরালায় তৈরি করেছেন, যেখানে তিনি নিজে গুজরাটের সন্তান।’
বন্দরের ইতিহাসের কথা স্মরণ করে মোদি বলেন, ‘দাসত্বের যুগের আগেও ভারত বন্দর ব্যবসা ও সমুদ্রপথে বাণিজ্যে বিশ্বে অগ্রণী ছিল। বিশেষ করে কেরালা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এক সময় ভারত বৈশ্বিক জিডিপি-র বিশাল অংশীদার ছিল। আমাদের সামুদ্রিক শক্তি এবং বন্দর কেন্দ্রিক অর্থনীতি সেই ঐতিহাসিক সমৃদ্ধির মূল ছিল। কেরালা তার কেন্দ্রে ছিল।’ ভিঝিনজাম বন্দরটি আন্তর্জাতিক শিপিং রুটের মাত্র ১০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত। যআদানি পোর্টস ও স্পেশাল ইকনমিক জোন লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত এই বন্দর ভারতের প্রথম গভীর সমুদ্র কন্টেনার ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হয়ে উঠতে চলেছে। এখানে সমুদ্রের প্রাকৃতিক গভীরতা প্রায় ২০ মিটার হওয়ায় বড় কার্গো জাহাজ সহজেই নোঙর ফেলতে পারবে। এই বন্দর চালু হলে ভারতের আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ক্ষেত্রে নির্ভরতা অনেকটাই কমবে কলম্বো, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের মতো বিদেশি বন্দরের উপর। এছাড়াও মোদি জানান, বন্দরের পরিকাঠামো, রেল যোগাযোগ, জাতীয় সড়ক সংযোগ এবং আউটার রিং রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনায় রয়েছে, যা কেরালার নতুন শিল্পসংস্কৃতি গড়ে তুলবে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
অন্যদিকে, এই বন্দরের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও দেখা গেছে। কংগ্রেসের সাংসদ জয়রাম রমেশ বলেন, ‘২০১১ সালে আমি পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়ার সময় ভিঝিনজাম বন্দরের সূচনা হয়েছিল। সেই স্মৃতি আজ ফিরে এলো।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিঝিনজাম বন্দর শুধু দক্ষিণ ভারতের জন্য নয়, সারা দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের চিত্র পাল্টে দেবে। মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে আদানি গ্রুপের যোগ দেওয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেরালার অভিস্যৎ নিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির আশা ব্যক্ত করেছেন। প্রসঙ্গত, পরীক্ষামূলক চলাচলের পর, বন্দরটি গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বাণিজ্যিক কমিশনিং সার্টিফিকেট পায়।
পাশাপাশি, শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্ধ্রপ্রদেশের অমরাবতীতে ৫৮,০০০ কোটির একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর তিনিই প্রথম অমরাবতী নগরীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
❤ Support Us






