- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৫, ২০২৫
অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম জম্মু-কাশ্মীর সফরে প্রধানমন্ত্রী, অত্যাধুনিক চেনাব ব্রিজ সহ একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ৬ জুন
আগামীকাল জম্মু ও কাশ্মীরের ঐতিহাসিক চেনাব ব্রিজ রুট উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চেনাব বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলওয়ে ব্রিজ। এই নতুন রুটের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ভারতীয় রেলওয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এই রুটেই চলবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, যা কাটরা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ৬ জুন এই অত্যাধুনিক ট্রেন পরিষেবার উদ্বোধন করবেন। এটি কাটরা-সংগলদান রেল লিঙ্ক প্রকল্পের সমাপ্তি আর জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের জাতীয় রেলওয়ে গ্রিডের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজ্যের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
এই প্রকল্পের ফলে শুধুমাত্র আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে না, বরং স্থানীয়দের মধ্যে এক নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। বহু বছর ধরে কাটরা থেকে শ্রীনগরের মধ্যে রেল পরিষেবা চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ নাগরিকরা। উদ্বোধনে খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত আনন্দিত, তাদের মতে, এই ট্রেন পরিষেবা জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে, পর্যটনকেও বাড়াবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ চান্দেল বলেন, ‘যদি ট্রেন পরিষেবা এখানে শুরু হয়, তবে তা খুব সুবিধাজনক হবে। আমরা সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা, কেশর সিং, ওই অঞ্চলের অতীত স্মরণ করে বলেন, ‘আমি খুব খুশি যে ট্রেন পরিষেবা এখানে শুরু হচ্ছে। আগে এখানে সন্ত্রাসের পরিবেশ ছিল। কিন্তু এখন সবকিছু ভাল। কেউ ভাবেনি যে এখানে ট্রেন আসবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের সেই স্বপ্ন বাস্তব করে তুলেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘অপারেশন সিদুর’-এর জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। চৌধুরী গুলাম হুসেন কাশ্মীরে আরো উন্নয়ন আর কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গুলমার্গ, শ্রীনগর ও পহালগামে আরো উন্নয়ন প্রকল্প প্রয়োজন। স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাটরা থেকে ট্রেন আসার অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা চাই আমাদের এলাকারত মানুষও সমস্ত সুবিধা পাক।’ পর্যটন মানচিত্রে ওই এলাকাকে অন্তভূর্ক্ত করবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এই উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী মোদির অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। কুলদীপ কুমার শর্মা নামে এক এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি যে ট্রেন পরিষেবা এখানে আসবে, তবে মোদীজির নেতৃত্বে এটা বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। এই পরিষেবা আমাদের দেশটির অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করবে, যা আমাদের জন্য অনেক বড় বিষয়।’ এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরের আগে উদমপুর রেলওয়ে স্টেশন, অন্যান্য কর্মসূচীর জায়গা তথা গোতা কাশ্মীরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। চেনাম ব্রিজ ছাড়াও, উদমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেল লিঙ্ক প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন তিনি। পাহাড় কেটে, সুড়ঙ্গ খুঁড়ে, নদীজলে ব্রিজ বসিয়ে তৈরি এই ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের নির্মাণে ব্প্রায় ৪৩,৭৮০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রকল্পের পরিকাঠামোর ভিতর রয়েছে ৩৬টি সুড়ঙ্গ, মোট দৈর্ঘ্য ১১৯ কিমি এবং ৯৪৩টি ব্রিজ, সব মিলিয়ে যা এই রুটকে করেছে ভারতের রেল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অন্যতম প্রকৌশল কীর্তি। রেল পরিকাঠামোর পাশাপাশি রাস্তা নির্মাণেও জোর দিয়েছেন মোদী। এদিন তিনি ২টি গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন— রাফিয়াবাদ থেকে কুপওয়ারা পর্যন্ত এনএইচ-৭০১ সম্প্রসারণ আর এনএইচ-৪৪৪-এ শোপিয়ান বাইপাস নির্মাণ, যাতে খরচ ১,৯৫২ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এছাড়া শ্রীনগরের সাঙ্গরামা জংশন ও বেমিনা জংশনে ২টি উড়ালপুলের উদ্বোধন হবে, যা শহরের যানজট অনেকটাই কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কাটরায় শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এক্সিলেন্স-এর ভিত্তিপ্রস্তরও প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে। ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্প রেইসি জেলায় প্রথম মেডিক্যাল কলেজ হিসেবে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
❤ Support Us






